মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আজ শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে, মাদক চোরাচালানকারীদের বলে অভিযুক্ত একটি জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি হামলা চালিয়েছে।
এই অভিযানটি ক্যারিবিয়ান সাগরে পরিচালিত হয়। হেগসেথ এই গোষ্ঠীকে ট্রেন দে আরাগুয়ার (Tren de Aragua) নামের একটি অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
হেগসেথ জানান, জাহাজে থাকা ‘‘ছয়জন পুরুষ মাদক-সন্ত্রাসী’’ নিহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদক চোরাচালান দমনের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করে এই অঞ্চলে জাহাজগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হেগসেথ ‘এক্স’ এ অভিযানের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওটির শুরুতে একটি নৌকাকে ক্রসহেয়ারের মধ্যে দেখা যায়, যার পরপরই সেটি ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে বিস্ফোরিত হয়।
গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক সন্দেহভাজন মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এটি দশম হামলা। বেশিরভাগ হামলা দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের কাছে ক্যারিবিয়ান সাগরে হয়েছে, তবে ২১ ও ২২ অক্টোবর প্রশান্ত মহাসাগরেও হামলা চালানো হয়েছে।
আইনগত বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যরা এই হামলার আইনগত বৈধতা এবং প্রেসিডেন্টের এ ধরনের হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
১০ সেপ্টেম্বর, ২৫ জন ডেমোক্র্যাট মার্কিন সিনেটর হোয়াইট হাউসে চিঠি লেখেন এবং অভিযোগ করেন যে প্রশাসন কয়েক দিন আগে এমন একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যার বিরুদ্ধে ‘‘নৌকাটির ব্যক্তি বা এর মালামাল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করেছে, তার কোনো প্রমাণ ছিল না।’’
কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল যুক্তি দিয়েছেন যে, এই ধরনের হামলার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন যে এই হামলাগুলোর নির্দেশ দেওয়ার আইনি কর্তৃত্ব তার আছে এবং তিনি ট্রেন দে আরাগুয়ারকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের গত বুধবার বলেন, ‘‘আমাদের এটা করার অনুমতি আছে, এবং যদি আমরা (হামলা) স্থলপথে করি, তবে আমরা হয়তো আবার কংগ্রেসের কাছে যাব।’’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যোগ করেছেন যে, যদি মানুষ মাদকবাহী নৌকা বিস্ফোরিত হওয়া বন্ধ করতে চায়, তবে তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাঠানো বন্ধ করে।
শুক্রবার হেগসেথ কর্তৃক ঘোষিত অভিযানে ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
মাদকের আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য?
ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে এই হামলাগুলো কেবল মাদক চোরাচালান দমনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর সামরিক চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশলও বটে।
মাদুরো ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের শত্রু। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোকে একটি মাদক চোরাচালানকারী সংগঠনের নেতা হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছেন, যদিও মাদুরো এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/