বাংলাদেশে ফুটবল কিংবা অন্যান্য খেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী খেলোয়াড়দের আছে সরব উপস্থিতি। তবে ৯০ দশকের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোনো ক্রিকেটার দেখা যায়নি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পে অনিক দেব বর্মণের উপস্থিতি তাই আলাদা নজর কেড়েছে সবার। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমকে শোনান নিজের উত্থানযাত্রার গল্প। সাদা-কালো টিভিতে খেলা দেখে ক্রিকেটের প্রেমে পড়া অনিক অন্য সবার মতো পেরিয়ে এসেছেন বন্ধুর পথ।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অনিকের ক্রিকেটে হাতেখড়ি নিজের জন্মস্থানেই। এলাকার অন্য সবার সঙ্গে খেলতে খেলতে পা রেখেছেন ক্রিকেটে। পরে পরিবারসমেত শ্রীমঙ্গলে স্থায়ী হওয়ার পর সেখানেও ক্রিকেট খেলেছেন এই ডানহাতি পেসার। হাত ভেঙে বোলিং শুরু করা আস্তে আস্তে শিখে যান ক্রিকেট বলে খেলা। পরে ভর্তি হন স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাবে। সেখান থেকে জেলাভিত্তিক দল পেরিয়ে এখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পে আছেন তিনি।
তবে ক্রিকেটে আসার পথটা যতটা সহজ বলে মনে হচ্ছে, ততটা কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে এসেছেন। ছোট মাঠে পেস বোলিং করতেন ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার এই পেসার। তার ক্রিকেট খেলায় পরিবারের ছিল না সম্মতি। লুকিয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। এর জন্য বাবার হাতে মার খেতেও হয়েছে তাকে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় অনিক এখন অবশ্য পাচ্ছেন পরিবারের সমর্থন। প্রথম দিকে পরিবারের সমর্থন না থাকায় পাননি বোলিং করার বুট। পরিবারের সমর্থনের পর সেই বুট পেয়েছেন অনিক দেব বর্মণ। এখনো সেই পুরোনো বুটজোড়া দিয়ে খেলে যাচ্ছেন।
এই পুরোনো বুটজোড়ায় স্বপ্ন দেখছেন জাতীয় দলে খেলার। তাসকিন আহমেদ-শরিফুল ইসলামদের মতো বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়িয়ে বোলিং করবেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন স্বপ্নে আছেন যুব দলের ক্যাম্পে।
অনিকের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে এসেছেন মহিতোষ দেওয়ান। ৯০-এর দশকে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের মতো ক্লাবের হয়ে ঢাকা লিগে খেলেছেন। এ ছাড়া নারী ক্রিকেটে ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত খেলেছেন চম্পা চাকমা। ২০২৩ নারী অনূর্ধ্ব ১৯ দলে ছিলেন লেকি চাকমা।










