ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
Nagad desktop

ইরানের ‘দানব মিসাইলে’ ইসরায়েলের দুর্বলতা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৫, ০৩:৩১ পিএম
ইরানের ‘দানব মিসাইলে’ ইসরায়েলের দুর্বলতা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের শেষ দিকে চালানো এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উন্মোচিত হয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা। ইরানের ‘খাইবার শেকান’ নামের বহু ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বির শেভায় একটি আবাসিক ভবনের পাশে বিস্ফোরণ ঘটায়। গত মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে চালানো ওই হামলায় একই পরিবারের চারজন নিহত হন, যারা ভবনের ‘নিরাপদ’ কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর ফলে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮ জনে। তবে এই হামলা স্পষ্ট করেছে-উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। 

ইরান দাবি করেছে, তারা ‘খাইবার শেকান’ নামের বহু ওয়ারহেডবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যেটিকে অনেকেই ‘দানব মিসাইল’ বলছেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ একে ইরানের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, ইসরায়েলের মতো একটি আধুনিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। আর এটিই ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় দুর্বলতা, যাকে এখন অনেকেই ‘অ্যাকিলিস হিল’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

‘অ্যাকিলিস হিল’ একটি রূপক শব্দ, যার অর্থ হলো ‘দুর্বলতা’ বা ‘ভঙ্গুর স্থান’। এটি গ্রিক পুরাণের অ্যাকিলিসের পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে অ্যাকিলিসের একমাত্র দুর্বল স্থান ছিল তার গোড়ালি। এই স্থানটিতে আঘাত পেয়েই তার মৃত্যু হয়েছিল। তাই কোনো ব্যক্তি বা 
বস্তুর সামগ্রিক শক্তি বা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যেখানে তার দুর্বলতা বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তাকে ‘অ্যাকিলিস হিল’ বলা হয়।

ইসরায়েলে ওই হামলার পর সবচেয়ে চোখে পড়েছে সাধারণ মানুষের দুরবস্থা। বির শেভা ও পেতাহ তিকভায় নিহতরা বেশির ভাগই সরকারি অনুমোদিত আশ্রয়কক্ষে ছিলেন। অথচ সেসব কক্ষও তাদের রক্ষা করতে পারেনি।

তেল আবিব শহরের ডিজেঙ্গফ সেন্টারের নিচে এখন একটি অস্থায়ী তাঁবু নগরী গড়ে উঠেছে। যেখানে আগে বিলাসবহুল গাড়ি রাখা হতো, সেখানে এখন শত শত মানুষ ছোট ছোট তাঁবুতে রাত কাটাচ্ছেন। যাদের নিজস্ব নিরাপদ ঘর নেই বা যাদের ঘর অরক্ষিত, তারাই আশ্রয় নিয়েছেন এখানে।

৬১ বছর বয়সী সাবেক সাবমেরিন ক্যাপ্টেন রোনেন কোহলার বলেন, ‘বাইরের দুনিয়া ভাবে তেল আবিবে আধুনিক আশ্রয় কক্ষ আছে। বাস্তবে অনেক ভবন ৪০ বা ৫০ বছর আগে তৈরি, সেগুলো  সে অর্থে নিরাপদ নয়।’

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলে নতুন ভবনে ‘মামাদ’ নামে ব্যক্তিগত নিরাপদ ঘর রাখার নিয়ম চালু হয়। এ ছাড়া রয়েছে প্রতিটি ফ্লোরে ‘মামাক’ এবং সরকারি ‘মিকলাট’। কিন্তু বাস্তবে এসব আশ্রয় সুবিধা  পান মূলত ধনীরা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের ৫৬ শতাংশ বাড়িতে কোনো নিরাপদ কক্ষ নেই এবং ১২ হাজার পাবলিক আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা জরাজীর্ণ বা ব্যবহারের অনুপযোগী।

হাইফার বাসিন্দা রিনাত ওয়েইনবার্গ জানান, তার ফ্ল্যাটের তথাকথিত নিরাপদ কক্ষে শক্ত দরজা নেই। বালু আর পাথরের বস্তা দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘরে থেকে নিরাপদ বোধ করি না, তাই ডিজেঙ্গফের নিচে এসে আশ্রয় নিয়েছি।’

এ ছাড়া দক্ষিণ তেল আবিবের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নিচেও একটি তাঁবুর শহর গড়ে উঠেছে। সেখানে অবস্থান করছেন লিন টাগাকাই নামের এক ফিলিপিনো কর্মী। তিনি বলেন, ‘আমার ১১ মাসের ছেলে কাইলকে নিয়ে ওপরের কোনো আশ্রয়ে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। তাই নিচে থাকা নিরাপদ মনে হয়েছে।’

সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, যাদের নিজস্ব আশ্রয় কক্ষ আছে, তারাও নিচে নেমে পার্কিং লট বা সাবওয়েতে রাত কাটিয়েছেন। শুধু শিশু নয়, অনেক বয়স্ক নাগরিকও এখন সাবওয়ে বা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরান যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম, তা এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের যুদ্ধ আবারও হতে পারে এবং সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আতঙ্ক কাটছে না। কারণ, ইরানের কাছে এখনো শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। আর ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর নয়।

তাই এখন প্রশ্ন একটাই- ইসরায়েল সরকার কীভাবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? কেন এত বছর পরও লাখো মানুষ আশ্রয়হীন অবস্থায় আছেন? আর পরবর্তী যুদ্ধ শুরু হলে সেই উত্তরের খোঁজে হয়তো আর সময়ও পাওয়া যাবে না।

ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:২৯ এএম
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সন্দেহভাজন নাগরিকদের জোর করে পুশইনের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস’ (এপিডিআর) এই অভিযোগ করেছে। সংগঠনটির দাবি, বিএসএফের এই ভূমিকার কারণে নারী ও শিশুসহ প্রচুর মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা শূন্যরেখায় অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে আছে। সীমান্তে জোর করে পুশইন করার এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এপিডিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএফ সদস্যরা ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। দুই বাহিনীর এই অনড় অবস্থানের কারণে গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়েছেন। তীব্র গরম ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মধ্যে তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং আশ্রয়ের চরম সংকটে ভুগছেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এই পরিস্থিতিকে একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, বিএসএফ এই মানুষদের ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। বিপরীত দিকে, বিজিবি তাদের ‘ভারতীয় নাগরিক’ দাবি করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এপিডিআরের মতে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (শনাক্তকরণ, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার) বা থ্রিডি নীতির ফলেই আজ এই সংকট তৈরি হয়েছে। ডিটেনশন ক্যাম্প বা হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা এবং সীমান্তে জোর করে পুশইন করার এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তারা জানায়, এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই চরম সংকটের বিষয়ে এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত সুর অবিলম্বে এই পুশ-ব্যাক নীতি বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত পুনর্বাসন ও ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংকট সমাধানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি। এই বিতর্কিত সীমান্ত নীতি ও কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং পুশ-ব্যাক বন্ধের দাবিতে আগামী ১১ জুন মালদহে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে এপিডিআর।

সূত্র: সে অলওয়েজ ট্রুথ নিউজ

আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:২২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি
ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি। ছবি: সংগৃহীত

আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মর্যাদা ফিরে পেয়েছেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি।

শুক্রবার (৫ জুন) তার মালিকানাধীন আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এক লাফে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক দিনেই গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২৫০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভাবনীয় উত্থানের পর আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলার।

এর মাধ্যমে তিনি ভারতের আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি এবং জাপানের সফটব্যাংক গোষ্ঠীর প্রধান মাসায়োশি সনকে পেছনে ফেলে ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন।

বর্তমানে আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জাপানের শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের কারণে মাসায়োশি সনের সম্পদ কমে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে গৌতম আদানির এই আধিপত্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পাওয়ার’ বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির ১৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

এসএন/ ফোর্বস

আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আর্মেনিয়ায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
ছবি: সংগৃহীত

আর্মেনিয়ায় ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটির বর্তমান নির্বাচনই নির্ধারণ করে দেবে এটি পশ্চিমা বিশ্বের দিকে আরও এগিয়ে যাবে, নাকি  ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার দিকে ফিরবে।

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এই ছোট দেশটি মস্কোর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইউরোপীয় একীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনর্নির্বাচন চাইছেন।

এই নির্বাচন আর্মেনিয়ার প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ- দেশটি তার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার রাশিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা সত্ত্বেও ক্রমশ পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

পশ্চিমের সঙ্গে আর্মেনিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন পাশিনিয়ান। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর নিকোল পাশিনিয়ান দেশকে ধীরে ধীরে মস্কোর প্রভাববলয় থেকে সরিয়ে আনেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি আইন পাস করেন। এতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও লাভ করেন।

এসব কূটনৈতিক সাফল্যের পরও পাশিনিয়ানের জনপ্রিয়তা কমেছে। ২০২১ সালে তার সমর্থনের হার ছিল ৫৪ শতাংশ, যা বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ৩০ শতাংশে। এবার পাশিনিয়ানের নির্বাচনী স্লোগান হলো- ‘শান্তির পক্ষে দাঁড়ান’।

