যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর ইরান জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১০ জুন) হামলা এ ঘটনা ঘটে।
এটি গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের একটি। পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশাবাদ প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তেহরান থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)’র বরাতে জানা গেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ‘দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করেছে এবং আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি ও মার্কিন কমান্ড সেন্টারসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে।
জর্দানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এদিকে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি জানানো হলে সেখানে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বাজে বলে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কুয়েতের সামরিক বাহিনীও জানায়, তারা ‘শত্রুতামূলক আকাশ লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করছে, যদিও সরাসরি আক্রমণকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা
মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে।
তিনি এক্স-এ লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।’
হামলার সময় ইরানের দক্ষিণ উপকূলে একাধিক বিস্ফোরণের খবরও পাওয়া যায় বলে দেশটির গণমাধ্যম জানায়।
শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এ জলপথে কার্যত অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তেলের দামও ওঠানামা করছে। বুধবার দাম কিছুটা বেড়েছে, যদিও আগের দিন সম্ভাব্য চুক্তির আশায় তা কমে গিয়েছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বিদেশি বাহিনীকে হরমুজ এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা সংঘর্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমা নয়, এটি ইরান ও ওমানের যৌথ এলাকা।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সীমানার কাছাকাছি থাকা বিদেশি বাহিনী সবসময় ঝুঁকিতে থাকবে।’ সূত্র: এএফপি
নাঈম/