অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্র্যান্সেসকা অ্যালবানিজ বিশ্বের দেশগুলোর কাছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সব দেশ যাতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং অস্ত্রের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইসরায়েলের ‘গণহত্যার অর্থনীতি’ থেকে আন্তর্জাতিক মহল যাতে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়, সেটিই চাইছেন তিনি।
জেনেভায় বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে বক্তব্য রাখার সময় এ দাবিগুলো জানান অ্যালবানিজ। তিনি এ সময় ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানের নাম নেন, যারা ইসরায়েলি গণহত্যার সঙ্গে ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহিংসতার সঙ্গে জড়িত।
ফ্রান্সেসকা বলেন, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলের অবস্থা কিয়ামতের মতো। আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালানোর জন্য ইসরায়েল দায়ী।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৫৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে যুদ্ধের ২২ মাস চলছে। হাজার হাজার মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত। তারা কয়েক দফায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত নির্বিচার হামলা তো আছেই। গাজায় সহায়তাও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) সহায়তা বাইরে থেকে গাজায় প্রবেশ করাতে পারছে। তবে তাদের সহায়তা নির্দিষ্ট বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। আর সেসব সহায়তা কেন্দ্রের কাছেই ইসরায়েলি সেনারা ঘাঁটি তৈরি করে বসে আছে। প্রায় প্রতিদিনই তারা সহায়তাপ্রত্যাশীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। মে মাসের শেষ থেকে এ পর্যন্ত ৬০০-এরও বেশি সহায়তাপ্রত্যাশীর মারা যাওয়ার খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় গোটা গাজা বহু আগেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন অবরুদ্ধ উপত্যকাটির ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। হাসপাতাল থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্র- কোনোটিই তাদের হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। ইসরায়েলি বাহিনী ক্ষুধাকে পরিণত করেছে হাতিয়ারে। গাজায় অপুষ্টিতে মারা গেছে ৬৬ শিশু। আরও বহু শিশু ও বয়োবৃদ্ধ অপুষ্টির কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ঠাঁই নিয়েছেন। সরঞ্জামের অভাবে তাদের চিকিৎসাও ঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সূত্র: আল-জাজিরা