সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি মন্ত্রণালয় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আপাতত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
তারা জানান, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় চলে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে। এ ছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জিপিও ভবনে, শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম ভবনে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ক্রীড়া পরিষদ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরে এবং সড়ক বিভাগ স্থানান্তরিত হচ্ছে রেল ভবনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল খবরের কাগজকে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে অত্যাবশ্যকীয় নাগরিকসেবা দিয়ে থাকে। এই মন্ত্রণালয়ের অধীন দুই বিভাগের সব কার্যক্রম দেশের সাধারণ প্রান্তিক মানুষের জন্য। বুধবার সংঘটিত আগুনে এই মন্ত্রণালয়ে সপ্তম তলায় উপদেষ্টার দপ্তর ও অষ্টম তলায় দুই বিভাগের দুই সচিবের দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শাখার দলিল-দস্তাবেজ, কম্পিউটার, আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় সব কিছু পুড়ে গেছে। কিন্তু সরকারের অতি জরুরি নাগরিক সেবার এই দপ্তরগুলো বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই আপৎকালীন সময়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ আপাতত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে শিফট হচ্ছে। সেখান থেকেই এই মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভাগ দুটোর কার্যক্রম চালানো হবে।
এ ছাড়া একই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু শাখা বা উইং রয়েছে। সেখানে আগুনে না পুড়ে গেলেও, ওপরের তলাগুলোর আগুন নেভাতে যে পানি ব্যবহার করা হয়েছে তার কারণে এই দুই তলার নথিপত্র, আসবাবপত্র অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এই ভবনে এখন মন্ত্রণালয়ের বা বিভাগের কাজ করার মতো অবস্থা নেই। আপাতত নগর ভবনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানান, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে এই মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ দুটো তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর একটি কমিটি যেসব নথিপত্র পুড়ে গেছে, তার পরিমাণ এবং এতে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবে। অপর কমিটি আসবাবপত্র, কম্পিউটারসহ অন্য যেসব ব্যবহার্য জিনিসের ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
এখানে তো মন্ত্রণালয়ের কাজ চালাতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, আপতত রবিবার থেকে বিজয়নগরের শ্রম অধিদপ্তরের যে শ্রম ভবন আছে, তার সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কাজ চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিস্তৃত পরিসরে মন্ত্রণালয়ের কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য দ্রুত কী করতে হবে তা সেখানে বসেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আপাতত সেখানেই কাজ চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কোথায় যাবে এ প্রশ্নের উত্তরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ কার্যক্রম ই-নথির (অনলাইন) মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। বুধবারের অগ্নিকাণ্ডে তাই নথিপত্রের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তাই খুব বেশি অসুবিধা হবে না। এই মন্ত্রণালয়ের হার্ডফাইল খুব কম।
তিনি বলেন, তবে যেহেতু এমন একটা ঘটনা ঘটেছে এবং সত্যি বলতে এখানে বসে মন্ত্রণালয়ের কাজ করার অবস্থা আর নেই। তাই আপাতত এই মন্ত্রণালয়ের কিছু শাখা ক্রীড়া পরিষদ ভবনে এবং কিছু শাখা জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরে স্থানান্তরিত হবে। এটাই এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জানে-ই-আলম খবরের কাগজকে জানান, আগামী রবিবার থেকে পল্টনের জিপিও ভবনের একটি ফ্লোরে (তিন তলা) মেইলিং অপারেটর অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্সিং অথরিটির (এমওসিএসএলএ) অফিসে সচিবের দপ্তরসহ অন্য দপ্তরগুলো স্থানান্তর হবে। মন্ত্রণালয় পুড়ে যাওয়া দপ্তরের সংস্কার শেষ করে ব্যবহার উপযোগী করার আগ পর্যন্ত সেখানেই কার্যক্রম চলবে। তিনি জানান, তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা যেহেতু তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাও তাই তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে বসে এই মন্ত্রণালয়ের কাজ দেখাশোনা করবেন। আর সচিবসহ অন্য শাখাগুলো জিপিও ভবনে যাবে, এটাই এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।
এদিকে সচিবালয়ের নবম তলার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেল ভবনে। সচিবালয়ের কাছাকাছি এই ভবনের দশম তলায় আপাতত বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিবের দপ্তর ও অন্য শাখাগুলো স্থানান্তরিত হবে। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের অফিস আগে থেকেই রেল ভবনে রয়েছে। কারণ তিনি এই মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টা।
এই বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিবের দপ্তরসহ যেসব শাখা পুড়ে যাওয়া ভবনের নবম তলায় রয়েছে, আপাতত এই দপ্তরগুলোই সেখানে যাবে। সেখানে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে গতকাল শুক্রবার সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রেল ভবনের দশম তলা পরিদর্শন করে এসেছেন। আজও (শনিবার) কর্মকর্তারা যাবেন সেখানে। কোথায় কীভাবে কর্মকর্তাদের বসার জায়গা হবে সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।