রাখাইনে স্থিতিশীলতাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের মূল চাবিকাঠি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (২৪ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জেআরপি) ২০২৫-২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ড. খলিলুর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আট বছরেরও বেশি সময় ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং গত বছরেও আরাকান এবং মায়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের কারণে ৮০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। নতুন আগতদের জেআরপি ২০২৫-২৬-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি অব্যাহত রাখার এবং জেআরপি বাস্তবায়নের সময় পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ড. খলিলুর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই সংকট সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এ সময় তিনি রাখাইন রাজ্যে তীব্র খাদ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করেন এবং মানবিক সহায়তা দিতে জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘রাখাইনকে মানবিক সহায়তা রাজ্যকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে এবং এতে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে প্রত্যাবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জেআরপির প্রথম কৌশলগত লক্ষ্য বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি এ বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য সব সরকার এবং জাতিসংঘের সিস্টেম সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সম্মেলন আহ্বানের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
সর্বশেষ জেআরপি ১৫৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালে বাস্তবায়নের জন্য ১৪ দশমিক ৮ মার্কিন ডলারের একটি তহবিল প্রস্তাব করেছে।
এ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে মায়ানমারে প্রত্যাবাসন এই সংকটের টেকসই সমাধান আনবে।’
এ সময় বিশ্বব্যাপী মানবিক অগ্রাধিকার তালিকায় রোহিঙ্গা সমস্যা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ রোহিঙ্গা মানবিক প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার জন্য তহবিল ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি গত বছর তার বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তাদের জন্মস্থানে ফিরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএমের সহযোগিতায় এ বছরের জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত/স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিক, আইএনজিও প্রতিনিধি, মিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাপান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ইইউ, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত এবং নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, সৌদি আরব এবং ইরাকের প্রতিনিধিরা ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উদারতার প্রশংসা করেন।
অংশগ্রহণকারী কয়েকজন কূটনীতিক এই জেআরপিতে সহযোগিতার ঘোষণা দেন।
পপি/