রাশিয়ার সদ্য বরখাস্ত হওয়া পরিবহনমন্ত্রী রোমান স্তারোভইৎকে মস্কোর বাইরে তার গাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
সোমবার (৭ জুলাই) রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন তাকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই এই ঘটনা ঘটে। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এই মৃত্যুকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করছে।
সোমবারই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ডিক্রির মাধ্যমে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেন। ডিক্রিতে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এক বছরের কিছু বেশি সময় ধরে তিনি পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
৫৩ বছর বয়সী মন্ত্রী রোমান ভি. স্টারোভয়েট ২০২৪ সালের মে মাসে পরিবহন পদে নিযুক্ত হওয়ার আগে প্রায় ছয় বছর ধরে কুরস্ক অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পদোন্নতির তিন মাস পরই, ইউক্রেনীয় বাহিনী এই অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং এই বছরের শুরু পর্যন্ত তাদের সেনাবাহিনীর দখলে থাকা অঞ্চলগুলো দখল করে।
সোমবার (৭ জুলাই) রুশ তদন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানায়।
তদন্তকারীরা জানান, স্তারোভইৎয়ের দেহে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং তার গাড়ি থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পিস্তলটি তার নিজের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এপ্রিল মাসে কুরস্ক অঞ্চলের বর্তমান গভর্নর আলেক্সেই স্মিরনভ সীমান্ত প্রতিরক্ষা বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, স্তারোভইৎয়ের বরখাস্তের সঙ্গে এই দুর্নীতির তদন্তের যোগসূত্র থাকতে পারে।
রাশিয়ার পরিবহন খাত বর্তমানে বিভিন্ন চাপে রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের বিমান খাতে যন্ত্রাংশের সংকট দেখা দিয়েছে। আর রাশিয়ার রেলওয়ের জন্য ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্তারোভইৎয়ের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রেমলিন নতুন পরিবহনমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে। নভগোরোদ অঞ্চলের সাবেক গভর্নর আন্দ্রে নিকিতিনকে ভারপ্রাপ্ত পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবিও প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বলেন, যদি প্রেসিডেন্টের আস্থা হারানোর বিষয় থাকতো, তাহলে ডিক্রিতে তা উল্লেখ করা হতো। কিন্তু এখানে সে ধরনের কিছু লেখা নেই।
২০২২ সালের গোড়ার দিকে পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থতার পর মাঝেমধ্যেই রাশিয়ান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভমূলক ব্যবস্থা নেন।
আক্রমণের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই কে. শোইগুকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল, তখন রাশিয়াপন্থী বিশ্লেষকরা আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর ব্যর্থতার জন্য তাকে আংশিকভাবে দায়ী করেছিলেন। এছাড়া, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সুলতানা দিনা/