দেশের অনেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এখন ‘আমৃত্যু চেয়ারম্যান’ বা ‘আমৃত্যু মেম্বার’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। অনেক এলাকায় ১৫-২০ বছর ধরে কোনো নির্বাচন হয় না। সীমানা বিরোধ বা মামলার দোহাই দিয়ে একই ব্যক্তি বছরের পর বছর পদ আঁকড়ে থাকেন। এটি আমাদের সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের ১১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। আইন অনুযায়ী, এসব পদের মেয়াদ মাত্র ৫ বছর। অথচ আইনি মারপ্যাঁচে নির্বাচন আটকে রেখে ক্ষমতা দখল করে রাখা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। ভোটের মুখোমুখি হতে হয় না বলে এসব ব্যক্তির মধ্যে কোনো জবাবদিহি থাকে না। সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ক্ষমতার দাপটে তারা তুচ্ছ কাজেও মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারি সেবা ও বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। যেহেতু তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয় নেই, তাই দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা চরমে পৌঁছেছে। গণতান্ত্রিক দেশে কেউ ‘আমৃত্যু’ কোনো পদে বসে থাকতে পারেন না। সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করতে এসব এলাকায় দ্রুত ভোটের ব্যবস্থা করা দরকার। কোনো ঠুনকো অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ রাখা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের রায়ই হোক জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের একমাত্র পথ।
ইব্রাহীম খলিল (সবুজ)
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]