ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে টানা চার দিনের পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী সংঘাতের পর শনিবার (১০ মে) বিকেলে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।
তবে এই সম্মতি নিয়ে দুই পক্ষ দুই ধরনের কথা বলছে। পাকিস্তান ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’ বললেও সম্মতিটিকে ভারত ‘সব ধরনের গুলি চালানো ও সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের চুক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
এছাড়া যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংঘাত এখনও থামেনি। যেমন-ভারত এখনও সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রেখেছে। দুই দেশের চারটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ কথা জানায়।
এই উত্তেজনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়াতে বিশ্বনেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ৪৮ ঘণ্টার জোরাল প্রচেষ্টায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেই।
এই পোস্টে মার্কো রুবিও জানান, তিনি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত ৪৮ ঘণ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনীর, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ ঊর্ধ্বতন ভারতীয় ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে্ন।
তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ভারত ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে এবং একটি নিরপেক্ষ স্থানে বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।’
মার্কো রুবিও বলেন, ‘শান্তির পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও শরিফের প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও রাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করি।‘
যদিও তার এই পোস্টের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ভারত ও পাকিস্তান অবিলম্বে পুরোপুরি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। শুভ বুদ্ধির ব্যবহার করে উভয়পক্ষ এই সিদ্ধান্তে আসায় অভিনন্দন।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ভারত ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতি কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, শনিবার ( ১০ মে) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের দিকে সব ধরনের হামলা সহ গুলি চালানো বন্ধ রাখা হবে।
দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশন্স (ডিজিএম) ভারতীয় সময় ৩টা ৩৫ মিনিটে ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশন্সকে ফোন করেন।
তাদের দু’জনের আলোচনায় ভারতীয় সময় শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে উভয়পক্ষই সব ধরনের গুলি, গোলা বর্ষণ এবং স্থল, আকাশ ও জলপথে সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।’
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাক দার এক্স বার্তায় বলেন, পাকিস্তান ও ভারত অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই অঞ্চলে শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তান সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং তবে কখনই নিজের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে আপোস করেনি।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দেশটির সবধরনের ফ্লাইটের জন্য নিজেদের আকাশসীমা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। সুত্র: রয়টার্স, দ্য ডন এবং দ্য হিন্দুস্থান টাইমস
সুলতানা দিনা/