যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে রক্ষায় ইরান তাদের সামরিক ও বেসামরিক বিমান পাকিস্তানে সরিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।
গত সোমবার (১১ মে) সিবিএসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও গোপনে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ অভিযোগ করেছেন। যদিও পাকিস্তান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে কেবল কূটনৈতিক প্রয়োজনে আসা বিমান বলে দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা থেকে রক্ষা করতে ইরানকে এই সুবিধা দিয়েছে পাকিস্তান। শুধু পাকিস্তান নয়, প্রতিবেশী আফগানিস্তানেও ইরান তাদের বেশ কিছু বেসামরিক বিমান সরিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই বিমানগুলোর মধ্যে কোনো সামরিক সরঞ্জাম ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এপ্রিলের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান তাদের একাধিক বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিসংলগ্ন ‘নূর খান’ বিমানঘাঁটিতে পাঠায়। এসব বিমানের মধ্যে একটি আরসি-১৩০ গোয়েন্দা বিমানও রয়েছে।
তবে পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, নূর খান ঘাঁটিটি শহরের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত। সেখানে বড় কোনো বিদেশি বিমান বহর লুকিয়ে রাখা অসম্ভব।
অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানি বিমানের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করলেও সামরিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি চলার সময় কূটনৈতিক প্রয়োজনে এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বিমানগুলো পাকিস্তানে এসেছে। পাকিস্তান কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নেয়নি বরং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। দেশটির একজন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে ইরানের ‘মাহান এয়ার’-এর একটি বেসামরিক বিমান কাবুলে অবতরণ করে। পরে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেলে বিমানটি সেখানেই আটকা পড়ে। মার্চ মাসে পাকিস্তান যখন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে কাবুলে বিমান হামলা শুরু করে, তখন নিরাপত্তার স্বার্থে তালেবান কর্তৃপক্ষ বিমানটিকে কাবুল থেকে সরিয়ে ইরান সীমান্তের কাছে হেরাত বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। যদিও তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই খবর অস্বীকার করে বলেছেন, আফগানিস্তানে ইরানের কোনো বিমানের প্রয়োজন নেই।
আঞ্চলিক এই ভূ-রাজনীতিতে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান বর্তমানে তাদের সামরিক সরঞ্জামের ৮০ শতাংশই চীনের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে। চীন একই সঙ্গে পাকিস্তান ও ইরানের বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগী। ইসলামাবাদ চেষ্টা করছে একদিকে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের ‘শান্তি রক্ষক’ হিসেবে তুলে ধরতে, আবার অন্যদিকে তেহরান ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে। চীনও পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছে।