যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছে পেন্টাগনের চেয়েও ১০ গুণ বড় সামরিক কমান্ড সেন্টার নির্মাণ করছে চীন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৫০০ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে এ সামরিক স্থাপনা। দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে প্রায় চার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এটি আকারে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা ও অফিস ভবন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত পেন্টাগনের চেয়ে ১০ গুণ বড় হবে।
ধারণা করা হচ্ছে চীনের এ স্থাপনার নিচে বাঙ্কারসহ অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। পরমাণু যুদ্ধসহ অন্যান্য অতি জরুরি মুহুর্তে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সামরিক বাহিনীর সিনিয়র কমান্ডাররা আশ্রয় নিতে পারবেন।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের পাওয়া স্যাটেলাইট ইমেজে বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, এই স্থাপনার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০২৪ এর মাঝামাঝি এবং ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা হতে পারে। এ স্থাপনার সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘বেইজিং মিলিটারি সিটি’।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন সামরিক স্থাপনা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে আক্রমণের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এছাড়া, চীন তার সামরিক বাহিনীকে আরও সুসংহত করতে এবং পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্যাটেলাইট ইমেজে ধারণ করা চীনের নির্মাণাধীন সামরিক স্থাপনা
চীন গত কয়েক বছর ধরে তাইওয়ানকে সতর্ক করে আসছে। তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া চালিয়েছে কয়েকবার। তারপরও তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে। চীনের প্রভাব ও হুমকি মোকাবেলায় তাইওয়ানকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ান থেকে মাইক্রোচিপ সরবরাহ পেয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাবেক কর্মকর্তা ডেনিস উইল্ডার জানান, এটি চীনের পারমাণবিক যুদ্ধ সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে নির্মাণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এ স্থাপনা চীনের সামরিক বাহিনী পিপল লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) কে এমন আত্মবিশ্বাস দিবে যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা বাঙ্কার বাস্টার বোমা ও পরমাণও অস্ত্র থেকেও এ স্থাপনা নিরাপদ থাকবে।
তবে চীনের পক্ষ থেকে এ স্থাপনার কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওয়েবসাইটেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা যায়, স্থাপনার এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। নির্মাণাধীন স্থাপনার ওপর ড্রোন উড়ানো ও ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সূত্র: দ্যা টেলিগ্রাফ
মাহফুজ/এমএ/