আমাদের এই পৃথিবীতে জিনদেরও বসবাস রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে তারা মানুষের মাঝে আগমন করে। স্বাভাবিকভাবেই জিনদের সাথে মানুষের ছোটখাটো বা বড় ধরনের নানা ঘটনা ঘটতে পারে। একজন মুসলিম হিসেবে সেই পরিস্থিতিতে আমাদের কী করা উচিত, তা জানা অত্যাবশ্যক।
জিনদের দিয়ে কাজ করানো: আল্লাহতায়ালা হজরত সুলাইমান (আ.)-এর পর জিন জাতিকে অথবা কোনো নির্দিষ্ট জিনকে কারও অধীন করেননি। মূলত দুটি কারণে জিনেরা মানুষের কাজ করে থাকে।
প্রথমত. তারা স্বেচ্ছায় বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে এবং এর মাধ্যমে সওয়াবের অধিকারী হয়। তবে, হারাম বা নিষিদ্ধ কাজে জড়িত হলে তারা গুনাহগারও হয়। যেহেতু জিনরাও ভালো-মন্দ কাজের জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে হিসাব দেবে, তাই কোনো মুসলিম জিন সাধারণত খারাপ কাজ বা মানুষের সাথে অন্যায় আচরণে যুক্ত হয় না। কারণ তারা আখিরাতে বিশ্বাসী।
দ্বিতীয়ত. কিছু মানুষ জিনদের আনুগত্যের মাধ্যমে তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়। এই আনুগত্যের নিদর্শনস্বরূপ তারা জিনদের নামে বিভিন্ন পশু-পাখি, ফল-ফলাদি উৎসর্গ করে, এমনকি নরবলির মতো জঘন্য কাজও করে থাকে। এর মাধ্যমে খারাপ জিনেরা খুশি হয়ে তাদের কাজ করে দেয়। সাধারণত কাফির বা মুশরিক জিনরাই এ ধরনের কাজ করে, যারা মূলত ইবলিশ শয়তানের অনুসারী।
তবে জিনদের মাধ্যমে বৈধ ও শরিয়তসম্মত পার্থিব কাজ করানো জায়েজ। এই ধরনের কাজ করিয়ে নেওয়া সাধারণত আল্লাহতায়ালার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের পক্ষেই সম্ভব হয়। কারণ মুসলিম ও ভালো জিনেরা কেবল তাদের কাছেই আগমন করে।
জিন ও শয়তানের পূজারিদের অনেক কাজ খারাপ জিনেরা করে দেয়। তাই যদি কেউ জিনদের মাধ্যমে কোনো কাজ করানোর দাবি করে, তবে দেখতে হবে সেই ব্যক্তি নিজে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অনুগত কি না এবং কাজটি শরিয়তসম্মত কি না। যদি সেই ব্যক্তি দ্বীনদার না হয় এবং কোরআন-সুন্নাহর প্রকৃত অনুসারী না হয় অথবা কাজটি হারাম হয়, তবে বুঝতে হবে সে হারাম উপায়ে, কোনো জিনের আনুগত্য স্বীকার করে এবং দুনিয়ার লোভে নিজের ঈমান বিক্রি করে এই কাজ করাচ্ছে। এমতাবস্থায়, মুসলিমদের জন্য এমন ভণ্ডদের থেকে দূরে থাকা জরুরি।
যদি কেউ জিনদের দিয়ে শিরকি, কুফরি বা অন্য কোনো বড় গুনাহের কাজ করায়, তবে সেই ব্যক্তি এবং সেই জিন উভয়েই সমান গুনাহগার হবে। এ কারণে জিনদের থেকে যেকোনো ধরনের কাজ নেওয়ার পূর্বে একজন যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক