জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগামের জঙ্গি হামলার ঘটনাপ্রবাহ যেন উগ্র দেশাত্মবোধক সিনেমার গল্পের মতোই এগোচ্ছে। ভারত এবং পাকিস্তান দুই পক্ষের একের পর জরুরি বৈঠক, চুক্তি বাতিল, সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া,ভিসা বাতিল, কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার মতো প্রতিশোধের পথে হাঁটছে ভারত।
২৬ নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সবার অলক্ষ্যে পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ভারতের মূল টার্গেট এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গুলোর দাবি, পাহালগামের ঘটনার পরপরই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৪২-৪৫টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ও ঘাঁটিকে নির্দিষ্ট করে ফেলেছে দেশের সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা বিভাগ। যেখানে সক্রিয়ভাবে ভারত বিরোধী মগজ ধোলাই দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণের আদলে জঙ্গি প্রশিক্ষণের কাজ চলছে।
দেশটির গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বেশ কয়েক মাস ধরে ভারতীয় গোয়েন্দারা এগুলোর উপর খুঁটিনাটি নজর রেখে চলেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও সেনানায়করা। পাহালগাম কাণ্ডের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করাও হয়। তাদের দাবি তারা এখন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, এইসব ঘাঁটিগুলোতে আনুমানিক ১৫০-২০০ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি রয়েছে। তাদের দাবি এই জঙ্গিদের সীমান্ত পার হওয়ার কাজে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সরাসরি সাহায্য করে।
তাদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীরে মুজাহিদ ব্যাটেলিয়ন ছাড়াও হিজবুল মুজাহিদিন, জয়েশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ১১৫ পাকিস্তানি জঙ্গি এখনও সক্রিয় রয়েছে। তার মধ্যে ৭০-৭৫ পাকিস্তানি রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকায় এবং ৬০-৬৫ জন রয়েছে জম্মু, রাজৌরি ও পুঞ্চ সেক্টরে।
পাহালগামে জঙ্গি হামলার পর নয়াদিল্লির শশব্যস্ততা প্রমাণ করে দিচ্ছে, হামলাকারীদের পরিকল্পনার মুখে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্র বোকা বনে গিয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে এবং বিজনেস টুডে
দিনা