বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিদায়ী ২০২৪ সাল। আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক অঙ্গনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছে বিশ্ববাসী। তবে বছরের শেষটায় শোক ছেয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে। ২০২৪ এর বিদায়লগ্নে বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বছর শেষ হতে বাকি আর মাত্র এক দিন। নতুন পরিকল্পনা, নতুন স্বপ্ন আর আগামী দিনের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর কথা থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়াবাসীর সঙ্গে শোকে কাতর পুরো বিশ্ব।
এভিয়েশন খাতে ২০২৪ সাল পুরোটাই ছিল দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স থেকে শুরু করে ছোট স্থানীয় বিমান পরিবহন সংস্থা—সবখানেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। চলতি বছর ৩৩ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৯৬ জন। বছর জুড়ে এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এবং আর্থিক ক্ষতির হিসাব আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বলা যায় চলতি বছর ছিল এভিয়েশন খাতে স্মরণীয় এক কালো অধ্যায়।
জানুয়ারিতে ৫ দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬
বছরের প্রথম বিমান দুর্ঘটনার স্বাক্ষী হয় জাপান। ২ জানুয়ারি টোকিও বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা কোস্টগার্ডের ডি হ্যাভিল্যান্ড ড্যাশ এইট বিমানকে ধাক্কা দেয় জাপান এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী ফ্লাইট ৫১৬ (এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০)। এতে দুটো বিমানেই আগুন ধরে যায়। যাত্রীবাহী বিমানটিতে থাকা ৩৭৯ যাত্রীর প্রাণ রক্ষা পেলেও ঘটনাস্থলেই নিহত হন কোস্টগার্ডের ৫ জন কর্মী। এয়ারবাসে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তে বলা হয়, এই দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল যোগাযোগে ত্রুটি এবং অবতরণে ভুল বোঝাবুঝি।
৫ জানুয়ারি মাঝ আকাশে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১২৮২ (বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন)। ওরেগনের পোর্টল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরেই বিমানের দরজার প্লাগ খুলে যায় এবং বিমানের ভেতর বাতাসের প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি হয়, তবে দুর্ঘটনা এড়িয়ে পাইলট বিমানটিকে নিরাপদেই রানওয়েতে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। পাইলটের অসীম সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে কোনোরকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বেঁচে যান বিমানে থাকা ১৭৭ যাত্রী। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তাদের সকল বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন বিমানকে জরুরি অবতরণ করায় এবং অনুসন্ধানে আলাস্কা এবং ইউনাইটেড উভয় এয়ারলাইন্সের বিমানেই দরজার প্লাগ জনিত ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়।
১৯ জানুয়ারি সোমালিয়ায় ত্রাণকার্য পরিচালনার সময় জেটওয়েজ এয়ারলাইন্সের একটি ফকার ৫০ বিমান বিধ্বস্ত হয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পরে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে ছুটে গিয়ে একটি বাড়িতে আঘাত করে। এ ঘটনায় পাইলট নিহত হলেও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বিমানে থাকা বাকি ৩ জন।
২৩ জানুয়ারি ফোর্ট স্মিথ থেকে কানাডার ডায়াভিক ডায়মন্ড মাইনে খনি শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার সময় নর্থওয়েস্টার্ন এয়ারের ফ্লাইট ৭৩৮ (ব্রিটিশ অ্যারোস্পেস জেটস্ট্রিম) উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি আকাশ থেকে ১ হাজার ৬০০ ফিট নিচে সরাসরি মাটিতে আঘাত করে। বিমানে থাকা ৭ যাত্রীর ৬ জনই নিহত হন।
২৪ জানুয়ারি বেলগোরোডের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দী পরিবাহী একটি রাশিয়ান সামরিক পরিবহন বিমান (ইলিউশিন আইএল-৭৬) বিধ্বস্ত হয়। এ হামলায় ৬৫ ইউক্রেনীয় সেনাসহ বিমানে থাকা ৭৪ জনের সবাই নিহত হয়। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে চালানো এ হামলায় ইউক্রেনের হাতেই মারা পড়ে তাদের নিজস্ব সৈন্য।
ফেব্রুয়ারিতে ৩ দুর্ঘটনায় নিহত ৩
৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চিলির র্যাঙ্কো হ্রদে একটি রবিনসন আর-৪৪ র্যাভেন টু হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারটি চালাচ্ছিলেন চিলির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সেবাস্তিয়ান পিনেরা, তার সঙ্গে ছিলেন ৩ বন্ধু। সেই ৩ বন্ধু বেঁচে গেলেও দুর্ভাগ্যবশত মারা পড়েন পিনেরা।
৯ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার কলিয়ার কাউন্টিতে জরুরি অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় হপ-এ-জেট ফ্লাইট ৮২৩ (বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০)। বিমানে থাকা পাঁচজনের মধ্যে দুজন নিহত হন।
১৮ ফেব্রুয়ারি বেলগ্রেড নিকোলা টেসলা বিমানবন্দর থেকে টেকঅফের সময় ল্যান্ডিং লাইটে আঘাত করে ম্যারাথন এয়ারলাইন্স পরিচালিত এয়ার সার্বিয়া ফ্লাইট ৩২৪ (এমব্রেয়ার ১৯৫)। এতে বিমানটির ফুয়েল ট্যাংক ছিদ্র হয়ে যায়। এ অবস্থায় বিমানটি প্রায় ১ ঘণ্টা আকাশে ওড়ে। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পাইলট বিমানটি জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন এবং কোনো আঘাত ছাড়াই বিমান থাকা ১১১ জনের সবাই রক্ষা পান।
মার্চে ৪ দুর্ঘটনায় নিহত ১৭
৫ মার্চ মোম্বাসায় মাঝ আকাশে স্থানীয় ফ্লাইং স্কুল দ্বারা পরিচালিত সেসনা ১৭২ প্রশিক্ষণ বিমানের সঙ্গে নাইরোবি থেকে আসা সাফারিলিংক এভিয়েশন ফ্লাইট ৫৩ (ড্যাশ ৮-৩০০) এর সংঘর্ষ হয়। ৩৯ যাত্রী এবং ৫ ক্রু নিয়ে ড্যাশ এইট বিমানটি উইলসন বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে পারলেও প্রশিক্ষণ বিমানটি নাইরোবি ন্যাশনাল পার্কে বিধ্বস্ত হয় এবং বিমানে থাকা দুজনই নিহত হন।
১০ মার্চ লাটাম এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৮০০ (বোয়িং ৭৮৭-৯) সিডনি থেকে অকল্যান্ডে যাত্রার সময় ঝড়ের কবলে পরে। এতে বিমানটিতে থাকা ২৭২ আরোহীর ৫০ জন আহত হন। তবে এ ঘটনা সত্ত্বেও ফ্লাইটটি অকল্যান্ড বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
১২ মার্চ বেলগোরোডের কাছে ইঞ্জিনে আগুন লেগে একটি রারাশিয়ান সামরিক পরিবহন বিমান (ইলিউশিন আইএল-৭৬) বিধ্বস্ত হয় এবং বিমানে থাকা ১৫ জনের সবাই নিহত হন।
৩১ মার্চ দক্ষিণ সুদানের মালাকাল বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ের পাশে পড়ে থাকা আফ্রিকান এক্সপ্রেস এয়ারওয়েজের বিধ্বস্ত বিমান ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-৮২ এর সঙ্গে সেফ এয়ার কোম্পানির কার্গো ফ্লাইট বোয়িং ৭২৭-২০০ বিমানের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনাটি বেশ বড় হলেও বোয়িং এ থাকা ৭ জন ক্রুই প্রাণে বেঁচে যান। তাদের ১জন সামান্য আহত হয়েছিলেন।
এপ্রিলে ২ দুর্ঘটনায় নিহত ২০
১৮ এপ্রিল পশ্চিম কেনিয়ায় একটি বেল ইউএইচ-১ হুয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে কেনিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ফ্রান্সিস ওগোল্লাসহ কেনিয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১০ সদস্য নিহত হন।
২৩ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় কুচকাওয়াজের মহড়ার অংশ হিসেবে একটি ফরমেশন ফ্লাইটের সময় রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীর 'লিওনার্দো এডব্লিউ ১৩৯' এবং 'ইউরোকপ্টার ফেনেক' দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দুই হেলিকপ্টারে থাকা ১০ জনের সবাই নিহত হন।
মে মাসে ২ দুর্ঘটনায় নিহত ৬
১৯ মে পূর্ব আজারবাইজানের ভারজাকান শহরের কাছে একটি বেল ২১২ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমাতি এবং পূর্ব আজারবাইজানে সুপ্রিম লিডারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী আলে-হাশেমসহ ৫ জন নিহত হন।
২১ মে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩২১ (বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর) ২২৯ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। মাঝ আকাশে বিমানটি কারিগরী ত্রুটির সম্মুখীন হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জরুরি অবতরণ করে। এ ঘটনায় হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে এক ১ নিহত হন এবং ১০৪ জন যাত্রী আহত হন।
জুনে ২ দুর্ঘটনায় নিহত ১০
৭জুন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তে একটি বিচক্রাফট টি-৩৪ মিলিটারি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নাসার সাবেক মহাকাশচারী এবং যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর পাইলট বিল অ্যান্ডারস নিহত হন।
১০ জুন মালাউইয়ের মিজিম্বা জেলার চিকানগাওয়া ফরেস্ট রিজার্ভে মালাউই এয়ার ফোর্সের ডর্নিয়ার ২২৮ টার্বোপ্রো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মালাউইয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাওলোস চিলিমা, প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি প্যাট্রিসিয়া শানিল মুলুজিসহ ৯ জন নিহত হন।
জুলাই মাসে ২ দুর্ঘটনায় নিহত ২১
১২ জুলাই মস্কোর কাছে জরুরি অবতরণের সময় গাজপ্রোমাভিয়া ফ্লাইট ৯৬০৮ (সুখোই সুপারজেট ১০০-৯৫এলআর) বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ৩ ক্রু নিহত হন। ফেরি ফ্লাইটটি লুখোভিটসি থেকে যাত্রা করেছিল।
২৪ জুলাই কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নেপালের সৌর্য এয়ারলাইন্সের একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট (বোম্বারডিয়ার সিআরজে-২০০ইআর) উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়। ফ্লাইটের ১৯ জন যাত্রীর ১৮ জনই নিহত হন, গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে যান পাইলট।
আগস্টে ৩ দুর্ঘটনায় নিহত ৯৩
৯ আগস্ট ব্রাজিলে সাও পাওলোর ভিনহেডোর কাছে একটি আবাসিক এলাকায় টোটাল লিনহাস এয়ারসের ফ্লাইট ২২৮৩ (এটিআর ৭২-৫০০ ভয়েপাস) বিধ্বস্ত হয়ে ৫৮ যাত্রী এবং ৪ ক্রুসহ ৬২ জন নিহত হয়৷ বিমানটিতে আগুন ধরে যাবার কারণে দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করা যায়নি।
২২ আগস্ট থাইল্যান্ডে একটি ম্যানগ্রোভ বনে থাই ফ্লাইং সার্ভিসের ফ্লাইট ২০৯ (সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান ২০৮বি) বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ৯ যাত্রীর সবাই নিহত হয়।
৩১ আগস্ট কামচাটকা উপদ্বীপে একটি ভিটযে অ্যারো মিল এম আই ৮ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ২২ জন নিহত হন।
অক্টোবরে হামলায় নিহত ৫
২১ অক্টোবর সুদানের দারফুরে একটি রাশিয়ান সামরিক পরিবহন বিমানকে (ইলিউশিন আইএল-৭৬) গুলি করে ভূপতিত করে সুদানের আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস-আরএসএফ। এতে বিমানে থাকা ৫ যাত্রীর সবাই নিহত হন।
নভেম্বরে ২ দুর্ঘটনায় নিহত ১
৯ নভেম্বর টোটাল লিনহাস এয়ারসের ফ্লাইট ৫৬৮২ (বোয়িং ৭৩৭-৪কিউ৮) এ আগুন ধরে গেলে বিমানটি ব্রাজিলের সাও পাওলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরী অবতরণ করে। এ দুর্ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত না হলেও বিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
২৫ নভেম্বর জার্মানির লাইপজিগ থেকে লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াস যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবা ডিএইচএল এর সুইফটেয়ার ফ্লাইট ৫৯৬০ (বোয়িং ৭৩৭-৪০০) বিধ্বস্ত হয়৷ এতে একজন ক্রু সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
