একাদশ পর্ব
চিনব না কেন? চিনি তো! কিন্তু সে কি বড় বিনিয়োগ করবে?
ভাই, আমরা তো ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। উদ্বোধনী সংখ্যায় অনেকেই লিখছেন ভাই। আপনার ইমেইলটা পাইনি বলে চিঠি পাঠাতে দেরি হয়েছে। তাছাড়া আমি নিজেও চেয়েছিলাম, আপনার সঙ্গে কথা বলতে। আমি আগে একবার আপনাকে ফোন করে বললাম, আমরা একসঙ্গে কিছু একটা করব!
হুম।
আমি চিঠি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি লেখা কবে দেবেন?
এখনই তো বললাম! দেখি...
দেখি না ভাই। খুব শিগগিরই লেখা দেন। আমি আপনার ইমেইলে চিঠি পাঠাচ্ছি।
আচ্ছা। কী বিষয়ে লেখা চান?
আপনার ইচ্ছা। আপনি তো সব বিষয়েই লিখতে পারেন। আমি কিন্তু আপনার কলাম নিয়মিত পড়তাম। সত্যিই খুব ভালো লেখেন আপনি।
অনেক ধন্যবাদ। আমি তাহলে করোনা নিয়ে লিখছি। করোনা নিয়ে মানুষের ভাবনা।
খুব ভালো। লিখে আমার ইমেইলে পাঠিয়ে দেন। আর আমার কথাটা মনে রাখবেন। অন্য কারও সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে আমি যেন একটু জানতে পারি।
ঠিক আছে। ভালো থাকবেন।
ফোন রেখে আসিফ আহমেদ স্থির হয়ে বসলেন। মুনমুন আহমেদ তার পাশে গিয়ে বসলেন। তারপর নিচু গলায় বললেন, কে ফোন করেছিল?
স্বদেশ রায়।
কী বলেন?
উনি নাকি একটা মিডিয়া গ্রুপ করছেন। বললেন, সেখানে আমাকেও রাখবেন।
তোমার সঙ্গে না আরেকটা গ্রুপের আলোচনা হচ্ছে!
হুম। সেটা আমি তাকে বলিনি।
ওদের সঙ্গে আলোচনা ফাইনাল পর্যায়ে না?
ফাইনাল পর্যায়ে হলেও নেগেটিভ হতে কতক্ষণ! এসব মাফিয়া গ্রুপ, বুঝতে পারছ! এদের হ্যাঁ হতেও সময় লাগে না; না হতেও সময় লাগে না।
ইকবাল সাহেব কেমন লোক? মুনমুন জানতে চাইলেন।
ফোরটুয়েন্টি।
মানে!
সুবিধার না!
তাহলে?
বাংলাদেশে এখন কালো টাকা কিংবা মাফিয়া গ্রুপ ছাড়া কেউ মিডিয়া করতে পারবে না!
বলো কি!
হুম। অনেক বড় বিনিয়োগ দরকার। সেটা ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে সম্ভব না।
তাহলে উপায়!
অপেক্ষা করতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। অপেক্ষাকৃত ভালো গ্রুপ পাওয়া গেলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তুমি যাদের সঙ্গে আলোচনা করছ তারা কেমন?
চোরাকারবারি।
বলো কি!
তাহলে আর কি বলছি তোমাকে!
দরকার নেই তোমার পত্রিকা করার!
কেন?
না। অনেক গোলামি করেছ। এখন তুমি লেখালেখি কর। তাতে যা আয় হবে তাতেই আমাদের চলবে। তাছাড়া আমি তো চাকরি করছি!
সেটা ঠিক আছে। দুই বাচ্চার লেখাপড়ার খরচ তো কম নয়। তোমার একার পক্ষে সব সামাল দেওয়া কঠিন না!
কঠিন। কিন্তু অসম্ভব না। আর মানুষ চলে না! কয়টা পরিবারে দুজন চাকরি করে? অন্যরা পারলে আমরা কেন পারব না? তাছাড়া তুমি তো বই থেকে কিছু রয়্যালটি পাও! পাও না?
হুম।
এই লেখালেখিটাই আরও বাড়িয়ে দিলে! তাতে আয় বাড়বে না?