পাশিনিয়ানের বিরোধীরা এখন বিভিন্ন দল ও জোট গঠন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট কোচারিয়ানের নেতৃত্বাধীন ‘আর্মেনিয়া অ্যালায়েন্স’। আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট সের্ঝ সার্গসিয়ানের রিপাবলিকান পার্টি সরাসরি প্রার্থী না দিলেও তাদের সমর্থকদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশিনিয়ানের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রাশিয়ায় ধনী ব্যবসায়ী সামভেল কারাপেতিয়ান। তিনি বর্তমানে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গৃহবন্দী রয়েছেন। কারাপেতিয়ান তার ভাতিজার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সবশেষ ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, পাশিনিয়ানের ‘সিভিল কনট্রাক্ট’ দল ৩২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক নেতার ওপরই আস্থা রাখেন না। বিরোধী দলগুলো যদি একজোট হতো, তাহলে তারা পাশিনিয়ানের ভোটের সমান সমর্থন পেতে পারতো। কিন্তু বিভক্ত অবস্থায় তারা তাকে পরাজিত করতে পারবে না।

খাদিজা রুমি/

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

মে মাসের শুরুতে আফ্রিকার দেশ ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বুনিয়া অঞ্চলের একটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুতর অসুস্থ হন। এর পর চার স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ডি আর কঙ্গোতে পরীক্ষা করা নমুনাগুলোতে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে পরে পরীক্ষা করা ১৩টি নমুনার মধ্যে আটটিতে ইবোলা শনাক্ত হয়, আর পাঁচটির ফলাফল অস্পষ্ট ছিল।

জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে আক্রান্তরা বুন্ডিবুগিও ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এটি মানুষের মধ্যে ইবোলা রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম চার ধরনের অর্থো-ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন।

বর্তমানে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। আক্রান্তদের সহায়ক চিকিৎসা দেওয়াই প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগীদের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং রক্তবমির মতো উপসর্গ দেখা গেছে।

ডিআর কঙ্গোতে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ রোগীর বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। আক্রান্তদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী।

এর আগে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের দুটি প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটেছিল- একটি ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। ওই দুই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ২৫ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রাদুর্ভাবটিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এটিকে ‘মহাদেশীয় নিরাপত্তার জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। তবে জনবহুল পরিবহনকেন্দ্র গোমা শহরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় রোগটি দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন এই প্রাদুর্ভাব বেশি উদ্বেগজনক?

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে পরিচিত ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলো ছিল ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় এবং ২০১৮-২০২০ সালে ডি আর কঙ্গোর নর্থ কিভু অঞ্চলে। সেসব প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল জায়ার প্রজাতির ইবোলা, যার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত টিকা বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখন মূল ভরসা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনগণের আস্থা অর্জন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া।

এ পর্যন্ত নিশ্চিত মৃত্যুর মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা নিতে অনীহা তৈরি হয়।

নিয়ন্ত্রণে বাধা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব ডিআর কঙ্গোর নাজুক পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য নজরদারি ও প্রাদুর্ভাব প্রস্তুতি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সরঞ্জাম অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হওয়ায় জনগণ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের চলাচলের কারণে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কারণে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা?

পূর্ববর্তী ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জটিল গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অনেক নারী চিকিৎসা পান না এবং পরিবার ভেঙে পড়ায় শিশুরা নির্যাতন ও শোষণের ঝুঁকিতে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর্মীরাও সরাসরি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা এ ঝুঁকিরই প্রমাণ।

এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, যেখানে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে, তারাও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ডি আর কঙ্গো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটি প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ, রোগী বাছাই ও আইসোলেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগণকে রোগ শনাক্তকরণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুল তথ্য প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি নগদ সহায়তা এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

এখন কী প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পিপিইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি ডিআর কঙ্গো, প্রতিবেশী দেশগুলো, ডব্লিউএইচও, আফ্রিকা সিডিসি এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, রোগ নজরদারি ও জরুরি প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জনস্বাস্থ্য তথ্য, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী ও কিশোরীদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি

তামান্না রুপা/

বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে তেহরান। তাদের দাবি, ফুটবল দলের ব্যাকরুম স্টাফদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের উদ্বোধনী ম্যাচের ১০ দিন আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সব খেলোয়াড় এবং ‘প্রয়োজনীয় সহযোগী স্টাফদের’ ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, 'মিথ্যা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করানোর জন্য ইরানকে এই সুযোগ অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।'

তুরস্কে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে 'খেলাধুলায় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ' বলে নিন্দা জানায়।

দূতাবাস জানায়, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সহসভাপতিসহ ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কঠোর ভিসা শর্তের কারণে ইরানি দলকে কেবল ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং ম্যাচ শেষেই দেশ ছাড়তে হবে।

এই আচরণকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানায় ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপটি একটি বিরল ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে আতিথেয়তা দিচ্ছে, যাদের সঙ্গে তারা বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই বিষয়টি বেশ জটিল রূপ নেয়, কারণ ইরানি স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী এই বাহিনীর অধীনেই বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করতে হয়েছে।

এদিকে ইরানি দলটি ইতোমধ্যেই তুরস্কের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যেখানে টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা অবস্থান করবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী ম্যাচ ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ইরানের।

অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র: বিবিসি

আজহার/অমিয়/