গাজা উপত্যকায় ক্ষুধা ও অনাহার নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সেখানে “প্রকৃত অনাহার” (রিয়াল স্টারভেশন) চলছে।
স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না নেতানিয়াহু কী বলেছেন... তবে শিশুদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তারা মারাত্মক ক্ষুধার্ত... এটা আসলেই অনাহার।”
এই মন্তব্যের আগে জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার জানান, অনাহার ঠেকাতে গাজায় বিপুল পরিমাণ খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। তিনি ইসরায়েলের আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ ও সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও বলেন, “এটা তো সাগরে এক ফোঁটা জলের মতো।”
ইসরায়েল জানিয়েছে, গতকাল রবিবার তারা ১০ ঘণ্টার ‘সামরিক বিরতি’ চালু করে এবং ১২০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেয়। সেই সঙ্গে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৮টি খাবার প্যাকেট বিমান থেকে ফেলে।
তবে কয়েক ঘণ্টা পর হামাস-শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ১৪ জন মারা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে শিশুরাও। অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭-এ, যার মধ্যে ৮৮ জন শিশু।
ইসরায়েল খাদ্য সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, গাজায় কোনো অনাহার নেই এবং ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য সরবরাহ আটকে দেওয়া হয়নি। তারা দাবি করছে, হামাসই মানবিক সহায়তার মূল বাধা।
তবে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি জানায়, তাদের চালকরা ত্রাণ আনতে গিয়ে নিরাপত্তা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ছে, এমনকি গাজায় প্রবেশের পর অনেক ট্রাক লুটপাটের শিকার হয়েছে।
ফ্লেচার বলেন, “এই সাময়িক বিরতি এক সপ্তাহের বেশি চলবে না বলেই আমাদের আশঙ্কা। এটি চলমান মানবিক বিপর্যয় থামাতে যথেষ্ট নয়। আমাদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ সাহায্য দিতে হবে, আসল সমাধান হলো যুদ্ধবিরতি।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) রবিবার জানায়, গাজায় অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর হার বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। জুলাই মাসেই ৬৩ জন মারা গেছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। সংস্থাটি একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রণযোগ্য সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
হামাস দাবি অস্বীকার করে বলেছে, তারা কোনো ত্রাণ চুরি করেনি। নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স জানায়, ইসরায়েলি বা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও হামাসের মাধ্যমে ত্রাণ চুরির কোনো প্রমাণ পায়নি।
নেতানিয়াহু রবিবার বলেন, “গাজায় অনাহার চলছে—এটা নির্লজ্জ মিথ্যা। যদি আমরা সহায়তা বন্ধ করতাম, তবে গাজায় কোনো মানুষই টিকে থাকতো না।” তিনি জাতিসংঘকে সতর্ক করে বলেন, “মিথ্যা বলা বন্ধ করুন, ত্রাণ বিতরণে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে না—এটা আর চলবে না।”
এদিকে সোমবার (২৮ জুলাই) গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ত্রাণ প্রত্যাশীরাও ছিলেন।
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামাস হামলার পর ইসরায়েল গাজায় পূর্ণাঙ্গ অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত গাজায় ৫৯ হাজার ৮২১ জন নিহত হয়েছে বলে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য। সূত্র: বিবিসি