রাজধানী তেহরানের কাছে আরও একটি ইসরায়েলি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।
বুধবার (১৮ জুন) ইরান সরকার নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা ইরনাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ভারামিন জেলার গভর্নর হোসেইন আব্বাসী। ১৪টি ড্রোন ধ্বংসের কথাও জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
তিনি জানান, তেহরানের উপকণ্ঠে ভারামিন এলাকায় একটি ইসরায়েলি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এ ঘটনার পর ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানি বিজ্ঞানী, সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতির উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় ভাষণ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েল বড় ভুল করে ফেলেছে, মারাত্মক ভুল। এর পরিণতিতে দখলদার ইসরায়েল অসহায় হয়ে পড়বে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, ইরানি জাতি শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেবে না এবং দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
গত ২৪ জুন শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করার পর থেকে এ নিয়ে পাঁচটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। সর্বশেষ ভূপাতিত করা যুদ্ধবিমানটির পাইলটের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইসরায়েলের বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এটি পঞ্চম ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান, যা ভূপাতিত করা হয়েছে। ১৩ জুন ইসরায়েল একযোগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় নিহত হন ইরানের চিফ অব জেনারেল স্টাফ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং ৯ জন পরমাণু বিজ্ঞানী। এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২২৪ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর তথ্যও প্রকাশ করেছে ইরান।
এর আগে গত ১৪ জুন ইরানি জাতীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক জানান, ইরানের সেনাবাহিনী (আর্তেশ) তৃতীয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরানি প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে গুলি করে নামানো হয়েছে। সেদিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিমান থেকে বেরিয়ে পড়ার পর পাইলটকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে। এর মধ্যে এক পাইলট নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও এক পাইলটকে আটক করেছে ইরানি বাহিনী।
এফ-৩৫ হচ্ছে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে চলার সক্ষমতা রাখে। বিমানটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মাইল গতিবেগ অর্জন করতে পারে। এতে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি সেন্সর কভারেজ, উন্নত সেন্সর ফিউশন প্রযুক্তি এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র বহনের ক্ষমতা। এটি দুটি বাইরের ও চারটি অভ্যন্তরীণ মিসাইল বহন করতে পারে।
লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ লাইটনিং ২ হলো একক আসন ও একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট একাধিক ভূমিকার স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও আঘাত হানা, উভয় অভিযান পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ২০১৮ সালে প্রথম যুদ্ধে এফ-৩৫ ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই একটি এফ-৩৫ ভূপাতিত করে থাকে, তবে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক আধিপত্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, আনাদোলু ও বিজনেস ইনসাইডার।