তা বাড়বে। তার পরও লোকটা যেহেতু নিজের থেকে আমাকে ডেকেছে! তাই দেখি না!
আমার মন কিন্তু সায় দিচ্ছে না।
তাই?
হুম। লোকটাকেও সুবিধার মনে হচ্ছে না। শুরুতেই তোমাকে বলতাম। কিন্তু আলোচনা যেহেতু মাঝপথে তাই বলিনি।
তার পরও বলে ভালো করেছ। আমি সতর্ক থাকব। অনেক ধন্যবাদ মুনমুন।
শোন, যা কিছুই ঘটুক; আমি তোমার পাশে আছি।
মুনমুন আহমেদ কথা শেষ করে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে যান। আসিফ একই জায়গায় কিছুক্ষণ বসে থাকেন। বসে বসে লেখার বিষয় নিয়ে ভাবেন।
সকালবেলা গোসল সেরেই লিখতে বসেন আসিফ আহমেদ। করোনা নিয়ে মানুষের যে ভাবনাগুলো তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সেগুলোই সাজাতে শুরু করলেন তিনি। বিগত কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
দেশের অনেক মানুষই বিশ্বাস করে, করোনাভাইরাস আসলে তেমন কোনো ক্ষতিকর ভাইরাস না। এটা বিশ্বের সরকারগুলোর টিকে থাকার একটা কৌশল। করোনা নামক ভয়ানক ছোঁয়াচে রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষকে ভয়ের মধ্যে রেখে তারা নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করেছে। যাতে কেউ সরকারবিরোধী আন্দোলনের নাম মুখেও আনতে না পারে! সবাই করোনার ভয়ে অস্থির। অতিমারির এই আতঙ্ক দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ মনে করে, বিশ্বের বাণিজ্যব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য চীন ভাইরাস তৈরি করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষকে ঘরে বসিয়ে দিয়ে চীন বাণিজ্যের কামড় বসিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি দেশের ওপর চীনের বিস্তর প্রভাব তৈরি করেছে।
দেশের কুলি, মজুর, রিকশাওয়ালা, ঠেলাগাড়িওয়ালা, গ্রামের কৃষক এবং খেটে খাওয়া মানুষ মনে করে, করোনা বড়লোকের রোগ! বড়লোক, যারা এসির মধ্যেই সারা দিন কাটায় তারাই এই রোগে আক্রান্ত হয়। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে করোনা আসে না। পরপর কয়েকজন শিল্পপতি ও বুদ্ধিজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের এই ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়েছে। সেই সঙ্গে শঙ্কাও বেড়েছে। শিল্পপতি লতিফুর রহমান (করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কোনো তথ্য নেই), নূরুল ইসলাম বাবুল, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান প্রমুখের মৃত্যুর পর অনেকেই বলছেন, তারা তো সবার সঙ্গে মেশেন না! তাদের কাছে করোনা গেল কী করে! তার মানে করোনা ছোঁয়াচেও না। যারে ইচ্ছা তারে ধরছে করোনা।
মোল্লা-মৌলভিরা বলছেন, করোনা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত আসমানি বালা। এই বালায় বেনামাজি, অন্যায়-অপকর্মকারী, পাপীরাই আক্রান্ত হচ্ছে। নামাজি লোকের ধারেকাছেও আসে না করোনা। কখনো আসবেও না। এ পর্যন্ত দেশে যারা আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে কতজন নামাজি লোক; বিশেষ করে মৌলভি-মাওলানা আক্রান্ত হয়েছেন? কতজন? তার কি কোনো হিসাব আছে? থাকলে দেখান! আমাদের জানামতে, একজনও না! নামাজি, সৎ, ভালোলোকদের কাছেও আসেনি। যাদের পাপের বোঝা ভারী হয়েছে তাদের কাছেই আল্লাহ ওই প্রাণসংহারী ভাইরাস পাঠাচ্ছেন। যাতে তারা বুঝতে পারে, তারা পাপী, তারা অন্যায়কারী, তারা জুলুমকারী!
চলবে...
চলবে...
আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন-
পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, পর্ব-৫, পর্ব-৬, পর্ব-৭, পর্ব-৮, পর্ব-৯, পর্ব-১০