ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতির ব্যবস্থা করছে আ.লীগ: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতির ব্যবস্থা করছে আ.লীগ: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : খবরের কাগজ

মেগা প্রজেক্ট দিয়ে মেগা দুর্নীতির ব্যবস্থা করছে আওয়ামী লীগ সরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে মানিকগঞ্জের মুন্নু সিটিতে জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে 'গণতন্ত্র উত্তরণ, মত প্রকাশ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও খাল খনন কর্মসূচি: জিয়াউর রহমানের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আপনারা একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা কমিশন ছাড়া কোন কাজ কাজ করেনা। প্রতিনিয়ত তারা নতুনভাবে উপায় খুঁজে কীভাবে দুর্নীতি করা যায়।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি একটি বিপর্যয়ের মধ্যে চলে এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এগুলো স্বীকার করতে চায় না। তারা সবসময় বলে দেশের অর্থনীতি ভালো আছে। কারণ তাদের দুর্নীতিতো চলমান রয়েছে।

মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতিবাজ তৈরি করছেন। তারাই আজিজ ও বেনজীরের মতো দুর্নীতিবাজ দেশে তৈরি হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ আর কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তারা চরমভাবে ব্যাংকক্রাফট হয়ে গেছে। তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে তাই দুর্নীতিবাজ আমলাদের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় টিকে আছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। অথচ ৪৩ বছর ধরে তার এই ইতিহাস জাতির নিকট ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু ছিল ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরে রক্ষা করেছিলেন।

সেমিনারে অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। এছাড়া, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক ড. তাজমেরী ইসলাম, অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ ও অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আফরোজা খানম রিতা প্রমুখ।

এর আগে, দুপুর একটার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সেওতা এলাকায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্বোধন করেন।

আসাদ জামান/এমএ/

বিএনপি-জামায়াত অহিংসতার নামে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছে: জয়

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৯ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৯ পিএম
বিএনপি-জামায়াত অহিংসতার নামে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছে: জয়
সজীব ওয়াজেদ জয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র তাদের নিজেদের সহিংস আন্দোলন চালাতে একটি অরাজনৈতিক ও অহিংস আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে। 

তিনি এক্সে সাম্প্রতিক এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এ রকম শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন কীভাবে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সহিংসতা এবং লুটপাটের আন্দোলনে পরিণত হলো? কারণ বিএনপি ও জামায়াত জোট তাদের নিজস্ব একটি সহিংস আন্দোলন চালানোর জন্য মূলত একটি অরাজনৈতিক ও অহিংস আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে।’ খবর বাসসের। 

জয় লিখেছেন, ‘স্বার্থান্বেষী মহলের সম্পৃক্ততা উপলব্ধি করে, প্রতিবাদকারীরা নিজেরাই সহিংসতায় লিপ্ত থাকার কথা অস্বীকার করে বেশ কয়েকটি বিবৃতি দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি তৃতীয় পক্ষ জড়িত, যার সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।’ 

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে এই কাপুরুষরা বিক্ষোভকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দিয়ে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে। তারা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সরকারি ও বেসরকারি পরিবহন এবং সম্পত্তি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহকে টার্গেট করেছে।’

জয় বলেন, ‘তারা যেখানেই সুযোগ পেয়েছে সেখানেই সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতেও ব্যাপক লুটপাট করেছে। তারা একটি কারাগারে হামলা করে সকল বন্দিকে মুক্ত ও অস্ত্র লুট করে।’ 

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতার কারণেই সরকার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন এবং অস্থায়ীভাবে কারফিউ জারির মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর কারণ হলো, সহিংসতা প্রতিরোধ, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষা এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’ 

দেশের শিক্ষার্থীরা মোটেও সন্ত্রাসী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত চক্র তাদের বাংলাদেশ ভাঙার দলীয় এজেন্ডার আড়ালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে।’ 

তিনি মঙ্গলবারের ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত কীভাবে সাধারণ ছাত্রদের বাংলাদেশ ভাঙার দলীয় এজেন্ডার জন্য ব্যবহার করেছে, জনগণ রাষ্ট্রের এই শত্রুদের ক্ষমা করবে না।’ 

অন্য এক পোস্টে জয় একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করে উল্লেখ করেছেন, ‘যখন আওয়ামী লীগ সরকার এবং ছাত্র আন্দোলনকারীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার বা বিলুপ্তি নিয়ে একই আন্দোলনে ছিল, তখন কীভাবে শান্তিপূর্ণ ও অরাজনৈতিক কোটা আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠল?’

