যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার যুদ্ধবিরতিতে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু তিনি এখন গাজার দখল নেওয়া প্রসঙ্গে যা বলছেন, সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ট্রাম্প গত রবিবার আবারও জানিয়েছেন, গাজা কিনে নেওয়া এবং ওই ভূমির মালিকানা পাওয়ার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরই মধ্যে হামাস বিষয়টির নিন্দা জানিয়েছে। তারা যে এতে রাজি নয়, সেটিও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা কিনে নিতে চাওয়া এবং সেখানকার বাসিন্দাদের আশপাশের আরব দেশগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়তে পারে। আবারও সেখানে রক্তপাত শুরু হতে পারে।
আপত্তি জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতৃস্থানীয়রাও। তারা বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। হামাস ট্রাম্পের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে গাজা উপত্যকাকে ফিলিস্তিনি ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য ইজ্জাত আল-রিশেক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বিবৃতি উদ্ভট এবং তিনি যে ফিলিস্তিন ও এই অঞ্চল সম্পর্কে গভীরভাবে জানেন না, তা উঠে এসেছে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আল-রিশেক বলেন, ‘গাজা কোনো সম্পদ না যে, এটি কেনা বা বিক্রি হতে পারে। এটি আমাদের অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর মানসিকতা নিয়ে এর সমাধান করতে গেলে ব্যর্থ হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের ফিলিস্তিনি জনসাধারণ সব ধরনের বাস্তুচ্যুতি ও অন্য স্থানে পাঠানোর পরিকল্পনার বিপরীতে দাঁড়াবে। আল-রিশেক বলেন, অবরুদ্ধ উপত্যকা মুক্ত করার একমাত্র উপায় হলো ১৯৪৮ সালের পর থেকে ইসরায়েল যে শহর ও গ্রামগুলো দখল করেছে, সেগুলো ফিলিস্তিনিদের ফিরিয়ে দেওয়া। যাতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেন এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ট্রাম্পের ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার ক্ষমতা কারও নেই।
গত রবিবার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের। হাজার বছরের পুরোনো এই চিরায়ত মাতৃভূমি থেকে গাজার জনগণকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।’
এরদোয়ান ট্রাম্পের প্রস্তাবকে মূল্যহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জায়নবাদী নেতৃত্বের চাপে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া গাজা প্রস্তাবের কোনো গুরুত্ব নেই।’
এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ফিলিস্তিনি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজাবাসীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ট্রাম্প গাজাকে ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত বোমামুক্ত করে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনের কথা বললেও সেখানে বসবাসরত জনগণকে কীভাবে সরানো হবে, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।
তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার দায়িত্ব নেবে এবং আমরা সেখানে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এর আগে তিনি একবার বলেছিলেন, আশপাশের আরব দেশগুলোর গাজাবাসীকে আশ্রয় দেওয়া উচিত। সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি