থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই থাইল্যান্ডের বেসামরিক নাগরিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিএনএন জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনামলে নির্ধারিত সীমান্তে বেশ কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে, যা উভয় দেশই নিজেদের বলে দাবি করে।
এরইমধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কম্বোডিয়া।
জাতিসংঘে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত ছিয়া কেও জানান, তার দেশ নিঃশর্তভাবে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। খবর বিবিসির।
এদিকে, থাইল্যান্ড এখনও কম্বোডিয়ার দ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী আট জেলায় সামরিক আইন জারি করে থাইল্যান্ড।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই শুক্রবার (২৫ জুলাই) জানান, এই সংঘাত যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে এখন ভারি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সীমান্তের ১২টি স্থানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় গুলি চালানোর অভিযোগও করেছে থাইল্যান্ড।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে। বেসামরিক জনগণের ওপর নির্বিচারে প্রভাব ফেলার কারণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই ক্লাস্টার বোমা নিষিদ্ধ। যদিও এই অভিযোগের কোনো জবাব দেয়নি থাইল্যান্ড।
এর আগে বুধবার (২৩ জুলাই) সীমান্তে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে পাঁচ থাই সেনা আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। গত মে মাসেও একটি সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হয়েছিলেন।
এই সংঘর্ষের বিষয়ে থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক থিতিনান মন্তব্য করেন, দুই পক্ষই অতীত ইতিহাস নিয়ে ক্ষুব্ধ। থাইদের ধারণা, ফরাসিরা তাদের জমি নিয়ে কম্বোডিয়াকে দিয়েছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়ানদের বিশ্বাস, এই ভূমি তাদের প্রাচীন সভ্যতার অংশ।
সামরিক শক্তির বিচারে কম্বোডিয়ার চেয়ে থাইল্যান্ড অনেক এগিয়ে। তাদের সক্রিয় সৈন্যসংখ্যা ৩ লাখ ৬১ হাজার, যা কম্বোডিয়ার তুলনায় তিন গুণ বেশি। তা ছাড়া থাইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সহায়তাও পাচ্ছে।
তবে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভুগছে থাইল্যান্ড। চলতি মাসেই একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। এক ফোনালাপে তিনি নিজ দেশের সেনাবাহিনীর আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন।
এই সীমান্ত সংঘর্ষ আঞ্চলিক রাজনীতি, ইতিহাস ও শক্তির ভারসাম্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ইতোমধ্যেই দুই পক্ষকেই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সুলতানা দিনা/