১৮ জুলাইয়ের এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে বলেছেন, ‘এই ভিডিও থেকে তিনটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়। কোনো ছাত্র সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির প্রতি এতটা অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে পারে না। এসব ঘটনার জন্যই কারফিউ আরোপ করতে হয়েছে এবং সরকারের এসব পদক্ষেপ তাদের একটি ইতিবাচক দায়িত্ব।’

সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: কাদের

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম
সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: কাদের
ওবায়দুল কাদের

কোটা আন্দোলনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা এই ধরনের ঘৃণিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশবিরোধী এই অপশক্তি বিভিন্ন ধরনের গুজব সৃষ্টি করছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’ 

বুধবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সংসদীয় আসন ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সংসদীয় আসন ঢাকা-১৮-এর সংসদ সদস্য, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির মূল উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়া। উন্নয়ন-অগ্রগতির চলমান চাকাকে থামিয়ে দিতে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা সুপরিকল্পিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। যে উন্নয়ন-অগ্রগতির মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ হয়েছে, জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে, সেই উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাকে থমকে দেওয়ার অপচেষ্টা করা এবং তার ওপরে ন্যক্কারজনক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো একটি গণবিরোধী রাজনৈতিক অপশক্তির পক্ষেই সম্ভব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই অপশক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মূল চেতনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, যা আমরা কোনোভাবেই হতে দিতে পারি না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা পূরণে কোনো অপশক্তিকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে জামায়াত-শিবির সহিংসতা চালিয়েছে, আর পেছন থেকে মদদ দিয়েছে বিএনপি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্য সম্পূর্ণ নিখাদ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিস্তার ঘটানো হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমন্বয়করা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, এ ধরনের ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা এর দায়ভার নেয়নি।’

কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধু নয়, সারা দেশবাসীর কাছে এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসন্ত্রাসের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী জড়িত।’ 

বৈঠকের পর ঢাকা-১৩ আসনের আদাবরে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় স্থানীয় এমপি এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বক্তব্য রাখেন। 

পরে শ্যামলীর একটি মার্কেটের সামনে খাদ্যবিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আক্রান্ত হলে আমরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারি না। মির্জা ফখরুল এখনো মিথ্যাচার করছেন। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নেই। মির্জা ফখরুল এখনো ধ্বংসের সুরে কথা বলছেন, আগুনের কথা বলছেন। আপনারা এ দেশ চাননি, মুক্তিযুদ্ধ চাননি; আপনারা পদ্মা সেতু চাননি, মেট্রোরেল চাননি। আজ মেট্রোরেল বন্ধ, ধ্বংসলীলায় পরিণত।’

দেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে সরকার : এবি পার্টি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৪ পিএম
দেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে সরকার : এবি পার্টি

ছাত্র আন্দোলনকে ভুল পন্থায় নিয়ন্ত্রণ ও নির্দয়ভাবে দমন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পুরো দেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

দলটি বলেছে, ‘সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন বিএনপি-জামায়াত ও তারেক রহমানকে সবকিছুর জন্য দায়ী করে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপিয়ে প্রকারান্তরে বিএনপিকেই জনপ্রিয় করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হিরো বানানোর মিশন নিয়েছে সরকার।’ 

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মিলু, রিপন মাহমুদ প্রমুখ। 

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য প্রবাহ বন্ধ রেখে সরকার সব সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের বানানো কাহিনি প্রচারে বাধ্য করেছে, এতে হিতে বিপরীত হচ্ছে। মানুষ এখন এতটাই বিরক্ত যে, সরকারের এসব একতরফা প্রচারণায় দুয়েকটা সত্য তথ্য থাকলেও মানুষ তাও বিশ্বাস করছে না। সরকারের পজিটিভ মোটিভেশনকেও জনগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বিবেচনা করছে।’ 

তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে সরকার নতুন প্রজন্মকে জোরপূর্বক যা গলাধঃকরণ করাতে চেয়েছিল, মাত্র ৩ সপ্তাহের আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম সব কিছু উল্টে দিয়েছে। সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে গণমানুষের এত বিরক্তি ও ক্ষোভ দেখে কোনো বিবেকবান নাগরিক হতবাক না হয়ে পারেননি। জাফর ইকবালের মতো দলান্ধ লেখকও হতাশায় মুষড়ে পড়তে বাধ্য হয়েছেন।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের শিল্পী, কলাকুশলী, খেলোয়াড়, শিক্ষক সমাজ এমনকি সোশ্যাল মোটিভেটররাও ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারকে বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সে বার্তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে ইতিহাসের করুণ পরিণতি বরণ ছাড়া ক্ষমতাসীনদের আর কোনো পথ থাকবে না।’ 

ছাত্রদের আন্দোলন ‘সরকারের একটা সাজানো প্লট’ বলে মন্তব্য করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘কারণ রেল ট্রানজিটের নামে ভারতকে একতরফা করিডোর দেওয়া ও সরকারের বড় বড় কর্তাব্যক্তিদের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে সব রাজনৈতিক দল রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলছিল। আন্দেলনের দিক থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগেই সমাধান হয়ে যাওয়া কোটা প্রসঙ্গটিকে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সামনে আনা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘পুলিশ-বিজিবির বেপরোয়া গুলি ও গণহারে ছাত্রহত্যার পর পরিস্থিতি আর কারও নিয়ন্ত্রণে থাকেনি। কত মানুষ মারা গেছে, কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেসব বিষয়ে জনগণ এখনো অন্ধকারে আছে।’ 

