গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের বাইরে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তাঁবুতে হামলা চালিয়ে পাঁচ সাংবাদিকসহ সাতজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে সংবাদদাতা আনাস আল-শরিফও রয়েছেন।
রবিবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় গাজার আল শিফা হাসপাতালের প্রধান গেটে এ হামলা চালায় ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, আল-শরীফ হামাসের সশস্ত্র শাখার একটি ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ ক্রিকেহ, ক্যামেরাম্যান ইব্রাহিম জাহের এবং মোমেন আলিওয়া এবং তাদের সহকারী মোহাম্মদ নওফাল।
রবিবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় তার চার সহকর্মীসহ নিহত হওয়ার আগে আনাস আল-শরিফ গাজা শহরে ইসরায়েলি বোমা হামলার বিষয়ে রিপোর্ট করছিলেন। ২৮ বছর বয়সী এই আনাস গাজার অন্যতম বিশিষ্ট সাংবাদিক ছিলেন। তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তিনি রিপোর্টিং চালিয়ে গেছেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি মিশন বলেছে, ইসরায়েল গাজা সিটিতে আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ এবং মোহাম্মদ ক্রিকেহের তাঁবুতে বোমা হামলা চালিয়ে ‘ইচ্ছাকৃত হত্যা’ করেছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, রবিবার গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজায় ইসরায়েল-সৃষ্ট অনাহারে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্ভিক্ষে মোট মৃতের সংখ্যা ২১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০০টি শিশু।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা গাজা শহর দখল এবং প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক দক্ষিণের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে স্থানান্তর করার ইসরায়েলের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
অমিয়/