রাশিয়া ইউক্রনের মাধ্যমে সোভিয়েত যুগের পাইপলাইন দিয়ে ইউরোপে গ্যাস রপ্তানি করে আসছিল। নতুন বছরের প্রথম দিনে কিয়েভ তা বন্ধ করে দিয়েছে। যা ইউরোপের জ্বালানি বাজারে মস্কোর আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে।
বুধবার (১ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
ইউক্রেন জানায়, ইউরোপ ইতোমধ্যেই রাশিয়ার গ্যাস ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী হর্মান গালুশচেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছি। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। রাশিয়া তার বাজার হারাচ্ছে, তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’
এদিকে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ চলছিল।
রাশিয়ার গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম জানায়, সকাল ৮টার পর (স্থানীয় সময়) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ ইউক্রেন ট্রানজিট চুক্তি নবায়ন করতে অস্বীকার করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে লেখেন, ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের সমাপ্তি ‘মস্কোর সবচেয়ে বড় পরাজয়’।
এ ছাড়াও তিনি ইউরোপে আরও গ্যাস সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি সরবরাহ করবে, তত বেশি ইউরোপীয় শক্তির ওপর থেকে নেতিবাচক প্রভাব কমতে থাকবে।’
অপ্রত্যাশিতভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপে এর নেতিবাচক প্রভাব কিংবা গ্যাসের দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।
এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ কমে দিলে সে সময় গ্যাসের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিল এবং জীবনযাত্রার মানে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
ইউরোপীয় কমিশন জানায়, ইইউ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়া আগেই প্রস্তুতি নিয়েছে।
কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে যে গ্যাস অবকাঠামো রয়েছে, সে কারণে রাশিয়ার বাইরের উৎস থেকেও ইউরোপ গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম। এ ছাড়া ২০২২ সাল থেকে নতুন এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) আমদানির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে ইউরোপের কিছু দেশ, যেমন- স্লোভাকিয়া ও অস্ট্রিয়া তারা বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা করেছে এবং হাঙ্গেরি কৃষ্ণ সাগরের তল দিয়ে তুরস্কের পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে গ্যাস গ্রহণ চালিয়ে যাবে। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/