দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় আসার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মুখে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি পদত্যাগ করেন।
গত সেপ্টেম্বরে নেপালের আগের সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেনজি বিক্ষোভের অন্যতম মুখ ছিলেন গুরুং। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতেই’ তিনি পদত্যাগ করছেন।
কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ৩৮ বছর বয়সী গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আজ থেকে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে নৈতিকতা পদ-পদবির চেয়ে বড় এবং জন-আস্থার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই... জনজীবন হতে হবে স্বচ্ছ, নেতৃত্ব হতে হবে জবাবদিহিমূলক।’
গত ২৭ মার্চ দায়িত্ব নেওয়া গুরুংয়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর প্রেস উপদেষ্টা দীপা দাহাল। তিনি জানান, নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজেই পালন করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন গুরুং। পরে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনীতি নিয়ে জনঅসন্তোষ আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।
সেপ্টেম্বরে দুই দিনের সহিংসতায় অন্তত ৭৬ জন নিহত এবং আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গুরুং রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টিতে (আরএসপি) যোগ দেন। মার্চের নির্বাচনে দলটি বিপুল বিজয় অর্জন করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
‘নিরপেক্ষ’ তদন্তের দাবি
তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আর্থিক বিনিয়োগ, সম্পদের উৎস এবং অর্থ পাচারের তদন্তাধীন এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ ওঠে। সরকারের ওপর গুরুংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চাপ বাড়তে থাকে।
বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস বলেছে, গুরুং দায়িত্বে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে না। দলটি গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকাটা স্বাভাবিক’ এবং তারা ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ’ তদন্ত দাবি করে।
গত সোমবার গুরুং এসব অভিযোগকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘অভিযোগ আর সত্য এক বিষয় নয়। সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগের ভিত্তিতে নয়।’ নতুন সরকারে গুরুং দ্বিতীয় মন্ত্রী, যিনি পদত্যাগ করলেন। এর আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শ্রমমন্ত্রীকে অপসারণ করা হয়েছিল। সূত্র: এএফপি