প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষের সাক্ষাৎ নিয়েছেন খবরের কাগজের নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশ্ন: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি কেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আলাদা?
উত্তর: এটি শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। এ জন্যই এটি অনন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীরা কেবল অ্যাকাডেমিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বাস্তবমুখী শিক্ষা, যেমন ইন্ডাস্ট্রি সংযোগ, ইনটার্নশিপ, ওয়ার্কশপ এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে পেশাগতভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টি নিবেদিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলশানের আধুনিক ক্যাম্পাস, সুসংগঠিত ট্রান্সপোর্ট সুবিধা, মেয়েদের হোস্টেল এবং সময়োপযোগী কারিকুলামে সমৃদ্ধ। এভাবেই প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, মানবিক ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে। এসব বিবেচনায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি দেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কি কর্মমুখী প্রোগ্রাম চালু রয়েছে? এ সম্পর্কে বলুন।
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। রয়েছে প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব, রোবোটিক্স ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, ফিল্ড ওয়ার্ক ও দেশের সর্ববৃহৎ কোম্পানিগুলোতে সাইট ভিজিটের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা কেস স্টাডি, ইন্ডাস্ট্রি ট্রিপ এবং ইনটার্নশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে। মক ট্রায়াল, পাবলিক স্পিকিং, ডিবেট ও কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্টের মতো বাস্তবমুখী কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা যুক্ত থাকে। সব বিভাগের জন্য রয়েছে ক্যারিয়ার সার্ভিস, পেশাগতভাবে দক্ষ হয়ে ওঠার সুযোগ। এই কর্মমুখী দৃষ্টিভঙ্গিই প্রেসিডেন্সিকে অনন্য করে তুলেছে।
প্রশ্ন: কর্মমুখী উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
উত্তর: সফলতা মানেই ভালো ফলাফল, এই সীমাবদ্ধ ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার সময় এখন। কারণ বর্তমান বিশ্বে কেবল মেধা নয়, প্রয়োজন দক্ষতা, মানসিক শক্তি ও মানবিকতার সমন্বয়। এই প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বিশেষ করে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি কর্মমুখী উচ্চশিক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিশ্বাসে প্রেসিডেন্সি গড়ে তুলছে আগামী দিনের আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্ব।
প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান পেতে আপনারা কী কী উদ্যোগ নিচ্ছেন? কোন কোন ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছেন?
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জনের লক্ষ্যে একাধিক কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গবেষণায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা ও মনোযোগ পায়।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অ্যাকাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বৈশ্বিক সংযোগ স্থাপন করছে। টিচিং কোয়ালিটি উন্নয়নে চালু আছে নিয়মিত টিচার ট্রেনিং ও ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ল্যাব এবং ইন্ডাস্ট্রি কোলাবরেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব উদ্যোগ র্যাংকিং উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
প্রশ্ন: দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিসহ কী কী সুবিধা রয়েছে?
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বিশ্বাস করে প্রতিভা আর স্বপ্নের পথ যেন কখনো আর্থিক সীমাবদ্ধতায় থেমে না যায়। প্রতি সেমিস্টারে মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ, গবেষণাভিত্তিক অনুদান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের চাকরি ও ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম আছে কি?
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি চাকরি এবং ক্যারিয়ার গঠনে বাস্তবমুখী প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আমাদের কারিকুলাম ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিকভাবে ডিজাইন করা। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার আগেই চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল উন্নয়নের জন্য নিয়মিতভাবে সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও ট্রেনিং প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। আমাদের জব প্লেসমেন্ট ইউনিট বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোলাবরেশন করে, যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্যাম্পাস থেকেই চাকরির সুযোগ পায়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী ‘আবুল খায়ের গ্রুপ’-এর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির কার্যকর পার্টনারশিপ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবছর বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়, যেখানে শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ করে দেয়। যারা উদ্যোক্তা হতে চান বা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আলাদা গাইডলাইন ও মেন্টরশিপ সাপোর্টও প্রদান করা হয়। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে এক শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়।
প্রশ্ন: ছাত্রছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করতে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবগুলো কেমন ভূমিকা রাখছে?
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বিশ্বাস করে একজন শিক্ষার্থীকে শুধু অ্যাকাডেমিক শিক্ষায় দক্ষ হলেই চলে না, বরং তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ক্লাবভিত্তিক অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এই লক্ষ্যে গড়ে তুলেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব।
প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ কেমন? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি গবেষণাকে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বতন্ত্র রিসার্চ সেন্টার গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিতভাবে গবেষণার পরিকল্পনা, পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করে। গবেষণামুখী সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা তহবিল (Research Fund) প্রদান করা হয়, যাতে তারা নিজ নিজ বিষয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান চালাতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা জার্নাল প্রকাশ করে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিজস্ব গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগ পান। শুধু তাই নয়, গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত সেমিনার, কনফারেন্স এবং ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অর্জন কী? (বিতর্ক, রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা বা যেকোনো আন্তর্জাতিক অর্জন)
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে চলেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ইন্টার-ইউনিভার্সিটি রিসার্চ পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় প্রেসিডেন্সির শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী হয়। বুয়েট, খুলনা ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে প্রেসিডেন্সির এই অর্জন আমাদের গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার মান ও প্রস্তুতির উৎকর্ষ তুলে ধরে।
প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কি? করলে সেগুলো কী কী?
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যতিক্রমী দিক হলো প্রতিটি কোর্সে বাস্তব প্রজেক্ট, কেস স্টাডি এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্টের সংযোজন। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাস্তব প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে শেখে। শুধু প্রযুক্তিগত বা প্রফেশনাল স্কিল নয়, নৈতিকতা, দলগত কাজের মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতেও প্রেসিডেন্সি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
প্রশ্ন: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রতিবছর জব ফেয়ার বা এ ধরনের আয়োজন করা হয় কি?
উত্তর: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি প্রতিবছর নিয়মিতভাবে জব ফেয়ার, ক্যারিয়ার ফোরাম ও ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট ড্রাইভের আয়োজন করে থাকে, যা শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশের বাস্তব ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এসব আয়োজনে দেশের স্বনামধন্য করপোরেট সংস্থা ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আবুল খায়ের গ্রুপ, যাদের সঙ্গে একটি পারফরমেন্স-বেইজড নিয়োগ প্রোগ্রাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু আছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলুন।
উত্তর: দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অপরিহার্য ও গতিশীল অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।