বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগেই। মাঠে গড়িয়েছে বল, বাজছে গ্যালারির গান। তবু ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে যেন আসরের আসল আবহ শুরু হয় তখনই, যখন সবুজ-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামে ব্রাজিল। সেই প্রতীক্ষার অবসান। বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল শুরু করছে তাদের নতুন যাত্রা।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে মরক্কোর। বাংলাদেশ সময় ম্যাচ শুরু হবে রবিবার ভোর ৪টায়। তবে এই ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের নয়, এটি ব্রাজিলের জন্য নতুন স্বপ্নের প্রথম ধাপ। বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ শিরোপা, ‘হেক্সা’র পথে প্রথম পদচিহ্ন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্য আর কোনো দলের নেই। সবচেয়ে বেশি ১১৪ ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি ৭৪ জয়, সবচেয়ে বেশি পাঁচটি শিরোপা; সবখানেই সেলেসাওদের নাম সবার ওপরে। আর ১৯৩০ থেকে শুরু হওয়া প্রতিটি বিশ্বকাপেই অংশ নেওয়ার অনন্য রেকর্ডও তাদের।
তবে শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি ২০০২ সালের। তারপর কেটে গেছে ২৪ বছর। কাতারে চার বছর আগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা এখনো তাড়া করে ফেরে। এবার সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর মিশন নিয়েই মাঠে নামছে ব্রাজিল।
এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গল্পে নতুন চরিত্র কার্লো আনচেলত্তি। গত বছরের মে মাসে ইতিহাস গড়ে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেয় ইতালিয়ান কিংবদন্তিকে। ক্লাব ফুটবলে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য শিরোপা জেতা এই কোচ এবার জাতীয় দলের মঞ্চে নতুন গল্প লিখতে চান।
বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পথটা অবশ্য খুব মসৃণ ছিল না। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে ১৮ ম্যাচে ৮ জয়, ৪ ড্র আর ৬ হারে পঞ্চম হয়ে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করে ব্রাজিল। শেষ বাছাই ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে ১-০ গোলে হার, পরে জাপান ও ফ্রান্সের বিপক্ষেও পরাজয় ছিল হতাশার। তবে শেষ তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও মিসরের বিপক্ষে ১১ গোল করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়েছে আনচেলত্তির দল।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অবশ্য নেই বড় তারকা নেইমার। কাফ ইনজুরির কারণে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার ওয়েসলিও ছিটকে গেছেন চোটে। তবে তাতেও শক্তিতে ঘাটতি নেই ব্রাজিলের।
গোলবারে থাকছেন অভিজ্ঞ অ্যালিসন বেকার। রক্ষণে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারাইস। আক্রমণে ভরসা রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও বার্সেলোনার রাফিনহা। স্ট্রাইকার হিসেবে মাতেউস কুনিয়া, এন্দ্রিক কিংবা ইগর থিয়াগোর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে পারেন আনচেলত্তি।
প্রতিপক্ষ মরক্কোও হালকাভাবে নেওয়ার মতো নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলা দলটি গত কয়েক বছরে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও তারা এখন সপ্তম।
তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের গল্প আলাদা। আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে আট ম্যাচের সাতটিতেই জয় তাদের। একমাত্র ব্যতিক্রম কাতারে ক্যামেরুনের কাছে হার। আনচেলত্তিও জানেন শুরুটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, ‘প্রথম ম্যাচ সবসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচই গ্রুপের পথ অনেকটা ঠিক করে দিতে পারে।’
বিশ্বকাপের আলো জ্বলে উঠেছে আগেই। কিন্তু সাম্বার দেশের কোটি সমর্থকের কাছে আজই যেন উৎসবের সত্যিকারের শুরু।