ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীন দিল্লি পুলিশ বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশিদের ভাষা বলে অভিহিত করেছে। রবিবার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনটিই অভিযোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বললেন তিনি। পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার দাবিও জানিয়েছেন অভিষেক।
সম্প্রতি দিল্লির লোদি কলোনি থানার পুলিশ কর্মকর্তা অমিত দত্ত একটি চিঠি পাঠান দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভবনের অফিসার-ইন-চার্জকে (ওসি)। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই চিঠিতে বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশিদের ভাষা বলে অভিহিত করেছে দিল্লি পুলিশ। এমন চিঠি হাতে পাওয়ার পরই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে তৃণমূল শিবির। তবে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিও পাল্টা জবাবে জানিয়েছে, বাংলা ভাষায় কথা বললেই কেউ ভারতীয় হয়ে যায় না। তাই তৃণমূল অভিযোগ করার আগে বিষয়টি যাচাই করে দেখুক।
নিজের এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে অভিষেক লিখেছেন, “মাসের পর মাস ধরে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষীদের লক্ষ্য করে হেনস্তা, হয়রানি ও বেআইনিভাবে আটক চলছেই। এবার সেই আক্রমণের এক চরম রূপ দেখা গেল- দিল্লি পুলিশের একটি সরকারি চিঠিতে, যেখানে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।” তিনি আরও লিখেছেন, ‘এটা শুধুমাত্র টাইপে ভুল নয়, এটা বিজেপির এক পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এর উদ্দেশ্য বাংলাকে কলঙ্কিত করা, আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে খাটো করা এবং
রাজনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বলে দেখানো।’
অভিষেক লিখেছেন, “এটি সরাসরি ভারতীয় সংবিধানের ৩৪৩ ধারা ও অষ্টম তফসিলের লঙ্ঘন। ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে কোনো
ভাষার অস্তিত্ব নেই। বাংলা ভাষাকে বিদেশি ভাষা বলা কেবল অপমান নয়, এটা আমাদের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের ওপর এক নির্মম আঘাত। বাঙালিরা নিজেদের মাতৃভূমিতে বহিরাগত নয়। এই কারণেই আমরা বিজেপিকে ‘বাংলাবিরোধী’ ও ‘জমিদার’ বলি। ওরা ভারতের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে না, বরং বিভাজনের রাজনীতি করে বাঁচে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, “বিজেপি বাংলা বিদ্বেষের সব সীমা পার করে ফেলছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে একের পর এক বাংলাভাষী শ্রমিককে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের পর এবার অমিত শাহের দিল্লির পুলিশ সব সীমা অতিক্রম করে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে দাগিয়ে দিল।” পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘কোনো ভুল নয়- এটি একটি ইচ্ছাকৃত অপমান, পরিকল্পিত চক্রান্ত, যেখানে সংবিধানে স্বীকৃত এবং ধ্রুপদী ভাষার মধ্যে অন্যতম একটি ভাষাকে পরিচয়হীন করে দেওয়া হচ্ছে এবং কোটি কোটি বাংলাভাষী ভারতবাসীকে নিজেদের দেশেই বহিরাগত হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা চলছে।’
তৃণমূলের তরফে আরও বলা হয়েছে, “বাংলা ভাষায় সারা বিশ্বে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ কথা বলে। এটি ভারতের ২২টি সরকারি ভাষার মধ্যে একটি। সেই ভাষাকে ‘বাংলাদেশি’ বলা কেবলই একটি ঘৃণ্য অপমান নয়, ভাষাটির ভারতীয় পরিচয় মুছে দেওয়ার, তার বৈধতা খারিজ করার এবং বাংলাভাষী মানুষদের বহিরাগত প্রমাণ করার নির্লজ্জ চেষ্টা।”
তৃণমূলের এমন আক্রমণের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘একদম ঠিক ভাষাই ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি বাংলাদেশের একটা বই এনে পড়ুন। আর পশ্চিমবঙ্গের একটা বই এনে পড়ুন। আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, কোনটা সুবোধ সরকার লিখেছেন, আর কোনটা বাংলাদেশের সফিকুল ইসলাম লিখেছেন। ওই ভাষাটা পড়লেই বোঝা যায়। সুতরাং বাংলা ভাষায় কথা বললেই সে ভারতবাসী হয়ে যাবে, বাংলা ভাষায় কথা বললেই তার নামটা ভোটার লিস্টে রেখে দিতে হবে, এটা হতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় নকল আধার কার্ড নিয়ে এখন ওরা বঙ্গভবনের মধ্যেও ঢুকে পড়ছে।’