ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই গতকাল রবিবার (১০ আগস্ট) প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভারতীয় নৌবাহিনী আগামী ১১ ও ১২ আগস্ট আরব সাগরে নৌমহড়া চালাবে। একই সময়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীও তাদের আঞ্চলিক জলসীমায় মহড়ার ঘোষণা দিয়ে নোটিস টু এয়ারম্যান (NOTAM) জারি করেছে।
এই সময়সূচির মিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরব সাগরে সামরিক তৎপরতার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি প্রধান পথ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। ধারণা করা হচ্ছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফায় সফর ও ভারতের প্রতি হুমকিকে ঘিরে এমন অবস্থান তৈরী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির সিন্ধু নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানি বন্ধের বিষযে গতকাল বলেন, ‘আমরা বাঁধ নির্মাণের জন্য অপেক্ষা করব। যখন বানানো শেষ হবে; ১০টি মিসাইল মেরে এটি ধ্বংস করে দেব। সিন্ধু নদ ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়। আমাদের মিসাইলের কোনো অভাব নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি পাকিস্তানের অস্তিত্ব হুমকির মুখোমুখি হয়, তাহলে পুরো বিশ্বের অর্ধেক ধসিয়ে দেব। এরপর নিজেরা ধ্বংস হবে।’ তিনি মূলত এই অঞ্চলে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন।
এ ঘটনাপ্রবাহ আসে মাত্র কয়েক মাস আগে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক অচলাবস্থার পর যা পরে যুদ্ধে গড়ায়। গত ৭ মে ভারত এপ্রিলের ২২ তারিখের পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী শিবিরে পাল্টা হামলা চালার দাবি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ভারতীয় ভূখণ্ডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা মোকাবেলায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী ১১টি পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে।
উভয় দেশ ১০ মে নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলিবিনিময় বন্ধ এবং অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়।
সম্প্রতি সংসদে ‘অপারেশন সিনদুর’ নিয়ে এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল। মোদি বলেন, “পাকিস্তান বলেছিল, ‘অনেক মেরেছো, এখন আর বেশি মার সহ্য করার ক্ষমতা নেই।’ তারা আমাদের যুদ্ধ থামাতে বলেছিল।”
পাহালগাম হামলার জবাবে ‘অপারেশন সিনদুর’কে তিনি চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। মোদি বলেন, “৬-৭ মে রাতে আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই অভিযান চালিয়েছি, পাকিস্তান কিছুই করতে পারেনি। মাত্র ২২ মিনিটে আমরা ২২ এপ্রিলের হামলার প্রতিশোধ নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, ভারতের পাল্টা আক্রমণের আগাম ধারণা পেয়ে পাকিস্তান তখন পারমাণবিক হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া