যুক্তরাজ্যের বহির্বিশ্ব গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ ১১৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারীকে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিভাগের মহাপরিচালকের (ডিরেক্টর ‘কিউ’) দায়িত্বে থাকা ব্লেইজ মেট্রিয়েলি নামে ওই নারী স্যার রিচার্ড মুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তিনি সংস্থাটির ১৮তম প্রধান হবেন।
রবিবার (১৫ জুন) বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
ব্লেইজ মেট্রিয়েলি এর আগে এমআই৫-এ পরিচালক স্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ক্যারিয়ারের বড় সময়টি তিনি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে কাটিয়েছেন। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। ৪৭ বছর বয়সী ওই নারী ১৯৯৯ সালে এই সংস্থায় যোগদান করেন। তিনি জানিয়েছেন, এই দায়িত্ব পেয়ে তিনি গর্বিত ও সম্মানিত।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এই নিয়োগকে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি ব্লেইস যুক্তরাজ্যকে সুরক্ষা দিতে এবং আমাদের জনগণকে নিরাপদ রাখতে অসাধারণ নেতৃত্ব দেবেন।’
এমআই৬-এর দায়িত্ব হলো বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, শত্রু রাষ্ট্রের তৎপরতা ব্যাহত করা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা।
২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের রাজা ঘোষিত সম্মানসূচক ‘কমপেনিয়ন অব দ্য অর্ডার অব সেন্ট মাইকেল অ্যান্ড সেন্ট জর্জ (সিএমজি)’ পদকে ভূষিত হন।
২০২১ সালে এমআই৫-এর ছদ্মনাম ‘ডিরেক্টর কে’ হিসেবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকিগুলো বিচিত্র ও ব্যাপক। এই হুমকিগুলো আমাদের সরকার, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ এখনো একটি হুমকি এবং চীন পৃথিবীর চালচিত্র বদলে দিচ্ছে- যা যুক্তরাজ্যের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ।’
কেন এমআই৬-এর প্রধানকে ‘সি’ বলা হয়
এমআই৬-এর গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে সাধারণভাবে ‘সি’ বলা হয়, যিনি একমাত্র প্রকাশ্য নামধারী সদস্য এবং পররাষ্ট্র সচিবের কাছে জবাবদিহি করেন। ‘সি’ শব্দটি অনেকেই ভুলভাবে ‘চিফ’ মনে করেন। এমআই৬-এর প্রথম প্রধান ক্যাপ্টেন ম্যান্সফিল্ড কামিং সব সময় স্বাক্ষর করতেন ‘সি’ নামে। সেখান থেকেই ‘সি’ নামের উৎপত্তি। তিনি সবুজ কালি ব্যবহার করে স্বাক্ষর করতেন। আজও এমআই৬-এর প্রধানই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সবুজ কালি ব্যবহার করেন।
‘সি’ কি এজেন্টদের হত্যার লাইসেন্স দেন? না। তবে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা আইন অনুযায়ী, পররাষ্ট্র সচিব কিছু নির্দিষ্ট অপারেশনের জন্য অনুমতি দিতে পারেন, যার মধ্যে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগও থাকতে পারে। তবে এটি একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে এমআই৬ এখন একাধিক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়া নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার কারণে তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমা স্বার্থের সংঘাত ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
এ ছাড়া দ্রুত ডিজিটাল পরিবর্তনের যুগে এমআই৬-এর জন্য প্রযুক্তিতে অগ্রগামী থাকা এবং মানব গোয়েন্দাদের কার্যক্রমের গোপনীয়তা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংস্থাটির বিদায়ী প্রধান স্যার রিচার্ড মুর ব্লেইজ মেট্রিয়েলির ঐতিহাসিক নিয়োগে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেট্রেয়েলি একজন দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা, চমৎকার নেতা এবং প্রযুক্তি বিষয়ে অগ্রগণ্য চিন্তাবিদ।’ সূত্র: বিবিসি
সুমন বিশ্বাস/