ডিসেম্বরে ৮ দুর্ঘটনায় নিহত ২৩৪
১৭ ডিসেম্বর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের হনুলুলু বিমানবন্দরের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পণ্যবাহী বিমান ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হয়, পাইলটদের প্রশিক্ষণ চলার সময়ে বিমানটি ভেঙে পড়ে তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
১৮ ডিসেম্বর ক্লাব অ্যাটলেটিকো রিভার প্লেটের সভাপতির মালিকানাধীন একটি বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৩০০ আর্জেন্টিনার সান ফার্নান্দোতে অবতরণের সময় রানওয়ে অতিক্রম করে একটি বাড়ির সামনে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই বিমানে থাকা দুই পাইলট নিহত হন।
২২ ডিসেম্বর পরপর ২ টি দুর্ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ ব্রাজিলের পর্যটন শহর গ্রামাদোতে একটি পাইপার পিএ-৪২ চেয়েন্নে বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাড়ির চিমনিতে ধাক্কা মারে। তারপর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ১০ যাত্রীর সবাই নিহত হয়। এবং ধাক্কা লাগা বাড়ির ১৭ সদস্য গুরুতর আহত হন।
একইদিন পাপুয়া নিউগিনিতে একটি বিমান ভেঙে পড়ে। তাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে ঠিক কি কারণে সেটি বিধ্বস্ত হয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ান সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আজারবাইজান থেকে রাশিয়াগামী আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৮২৪৩ (এমব্রেয়ার ই-১৯০এআর) কাজাখস্তানের আকতাউ-এর কাছে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানের ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। বিমান ভূপতিত করার বিষয়টি ঘটনা সরাসরি স্বীকার না করলেও এ ঘটনার জন্য আজারি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
২৯ ডিসেম্বর কাছাকাছি সময়ে ৩টি দুর্ঘটনা ঘটে।
কোরিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় ক্রু ও পাইলটসহ ১৮১ জন বহনকারী জেজু এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট দেশটির মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুব বাজেভাবে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। ২২১৬ নম্বরধারী এই ফ্লাইটের বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের একটি এইট এএস উড়োজাহাজ (বোয়িং ৭৩৭-৮এএস)। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ১৮১ জনের ১৭৯ জনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়েছেন মাত্র দুইজন ক্রু। তাদের গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
একইদিনে নরওয়ে থেকে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে যাত্রা করে রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের পরপরই জরুরি অবতরণের চেষ্টা করলে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিমানটি। এতে ১৮২ জন যাত্রী ছিলেন। সবাই অক্ষত আছেন।
এঘটনার কিছুসময় পরই কানাডায় একটি যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এয়ার কানাডার বিমানটি দেশটির হ্যালিফ্যাস্ক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে। এ সময় প্রচণ্ড গতিতে পিছলে গিয়ে এতে আগুন ধরে যায়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বছরের শেষ মাসে এসে আকাশপথ যেন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বিমানগুলো ভেঙে পড়ার নেপথ্যে কোথাও প্রতিকূল আবহাওয়া, কোথাও প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যে আরো বেশি সুরক্ষাবিধি প্রণয়ন করা প্রয়োজন, এ বিষয়ে বিশ্বের সকল বিমান বিশেষজ্ঞরাই একমত। এসকল দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানবিক বিপর্যয়ও ডেকে আনে।
সিফাত/