যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘে তার সঙ্গে ঘটা তিন ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন। গত (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এস্কেলেটরে ওঠার সময় তা বন্ধ হয়ে যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বক্তব্য দেওয়ার সময় টেলিপ্রম্পটার ঠিকভাবে কাজ করেনি এবং অডিটোরিয়ামে অডিওজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে ওই তিন ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন ট্রাম্প। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাউন্ড সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে মানুষ ইয়ারপিসের মাধ্যমে অনুবাদ করা বক্তব্য শুনতে পারেন। এর আগে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ট্রাম্পের ভিডিওগ্রাফারের কারণে এস্কেলেটরের সুরক্ষাব্যবস্থা সচল হয়ে গিয়ে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। আর ট্রাম্প ভাষণ দেওয়ার সময় টেলিপ্রম্পটারের দায়িত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলই ছিল, সেখানে জাতিসংঘের কেউ কিছু নিয়ন্ত্রণ করেনি।
ট্রাম্প নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি পাঠাচ্ছেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে সব বিষয়ের তদন্ত দাবি করা হয়েছে সে চিঠিতে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এটি কাকতালীয় ঘটনা নয়। কেউ ইচ্ছা করে এগুলো ঘটিয়েছেন। যারাই ঘটিয়েছেন, তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। এমনকি তাদের গ্রেপ্তার করা উচিত বলেও মনে করছেন ট্রাম্প।
দ্য সানডে টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে জাতিসংঘের কর্মীদের নিজেদের মধ্যে মজা করতে শোনা গেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অপদস্থ করতে এস্কেলেটর বন্ধ করে দেবেন। ট্রাম্প ওই বিষয়টির দিকেও ইঙ্গিত করে বলছেন, এটি ইচ্ছা করেই করা হয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজও ট্রাম্পের সুরেই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনাগুলো অগ্রহণযোগ্য। ওয়াল্টজও আনুষ্ঠানিক তদন্ত চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে আমাদের সুরক্ষা ও মর্যাদার ওপর হুমকি সহ্য করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লিয়াভিট উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কেউ একজন ইচ্ছা করে এস্কেলেটর বন্ধ করে দিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা