২০২৫ সাল জুড়েই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা ছিল। লেনদেন বাড়া-কমার বৃত্তেই ঘুরপাক খেয়েছে অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি। অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা খুব একট কাজে আসেনি। সীমিত সময়ের জন্যে লেনদেন বাড়লেও পতন ছিল বেশির ভাগ সময়।
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির তীব্র চাপ, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সুশাসনের অভাব সম্মিলিতভাবে বাজারকে অপরিণত ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি, সুশাসন ও জবাবদিহি। বর্তমান সরকার বছরের প্রথম থেকেই এ তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিলেও শেষ সমষ পর্যন্ত খুব একটা সফল হয়নি।
তারা আরও বলেছেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বাজার বিশ্লেষণ করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়নি।
আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহামেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বর্তমান আস্থার সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের নীতিগত অসংগতি, স্বচ্ছতার ঘাটতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অভাব, বাজারে গুজব ও হস্তক্ষেপ– এগুলো মিলেই বিনিয়োগকারীদের মনে ভীতি তৈরি করেছে। বাজারকে স্থিতিশীল করতে হলে প্রথমেই নীতি-নির্ধারণে ধারাবাহিকতা আনতে হবে, ডিভিডেন্ড নীতি ও করপোরেট গভর্ন্যান্সে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো, নিয়মশৃঙ্খলা জোরদার করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা জরুরি। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গুরুত্ব দেওয়া হলেও শেষ সময় পর্যন্ত এসব উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। বাজারের টানা উত্থান ছিল না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ আল আমিন খবরের কাগজকে বলেন ‘এই বছরের সারাটা সময় জুড়েই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা ছিল। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরেনি বলেই চলে। আস্থা নষ্ট হওয়ার পেছনে মূলত নীতির অসঙ্গতি, বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি বড় ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতে দুর্দশা এবং ক্রমবর্ধমান সুদহার সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা তৈরি করেছে। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও মুনাফায়। ফলে অনেকে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। পুঁজিবাজারের উচ্চ ঝুঁকি এড়িয়ে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে উচ্চ সুদের বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন বলেও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।
বন্ড ও ফান্ডের অনুমোদন কমেছে:
গত বছর বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে পুঁজিবাজার থেকে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ১১টি প্রতিষ্ঠান ১৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল। এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক ও পাঁচটি উৎপাদন খাতের কোম্পানি ছিল। চলতি বছর শুধু ছয়টি ব্যাংকে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, চলতি বছর মাত্র একটি মেয়াদিহীন মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার অর্থ সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করা হয় ২৫ কোটি টাকা। গত বছর চারটি ফান্ড ইস্যুর মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বন্ড ও ফান্ডের অনুমোদন কমায় চলতি বছর পুঁজিবাজারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা কোম্পানির বিনিয়োগের সুযোগ কমেছে। তবে, চলতি বছর রাইট শেয়ারের অনুমোদন বাড়িয়েছে বিএসইসি। বছরটিতে দুটি কোম্পানির ৩২৮ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগের বছরে মাত্র ৯৩ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল।
চলতি বছর নিষ্ক্রিয় ৬৬ হাজার বিনিয়োগকারী:
