বিশ্ববিদ্যালয় মানেই জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র। কিন্তু দেশের বিভিন্ন কেমিক্যাল ল্যাবে ব্যবহৃত অ্যাসিড, ক্ষার ও বিষাক্ত রাসায়নিকের ফলে এক নীরব দূষণ তৈরি হচ্ছে। Applied Chemistry ও Chemical Engineering (ACCE)-সহ অন্যান্য ইন-অর্গানিক ও অর্গানিক ল্যাবে হাইড্রোক্লোরিক, সালফিউরিক, নাইট্রিক অ্যাসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, কপার সালফেটসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ও জৈব দ্রাবক ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষার পর এসব রাসায়নিক প্রায়শই ল্যাবের বেসিনে ফেলে পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ করা হয় না। গবেষণাগারের রাসায়নিক বর্জ্য নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাববর্জ্য সরাসরি ড্রেন বা নির্মূল ব্যবস্থায় না গিয়ে গবেষণাসংলগ্ন পানিপথে মিশছে, যা পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করে। অনেক প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন পরিকল্পনায় ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা ড্রেনেজ সিস্টেমের কথা উল্লেখ করলেও, কার্যকর Effluent Treatment Plant (ETP) থাকলে তা পরিবেশ ও DOEএর নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয় এমন দৃশ্য বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
এ অব্যবস্থাপনার প্রথম শিকার হয় অবকাঠামো এসিডিক বর্জ্য পাইপলাইনের ধাতব অংশ ক্ষয় করে, কংক্রিট দুর্বল করে এবং ভবনের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে ভারী ধাতু যেমন ক্রোমিয়াম, কপার, সিসা মাটিতে জমে উর্বরতা নষ্ট করে, পানিতে গেলে জলজ প্রাণীর জন্য বিষ সৃষ্টি করে এবং ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। যার ফলে হতে পারে কিডনি রোগ, স্নায়বিক সমস্যা, এমনকি ক্যানসার। এ ক্ষতির কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যায় না। আজ যে বর্জ্য আমরা নির্বিঘ্নে ড্রেনে ফেলছি, তার ফল ভোগ করতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। ল্যাবরেটরির এ নীরব দূষণ ভবিষ্যতে আমাদের সবাইকে ব্যয়সাপেক্ষে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাকিয়া তাবাচ্ছুম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]