সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আসছে জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতোমধ্যেই তার প্রশাসনিক কাঠামোকে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। চূড়ান্ত করেছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবারই (১৪ নভেম্বর) নিশ্চিত হওয়া গেছে, সিনেটের পর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেরও নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন রিপাবলিকানরা।
তাই মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্প তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কংগ্রেসের যথেষ্ট সমর্থন পাবেন। এ পর্যন্ত ডজনের বেশি কর্মকর্তার নাম ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই নিয়োগগুলো থেকে ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন কেমন হতে পারে তার একটা ইঙ্গিত মিলছে।
এই নিয়োগগুলো বিশ্লেষণ করে ট্রাম্পের আসন্ন মেয়াদের স্বরূপ সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুটা ছিল বিশৃঙ্খল। তাই ট্রাম্প এবার আরও স্পষ্ট সংজ্ঞায়িত পরিকল্পনাসহ তার পরবর্তী প্রশাসনের ভিত্তি স্থাপন করছেন।
অভিবাসন দপ্তরে কঠোর টিম
ট্রাম্পের সদ্য ঘোষিত কিছু নিয়োগ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নির্বাসনে পাঠানোর ব্যাপারে তিনি নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কোনো প্রলাপ ছিল না।
২০১৫ সাল থেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং বক্তৃতা লেখক স্টিফেন মিলার হোয়াইট হাউসের নীতিবিষয়ক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হচ্ছেন। তিনি সম্ভবত গণ নির্বাসনের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করবেন এবং অনথিভুক্ত ও আইনি অভিবাসন উভয়ই সীমিত করার পদক্ষেপ নেবেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মিলার প্রশাসনের কঠোরতম কিছু অভিবাসন নীতি তৈরিতেও জড়িত ছিলেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টমাস হোম্যান যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আটক অনথিভুক্ত অভিবাসী পরিবারের সদস্যদেরকে পরস্পর থেকে আলাদা করার নীতিকে সমর্থন করেছিলেন। এবার তিনি ট্রাম্পের প্রশাসনে ‘অভিবাসন জার’ হিসেবে আরও বিস্তৃত কর্তৃত্ব নিয়ে ফিরে আসছেন। জুলাই মাসে রক্ষণশীলদের এক সম্মেলনে হোমান বলেছিলেন, ‘এই দেশে এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে বড় নির্বাসন বাহিনী আমি চালাব।’
চীনবিরোধীরা বড় পদে
অনেক রক্ষণশীল বিশ্বাস করেন, চীন অর্থনৈতিক এবং সামরিক উভয় দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি। যদিও সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং চীনের বিরুদ্ধে তার সমালোচনাকে শুধু বাণিজ্য বিষয়ে সীমিত রেখেছেন। তথাপি, তিনি তার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক টিমে চীনের কড়া সমালোচকদের নিয়োগ দিয়েছেন।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেল ও ফ্লোরিডা কংগ্রেসম্যান মাইক ওয়াল্টজকে ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ওয়াল্টজ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে একটি ‘স্নায়ুযুদ্ধে’ রয়েছে। ২০২২ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক বয়কট করার আহ্বান জানানো কংগ্রেসের প্রথম দিককার সদস্যদেরও একজন তিনি।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে ট্রাম্পের বাছাই করা কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিক গত অক্টোবরে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ‘নির্লজ্জ ও দূষিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, চীন সমর্থিত হ্যাকাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছিল।
ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনিও কড়া চীন সমালোচক। ২০২০ সালে রুবিও হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউনের জন্য দেশটির সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে চীন সরকারও তার ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেয়।
বাণিজ্যবিরোধ এবং কোভিড মহামারির মধ্যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে বাইডেন কূটনীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করেছিলেন। নতুন ট্রাম্প প্রশাসন ফের চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে পারে।
কংগ্রেসের ওপর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া
রিপাবলিকানরা এবার কংগ্রেসের উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি আইনসভার সঙ্গে কাজ করার চেয়ে বরং তার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বেশি প্রয়োগ করতে চান।
গত সপ্তাহে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দেন, সিনেটের অনুমোদন ছাড়াই কিছু পদে নিয়োগ দেবেন এবং সিনেটরদেরও তা মেনে নিতে হবে। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন পদে সরাসরি প্রেসিডেন্টের আদেশবলেও নিয়োগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটাকে ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের প্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক নিয়োগে ‘পরামর্শ এবং সম্মতি’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকাকে কমিয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। সূত্র: বিবিসি