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গত ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬৫ হাজার ৯৬২টি বিও হিসাবধারী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি বিও হিসাব বন্ধ হওয়ায় বাজার ছেড়েছেন ৪৩ হাজার ২৮৩ জন বিনিয়োগকারী। এ ছাড়া ২২ হাজার ৬৭৯ জন বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব শেয়ার শূন্য হয়েছে আলোচিত সময়ে।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ডিসেম্বর শেষে পুঁজিবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ১৬৯টি। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর যা ছিল ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৪৫২টি। আর গত ১৮ নভেম্বর শেষে শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৩টি গত বছরের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৪টি।
বিও রক্ষণাবেক্ষণ ফি কমিয়েও বিনিয়োগকারীদের রাখা যাচ্ছে না:
চলতি অর্থবছর থেকে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা মাশুল এক-তৃতীয়াংশে নামানো হয়েছে। এতদিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪৫০ টাকা হারে মাশুল নেওয়া হলেও চলতি অর্থবছর থেকে তা মাত্র ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বিও হিসাবের জন্য বিনিয়োগকারীদের রক্ষণাবেক্ষণ মাশুল ৩০০ টাকা কমানো হয়েছে। এই বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি কমিয়েও বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
বিও হিসাবধারীদের লেনদেন সুবিধা দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে নিবন্ধিত ট্রেক সনদ নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে ব্রোকারেজ হাউসগুলো। এখন পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক হোল্ডার হিসেবে ব্যবসা শুরু করেছে ৩০৭টি ব্রোকারেজ হাউস। এর মধ্যে গ্রাহক হিসেবে ঘাটতি থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৫টি ব্রোকারেজ হাউসের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। সচল থাকা বাকি ৩০২টি ব্রোকারেজ হাউসের মূল অফিস ও শাখা অফিসের সংখ্যা প্রায় ১৫০০টি। এর মধ্যে অনেকেই বাজারে লেনদেন কম থাকায় লোকসান এড়াতে শাখা অফিস বন্ধ রাখার পাশাপাশি মূল অফিসের কার্যক্রমও কৌশলে বন্ধ রাখছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মূল অফিস ও শাখা অফিসের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম অঞ্চলে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সবশেষ তথ্য পর্যন্ত ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মূল অফিস ও শাখা অফিস বন্ধ হয়েছে অন্তত ১১৭টি। বাজারে লেনদেন কম হওয়া, সনদ নবায়ন না হওয়া এবং অফিস সংস্কারের কথা জানিয়ে বন্ধ রাখা হচ্ছে এসব হাউস। এর মধ্যে বিকল্প লেনদেন অফিস না থাকায় কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের হিসাবধারী এখন শেয়ার লেনদেনও করতে পারছে না।
পাঁচ ব্যাংক তালিকাচ্যুত:
চলতি বছর পুঁজিবাজার থেকে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। অথচ, ওই ব্যাংকগুলোতে উদ্যোক্তা-পরিচালক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড়ো অংশের মালিকানা ছিল। তালিকাচ্যুত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে এক ব্যাংক গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের অর্থের পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছে সরকার। কিন্তু, পুঁজিবাজারের মাধ্যমে ওই পাঁচটি ব্যাংকে বিনিয়োগ করা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ওই পাঁচটি ব্যাংকের বিনিয়োগের বিপরীতে কিছুই না পায়, তাহলে সেটি পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার যেহেতু আমানতকারীদের অর্থের পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছে, সেহেতু অন্য শ্রেণির কথা বাদ দিলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নতুন ‘টিক সাইজ’ চালু:
চলতি বছর ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে ৮টি। ওই ৮টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিকানা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দখলে রয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এগুলোর অবসায়নের আলোচনা চলছে বছরের শুরু থেকেই। ফলে শেয়ারগুলোর দাম কমতে কমতে টাকার শেয়ার পয়সায় নেমে যায়।
পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এ বছরই কোনো শেয়ার ১ টাকার নিচে নেমেছে। এতে লেনদেন প্রক্রিয়ায় বিঘ্নও ঘটেছে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। কেননা, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ১ টাকার ওপরের সব ধরনের ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের ‘টিক সাইজ’ ১০ পয়সা নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে, সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা রয়েছে ১০ শতাংশ। ৯০ পয়সা দরের শেয়ারে ১০ শতাংশ পরিবর্তন মানে ৯ পয়সা। কিন্তু ‘টিক সাইজ’ যেহেতু ১০ পয়সা, তাই ৯ পয়সা বাড়া বা কমার সুযোগ ছিল না। তা ছাড়া, ১০ পয়সা বাড়িয়ে শেয়ারদর ১ টাকা বা ১০ পয়সা কমিয়ে ৮০ পয়সা করাও সম্ভব নয়– তাহলে সার্কিট ব্রেকারের লিমিট ভাঙবে, নিয়মের লঙ্ঘন হবে। ফলে স্টক এক্সচেঞ্জ ১ টাকার নিচে লেনদেন হওয়া শেয়ারের জন্য নতু ‘টিক সাইজ’ নির্ধারণ করেছে। এখন এক টাকার নিচে নেমে যাওয়া শেয়ারের লেনদেন ৮৯, ৮৮, ৮৭, ৮৬, ৮৫ পয়সা– এ ধরনের সূক্ষ্ম দরেও অর্ডার দেওয়া যাচ্ছে।
একীভূত ব্যাংকের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা ও আমানতকারীদের ভোগান্তি:
বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহ ভিত্তিক ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন। ৩০ অক্টোবর লাইসেন্স পাওয়া এই ব্যাংকটি দেশের বৃহত্তম ইসলামি ব্যাংকে পরিণত হয়, যার পরিশোধিত মূলধন ৩৫,০০০ কোটি টাকা (এর মধ্যে ২০,০০০ কোটি টাকা সরকারের)।
একীভূত হওয়া এই ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকগুলোর ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছে মালিকরা। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের ৩৩ ধারার আওতায় এই পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার শূন্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, উদ্দেশ্য পূরণের জন্য রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ও যোগ্য দায়সমূহ হ্রাস অথবা রূপান্তর করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এটা মূলত হিসাবের বিষয়। তবে এর মাধ্যমে এসব ব্যাংকের শেয়ারধারীর শেয়ার কার্যত শূন্য হয়ে যাবে। তাদের আর কোনো দাবি থাকবে না।
পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমেই কমছে:
দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ ক্রমেই কমছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত (১১ মাসে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদেশিরা মাত্র ৩ হাজার ৮৬২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেছেন। এটি মোট লেনদেনের মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
ডিএসইর তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম মাসে জানুয়ারিতে বিদেশিদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২ কোটি ২০ লাখ, মার্চে ১ কোটি ৪০ লাখ, এপ্রিলে ৩ কোটি ৫০ লাখ, মেতে ৪ কোটি ১০ লাখ, জুন ২ কোটি ৩০ লাখ, জুলাই ৪ কোটি, আগস্ট ৩ কোটি ১০ লাখ, সেপ্টেম্বর ৩ কোটি ৬০ লাখ, অক্টোবর ৩ কোটি এবং নভেম্বরের প্রথমার্ধে ১ কোটি ডলার ছিল। এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে বিদেশিদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে গত ১১ মাসে বিদেশিরা মোট ৩১-৩২ কোটি ডলার লেনদেন করেছেন। প্রতি ডলার ১২২.৩৪ টাকায় এটি বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮৬২ কোটি টাকায়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে ক্রমশ বিদেশিদের বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে, এমএসসিআই ফ্রন্টিয়ার মার্কেট সূচকের রিটার্ন দীর্ঘ মেয়াদে ধীরগতির কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি রিটার্নের আশায় অন্য অঞ্চলের
বাজারে বিনিয়োগ করেছেন।
সার্বিকভাবে চলতি বছরের ১১ মাসে দেশের পুঁজিবাজার পরিস্থিতি হতাশাজনক ছিল। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২৩৭ পয়েন্ট। ডিএসইতে দৈনিক সর্বোচ্চ গড় লেনদেন হয়েছে আগস্টে, ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সর্বনিম্ন দৈনিক গড় লেনদেন ছিল মার্চে, ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, গত নয় বছরে এক্সচেঞ্জের মোট লেনদেনে বিদেশিদের অংশগ্রহণ মাত্র ১ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগে টানা চার বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশিদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে ডিএসইতে বিদেশিদের লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট লেনদেনের ১ দশমিক ২২ শতাংশ।