আওয়ামী লীগের ভুল রাজনীতির কারণে দেশে গৃহযুদ্ধ আসন্ন এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে মঞ্জু বলেন, ‘অবিলম্বে কারফিউ প্রত্যাহার, গণগ্রেপ্তার বন্ধ, সবার জন্য ইন্টারনেট সেবা চালু ও আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবিগুলো মেনে না নিলে সরকার গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং এর পুরো দায় তাদের ওপরই বর্তাবে।’

শফিকুল/সালমান/ 

জনগণের সঙ্গে প্রতারণাই আওয়ামী চরিত্রের ভূষণ : মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৬ পিএম
জনগণের সঙ্গে প্রতারণাই আওয়ামী চরিত্রের ভূষণ : মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মিথ্যাচার, অপরের ওপর দোষারোপ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণাই আওয়ামী চরিত্রের ভূষণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতি তিনি এ মন্তব্য করেন। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণ মনে করে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাস চালিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করার মাধ্যমে তা মেরামতের নামে দুর্নীতির রাস্তা প্রশস্ত করছে। সরকার এখন নিজেদের দ্বারা সংঘটিত সন্ত্রাস ধামাচাপা দিতে বিদেশিদের কাছে মায়াকান্না শুরু করেছে।’ 

সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারা কেউই শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নয় বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো শুধু বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরাই নয়, প্রতিবন্ধী শিশু, পথচারী এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসংখ্য শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে হতাহতের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার দেশের মানুষের ভাবমূর্তি বিদেশিদের কাছে ক্ষুণ্ন করার অপতৎপরতা শুরু করেছে।’ 

কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে বানোয়াট ও চরম মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অন্যের ঘাড়ে চাপাতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নোংরা অপকৌশল ও ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। নিরীহ শিক্ষার্থীদের হত্যার দায় থেকে মুক্তি পেতে আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী-নেতা ও প্রজাতন্ত্রের কিছু কর্মকর্তা মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে চলমান ঘটনাকে আড়াল ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভাবমূর্তি নষ্টের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার জনগণ কখনোই আমলে নেবে না।’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনে দেড় শতাধিক ছাত্র-জনতাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার পর দোষীদের আইনের আওতায় না এনে নির্দোষদের ওপর জুলুমের খড়গ চালানো হচ্ছে। হত্যাকারী ও হামলাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার, কারান্তরীণ ও হয়রানির ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে, আওয়ামী কর্তৃত্ববাদী সরকার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি এবং গণবিরোধী সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনে জর্জরিত মানুষ আর এক মুহূর্তের জন্যও আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায় না।’ 

বিএনপির এই শীর্ষ আরও নেতা বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও কারফিউ জারির মাধ্যমে সরকার জনগণের সঙ্গে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিএনপি সব সময়ই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে বিশ্বাসী। এই দলটি গণতন্ত্র ও জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এ পর্যন্ত বিএনপির গ্রেপ্তারকৃত সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ভুয়া মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলি আজগর হেনা, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পারগম আলীসহ দেশব্যাপী বিরোধী দলের নেতা-কর্মী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

শফিকুল/সালমান/

নিখোঁজ ছাত্রদের সন্ধানে স্বজনদের মর্গে ছুটতে হচ্ছে কেন : জি এম কাদের

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম
নিখোঁজ ছাত্রদের সন্ধানে স্বজনদের মর্গে ছুটতে হচ্ছে কেন : জি এম কাদের
জি এম কাদের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত অনেক শিক্ষার্থী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রশ্ন তুলেছেন, ‘নিখোঁজ ছাত্রদের সন্ধানে স্বজনদের মর্গে ছুটতে হচ্ছে কেন?’ 

বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

বিবৃতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বারেক মজুমদার ও রিফাত মাহমুদের নিখোঁজ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

জি এম কাদের বলেন, ‘একদিকে সরকার বলছে ছাত্রদের যৌক্তিক সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে এখনো কয়েকজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছেন, মামলায় আটক হয়েছেন অনেকেই। আন্দোলনরত অনেক শিক্ষার্থীই গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এটা সরকারের দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সরকারই স্বীকার করছে, ছাত্রদের আন্দোলন ছিল অহিংস। যদি তাই হয়, তাহলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর নির্যাতন কেন? নিখোঁজ ছাত্রদের সন্ধানে স্বজনদের মর্গে ছুটতে হচ্ছে কেন? এমন হৃদয়বিদারক ও নিন্দনীয় ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে ঘটেছে বলে জানা নেই।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে।’ 

এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তার (নাহিদ) শরীরের ক্ষতচিহ্ন এবং নির্যাতনের পৈশাচিকতার বর্ণনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাধারণ ছাত্রদের ওপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’