ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় নিজেদের ৩২ জন যোদ্ধার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছে কিউবা সরকার।
কিউবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেনসা লাতিনা জানিয়েছে, এই কিউবান ‘যোদ্ধারা’ ভেনেজুয়েলা সরকারের অনুরোধে দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষে ‘মিশন পরিচালনার’ সময় নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘তীব্র প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার পর এই কিউবানরা ‘আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অথবা স্থাপনায় বোমা হামলার ফলে’প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ‘কিউবায় তাদের হামলা চালানোর দরকার নেই। দেশটি এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে।’ এএফপির খবর।
এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, হাভানায় নিহতদের সম্মানে ৫ ও ৬ জানুয়ারি দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে এবং পরবর্তীতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা ঘোষণা করা হবে।
হাভানার এই বিবৃতিটি ছিল ওই অভিযানে তাদের নাগরিকদের মৃত্যুর প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। কিউবা ভেনেজুয়েলা সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তারা বছরের পর বছর ধরে লাতিন আমেরিকার এই দেশটির বিভিন্ন অভিযানে সহায়তা করার জন্য সামরিক ও পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে আসছে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর, মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার এই নেতাকে মার্কিন আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মাদুরো অবশ্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
আদালত সূত্র মতে, মাদুরো, তার স্ত্রী এবং অন্য চারজনকে আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাদুরোর ছেলে নিকোলাস আর্নেস্তো মাদুরো; ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিওসদাডো ক্যাবেলো; সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামন রদ্রিগেজ চাসিন এবং গ্যাং ট্রেন ডি আরাগুয়ার নেতা হেক্টর রুস্তেনফোর্ড গুয়েরেরো ফ্লোরেস রয়েছেন।
৬৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের চোখে পট্টি বাঁধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে হাতকড়া পরা ছবি ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ৩৭ বছর আগে পানামায় আক্রমণের পর লাতিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের এটিই সবচেয়ে বিতর্কিত হস্তক্ষেপ।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ভ্লাদিমির পাদ্রিনো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় সেনা, বেসামরিক নাগরিক এবং মাদুরোর নিরাপত্তা দলের একটি ‘বড় অংশকে ঠাণ্ডা মাথায়’ হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের সময় ‘অপরপক্ষে প্রচুর প্রাণহানি ঘটেছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘প্রচুর কিউবান’ নিহত হয়েছে এবং ‘ তবে আমাদের পক্ষে কোনো প্রাণহানি হয়নি।’
এছাড়া, ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেদ্রোকেও হুমকি দিয়ে বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার ওই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযান চালানো তার কাছে ভালো প্রস্তাব বলেই মনে হচ্ছে।’,
এরপর তিনি যোগ করেন, কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কম কারণ দেশটি নিজেই পতনের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবা পতনের মুখে। দেখে মনে হচ্ছে এটি এখনই ভেঙে পড়বে। আমি জানি না তারা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তবে কিউবার এখন কোনো আয় নেই। তারা তাদের আয়ের সবটাই পেত ভেনেজুয়েলা এবং ভেনেজুয়েলার তেল থেকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এখন আর কিছুই পাচ্ছে না। কিউবা আক্ষরিক অর্থেই পতনের জন্য প্রস্তুত। আর আমাদের এখানে অনেক কিউবান-আমেরিকান রয়েছেন যারা এতে অত্যন্ত খুশি হবেন।’
সুলতানা দিনা/