কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর বৃহস্পতিবার ( ১ মে) পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এ নিয়ে গত ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর , জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে টানা অষ্টম রাত গোলাগুলির ঘটনা ঘটল।
বৃস্পতিবার ( ১ মে) প্রকাশিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা, বারামুল্লা, পুঞ্চ, নওশেরা এবং আখনুর এলাকার বিপরীত দিক থেকে ছোট অস্ত্রের গুলি চালানো হয়। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর এই গুলির জবাব দিয়েছে।
গত ২৪ এপ্রিল রাত থেকে, ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার কয়েক ঘণ্টা পরেই, পাকিস্তানি সেনারা জম্মু ও কাশ্মীরের এলওসির বিভিন্ন স্থানে বিনা উসকানিতে গুলি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর।
একই দিন সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গত মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সেনারা জম্মু জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তের পারগওয়াল সেক্টরে ভেতরে প্রবেশ করে গুলি চালায়।
একই দিনে ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) হটলাইনে কথা বলেন। ডিজিএমও স্তরের আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে বিনা উসকানিতে গুলি চালানো থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মোট ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা তিনটি অংশে বিভক্ত: আন্তর্জাতিক সীমান্ত (আইবি), প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, গুজরাট থেকে শুরু করে জম্মুর আখনুরের চেনাব নদীর উত্তর তীর পর্যন্ত; নিয়ন্ত্রণেরেখা (এলওসি), ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা জম্মুর কিছু অংশ থেকে লেহের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত; এবং প্রকৃত স্থল অবস্থানরেখা (এজিপিএল), ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা সিয়াচেন অঞ্চলকে উত্তরে এনজে ৯৮৪২ থেকে ইন্দিরা কোল পর্যন্ত বিভক্ত করে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। তবে ২২ এপ্রিলের ঘটনার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান সিমলা চুক্তি স্থগিত করাতে সীমান্তে অস্ত্র সংবরণের বাধ্যবাধকতা থাকছে না বলেই মনে হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি এবং পিটিআই
দিনা