একটি সুস্থ ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম। দেশের গণমাধ্যম এবং এতে কর্মরত কর্মীদের একটি সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীন নীতিমালার আওতায় আনা আজ সময়ের দাবি। যদিও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অনস্বীকার্য। তবে এ স্বাধীনতার চর্চা যেন দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারত্বের সীমা অতিক্রম না করে, তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নীতিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হবে তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সঠিকতা, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। প্রায়শই দেখা যায়, দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ পরিবেশিত হচ্ছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। কর্মীদের জন্য আচরণবিধি থাকলে তারা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে আরও মনোযোগী হবেন এবং ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব পরিহার করে চলবেন।
এ নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মানদণ্ড উন্নত হবে। প্রশিক্ষণ, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত নীতিশাস্ত্রের ওপর জোর দেওয়া হলে এ খাত আরও বেশি আস্থাশীল হয়ে উঠবে। এ ছাড়া, এটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে। একটি নিয়মের ছাঁচে আবদ্ধ থাকলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কর্মীদের প্রতি আরও বেশি দায়বদ্ধ থাকবে। সবমিলিয়ে, একটি কার্যকর নীতিমালা কেবল গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল করবে না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য নয়, বরং স্বাধীনতার সুষ্ঠু ও নৈতিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]