বাংলাদেশের মানুষ শান্তির জন্য লড়েছে। মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়েছে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সংগ্রাম করেছে, এমনকি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও জীবন দিয়েছে। আজও শান্তি অধরা। মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাঁচতে চায়, দুমুঠো ভাত খেয়ে জীবন কাটাতে চায়। অথচ রাষ্ট্রের বাস্তবতায় শান্তি নেই- খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, দখলদারিত্ব, হানাহানি ও বিদ্বেষে ভরে গেছে সমাজ। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে, মানুষের আয় বাড়েনি, রাষ্ট্রীয় সেবা টাকা ছাড়া পাওয়া যায় না। মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার অনেকাংশেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। শান্তির জন্য যুদ্ধ হলো, শান্তির জন্য অভ্যুত্থান হলো, কিন্তু শান্তি এখনো ফিরে আসেনি। এ প্রেক্ষাপটে পাহাড়ের অশান্তি বাংলাদেশের সামগ্রিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
স্বাধীন বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আদিবাসী নেতারা বৈঠক করে স্বায়ত্তশাসন, ভূমি অধিকার ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। পাহাড়ি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার কারণে ১৯৭৩ সালের মার্চে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এর সামরিক শাখা হিসেবে শান্তি বাহিনী গঠিত হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালে লারমা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান। ১৯৭৫-৭৭ সালের মধ্যে শান্তি বাহিনী আরও সংগঠিত হয় এবং অভিযোগ আছে, তারা ভারতের ত্রিপুরা থেকে অভিযান চালাত। ১৯৭৭ সালে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায়, যা সেনাবাহিনীকে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে বাধ্য করে।
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে এবং উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। তবে পার্বত্য জনগণের মধ্যে আস্থা কম ছিল। ২৪তম ডিভিশনের জিওসির নেতৃত্বে বোর্ড পরিচালিত হলেও, কার্যক্রমে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। কাপ্তাই হ্রদের নির্মাণের ফলে তাদের মূল ভূমির ৪০ শতাংশ হারানো এবং প্রায় ১ লাখ মানুষ গৃহহারা হওয়ায় অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয়। অনেকের মতে, কিছু পরিবার ভারতে চলে যায়, ক্ষতিপূরণের অভাবে তাদের ক্ষোভ আরও বাড়ে।
সরকার ১৯৭৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি বসতি স্থাপনের কর্মসূচি শুরু করে, যা পাহাড়ি জনগণের প্রথাগত জুমিয়া অধিকারের পরিপন্থি। এতে বহু পরিবার উচ্ছেদ হয় এবং অনেকেই ভারতে শরণার্থী হয়। ১৯৭৪ সালে পার্বত্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালে দাঁড়ায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশে।
অশির দশক থেকে জনসংহতি সমিতি জুম্ম জাতীয়তাবাদ নামে পাহাড়ি জনগণের নতুন পরিচয় তুলে ধরে। এতে পার্বত্য এলাকার ১৩টি জাতি একত্রিত করে একটি ‘জুম্ম জাতি’ গঠনের দাবি করা হয়, যাতে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং নেতিবাচক উপজাতি ধারণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তারা সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানায়।
১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সরকার রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করে। ৩০ সদস্যবিশিষ্ট এ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ আদিবাসী এবং এক-তৃতীয়াংশ বাঙালি। চেয়ারম্যান আদিবাসীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। পরিষদ আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বন ও কৃষি, স্থানীয় উন্নয়ন, শিল্প-সংস্কৃতি, যোগাযোগ সুবিধা, পানি ও পয়োনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে। তবে সাংবিধানিক ভিত্তি না থাকায় জনসংহতি সমিতি এ পরিষদ প্রত্যাখ্যান করে।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি। এর লক্ষ্য ছিল পাহাড়ি জনগণের অধিকার রক্ষা, ভূমিবিরোধ মীমাংসা, স্বশাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ২৮ বছর পরও চুক্তির ধারা কার্যকর হয়নি। ভূমি কমিশন অকার্যকর, প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি, পাহাড়ে সহিংসতা চলছে। হত্যা, গুম, নারী নিপীড়ন এবং ভূমি দখলের ঘটনা এখনো ঘটে যাচ্ছে।
পাহাড়ে অশান্তি দূর করার জন্য জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বহুবার সুপারিশ করেছে। তারা জানিয়েছে, শান্তিচুক্তির মানবাধিকার সংক্রান্ত ধারা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সংবিধানের ধারা সংশোধন করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ভূমি বিরোধ দ্রুত মীমাংসা এবং শিক্ষা ও চাকরিতে বিশেষ সুযোগ ফিরিয়ে আনার সুপারিশও তারা করেছে। জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম বলেছে, শান্তিচুক্তির অগ্রগতি মূল্যায়নে পাহাড়ি জনগণ ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা ভূমি দখল, বলপ্রয়োগ ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা আদিবাসীদের ক্ষতিপূরণ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ একটি বহু জাতি, বহু ভাষা এবং বহু সংস্কৃতির দেশ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখানে পঞ্চাশের বেশি জাতিসত্তা রয়েছে। গবেষকরা দাবি করেন, প্রকৃত সংখ্যা সত্তরেরও বেশি। অর্থাৎ, বাংলাদেশ শুধু বাঙালির দেশ নয়, এটি আদিবাসী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মানুষের দেশ। প্রায় ৩০-৪০ লাখ আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দেশে বসবাস করছে, যারা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজে অবিচ্ছেদ্য অবদান রেখেছে। কিন্তু বাস্তবতা দুঃখজনক। আগের সরকারগুলোর বৈষম্যমূলক ও স্বৈরাচারী নীতির কারণে এ জনগোষ্ঠী নিজস্ব পরিচয় রক্ষার অধিকার হারিয়েছে। ২০১০ সালে প্রণীত ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’ সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দিলেও, তাদের নিজস্ব জাতি ও মাতৃভাষার স্বীকৃতি আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসীর সংখ্যা বিস্তৃত। চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, গারো/আচিক, ওঁরাও, তঞ্চ্যঙ্গা, বম, পাংখো, চাক, খেয়াং, খুমি, লুসাই, কোচ, ডালু, কুকি, রাখাইন, মণিপুরী, হাজং, খাসিয়া, মং, বর্মণ, পাহাড়ি, মালপাহাড়ি, মুণ্ডা, ভূমিজ, কোল, কন্দ, পাঙন, লাওর, মুরং, রাজবংশ, পাত্র, গণ্ড, বাগদী, ভিল, টিপরা, রণজোগী, হো, খারিয়া ও খারওয়ার- এ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই পাহাড় ও সমতলে বসবাস করে।
পাহাড়ের মানুষ শান্তি চায়, সমতলের আদিবাসী নিরাপদ জীবন ও মৌলিক অধিকার কামনা করে। কিন্তু বাস্তবে তাদের দাবিগুলো দীর্ঘদিন অবহেলিত। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন, ভূমি অধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক ক্ষমতার হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং কার্যকর আইন প্রয়োগ ছাড়া চুক্তি পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। সমতলের আদিবাসীরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ১১টি দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে- পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন, সরকারে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব, সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি, প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সংরক্ষিত আসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ভূমি অধিগ্রহণ ও বেদখল বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার, ছাত্র-যুবদের জন্য কর্মসংস্থান, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, আদিবাসী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বন আইন সংশোধন।
এরশাদ আমলে কাউখালীর কলমপতি গণহত্যা, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের রহস্যজনক মৃত্যু, সাংবাদিক কিডন্যাপ, ‘খান বাড়ি’ নামে গোপন বন্দিশালা, গুম, হত্যা, ধর্ষণ এবং আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন- এ দীর্ঘ ইতিহাস প্রমাণ করে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার, কার্যকর বিচার ব্যবস্থা, সেনা ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র অধিকার নিশ্চিত করা আবশ্যক।
২০০৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে। বিভিন্ন সরকারি নথি ও নির্দেশে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার না করার নিয়ম জারি করা হয়। ফলে আদিবাসীরা তাদের পরিচয় রক্ষায় বঞ্চিত। আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা একত্রে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। ভূমি বিরোধ মীমাংসার জন্য বিশেষ কমিশন, ভূমি জরিপ, মালিকানার নথি হালনাগাদ এবং সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার ৭৫ শতাংশ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ২০-২৫ শতাংশ; মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ও উচ্চশিক্ষায় কোটা সম্প্রসারণ জরুরি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মা ও শিশুর জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। হস্তশিল্প ও কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমে সহায়তা, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। ভাষা, নৃত্য ও সংগীত সংরক্ষণে বিশেষ সরকারি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
পাহাড় ও সমতলে সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ, ভূমি দখল এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা আজও চলছেই। ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০২৫ সালে বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প ও প্রশাসনিক নিপীড়নের ঘটনা প্রমাণ করে যে, আদিবাসী অধিকার কার্যকরভাবে রক্ষা হচ্ছে না। পাহাড়ের মানুষ চায় শান্তি, নিরাপত্তা এবং সম্মান। তাদের অধিকার রক্ষা, ধর্ষণ ও গুমের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব।
নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো জনগণকে রক্ষা করা, দমন করা নয়। আদিবাসী অধিকারকর্মী, নারী ও যুবকদের ওপর নির্যাতনের ধারাবাহিকতা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে শান্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। পাহাড় ও সমতলের মানুষ বৈষম্য, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
পাহাড় ও সমতলের জনগণ যাতে সমানভাবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে, এজন্য প্রয়োজন কার্যকর ভূমি নীতি, শিক্ষার সমতা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহায়তা, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ, জাতিসত্তার স্বীকৃতি ও মাতৃভাষার অধিকার নিশ্চিত করা।
পাহাড়, সমতলে, দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের যথাযথ ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে কল্পিত শান্তি চুক্তি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।
লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক কলাম লেখক
[email protected]