বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) আশার কর্মী মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন হত্যার শিকার হন ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর। হত্যার পর তার লাশও গুম করা হয়। ওই ঘটনার আট বছর হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। সংশ্লিষ্ট মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বেলা দেড়টার দিকে সাবিনা ঢাকার আশুলিয়ার কবিরপুর দেওয়ানপাড়ায় কিস্তির টাকা আনতে যান। তখন মোসলেম, তার স্ত্রী রাজিয়া, আশরাফুল ইসলাম মানিক ও তার স্ত্রী নার্গিস কৌশলে সাবিনাকে বাসার ভেতরে টেনে নিয়ে যান এবং সবাই মিলে তাকে শ্বাসরোধে নির্মমভাবে হত্যা করেন। হত্যার পর তার লাশ গুম করেন তারা।
নির্মম ওই ঘটনার পর ১৬ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় মামলা করেন আশার বিকেএসপি শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল মজিদ। তদন্ত শেষে ওই মামলায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চার্জশিট দাখিল করা হয়।
পরের বছর ২০১৯ সালের ২৬ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৫ জন সাক্ষ্য দেন। আর আসামিপক্ষে ৬ জন সাফাই সাক্ষ্য দেন।
বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণা করেন নিম্ন আদালত। রায়ে বিচারিক আদালত সাবিনা ইয়াসমিনকে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাসরিন জাহান ওই রায় দেন।
ওই দিন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জে এম ফরিদুর রহমান বলেছিলেন, রায়ে তিনজন আসামির দণ্ড হয়েছে। তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট না। বাকি আসামিদেরও সাজা হওয়া উচিত ছিল।
গতকাল সোমবার আইনজীবী জে এম ফরিদুর রহমান বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন মোছা. রাজিয়া খাতুন ও মো. আশরাফুল ইসলাম মানিক। আর সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মো. মোসলেম মিয়া। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আটজনকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি রাজিয়া ও আশরাফুলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। তা ছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারার অপরাধের জন্য তাদের প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাদের।
রায়ে মোসলেমকে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (লাশ গুম করা) সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় প্রত্যেকেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
রায়ে যারা খালাস পেলেন তারা হলেন মোছা. নার্গিস, মো. বিজয় আহমেদ পাপ্পু, মো. জুয়েল রানা, মো. শাকিল, মো. মনির হোসেন, মো. আসলাম, মো. আকাশ ও মো. সুজন। তাদের মধ্যে মো. আকাশ মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন।’
আদালতসূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্টে বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে।
মামলাসূত্রে জানা যায়, আসামি আশরাফুল ইসলাম মানিক ও মোসলেম এনজিও সংস্থা আশা থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করতেন না। এ কারণে তাদের কাছে আশার কর্মী সাবিনা কিস্তি চাইতে গেলে তাকে হত্যা এবং তার কাছে থাকা সমিতির বিভিন্ন সদস্যের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যা করা হয় তাকে।