ইসরায়েলের ‘লেভিয়াথান’ প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন কোম্পানিটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মূল্য প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। মিশরকে গ্যাস সরবরাহের জন্য এই চুক্তি হয়েছে, যা লেভিয়াথানের অংশীদার প্রতিষ্ঠান ‘নিউমেড’ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।
এই চুক্তি মিশরের জ্বালানি সংকটকে সহজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিশরের নিজস্ব গ্যাস সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ার কারণে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে আসছে। মিশরের গ্যাস উৎপাদন ২০২২ সালে কমতে শুরু করে। এ অবস্থায় তারা গ্যাস ঘাটতি মেটাতে ক্রমেই ইসায়েলের দিকে ঝুঁকছে।
লেভিয়াথান থেকে গ্যাস রপ্তানি জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে নিরাপত্তার কারণে বন্ধ ছিল, কিন্তু বর্তমানে পুনরায় শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত লেভিয়াথান কোম্পানি ২০৪০ সাল পর্যন্ত বা চুক্তিবদ্ধ পরিমাণ শেষ হওয়া পর্যন্ত মিশরকে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি করবে। কোম্পানিটি কাছে প্রায় প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে।
চুক্তিবদ্ধ এ গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহন করা হবে, যা এলএনজির তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী, কারণ এলএনজিকে তরল করার জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা করার প্রয়োজন হয় এবং জাহাজে পরিবহনের পর গ্যাসে রূপান্তর করার জন্য অতিরিক্ত খরচ লাগে। তাছাড়া ইসরায়েল ও মিশর খুব কাছাকাছি হওয়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা খুবই সহজ ও সাশ্রয়ী।
নিউমেডের সিইও ইয়োসি আবু সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “এলএনজির যে কোনো বিকল্পের থেকে এটা অনেক গুণ ভালো এবং এটা মিশরের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে।”
মিশর সরকারের জ্বালানি আমদানির দায়িত্বে থাকা তেল মন্ত্রণালয় তখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকরা এলএনজির গড় দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (মিমবিটিউ) হিসেবে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার ধারণা করেন, যেখানে ইসরায়েলি গ্যাসের দাম ৭.৭৫ বিলিয়ন ডলার। এখানে ফ্লোটিং স্টোরেজ (FSRUs) ভাড়ার খরচ ধরা হয়নি।
রয়টার্স মে মাসে জানিয়েছিল, ইসরায়েল গ্যাসের রপ্তানি মূল্য ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে চায়। দুইটি শিল্প সূত্র বলেছে, মিশরের সঙ্গে এ নতুন চুক্তি কিছুটা বেশি মূল্যে হয়েছে, যার মধ্যে একটির মতে অন্তত ২০ শতাংশ বেশি।
নিউমেড জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে লেভিয়াথান ২০২৬ সালের শুরুতে মিশরকে ২০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ১১০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রপ্তানি করা হবে, যা লেভিয়াথান সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং ইসরায়েল থেকে নিতজানা হয়ে মিশরে নতুন একটি ট্রান্সমিশন পাইপলাইন নির্মাণের পর শুরু হবে।
জ্বালানি বিশ্লেষক ফ্লোরেন্স স্মিট বলেছেন, “এই চুক্তি অনুযায়ী যদি পুরো ১৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ হয়, তবে মিশর সম্ভবত এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারবে - যদিও সেই পর্যায় এখনও অনেক দূরে।”
তথ্য অনুযায়ী, মিশরের ব্যবহৃত গ্যাসের প্রায় ১৫-২০ শতাংশ আসে ইসরায়েল থেকে।
লেভিয়াথান কোম্পানিটি ২০২০ সালে উৎপাদন শুরু করার পর মিশরকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। জ্বালানি কোম্পানি ‘শেভ্রন’ পরিচালিত এই লেভিয়াথানে ৪০ শতাংশ অংশীদারত্বও রয়েছে এবং এটি জর্ডানকেও গ্যাস সরবরাহ করে। সূত্র: রয়টার্স