টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দলের গ্রুপপর্বে খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ ছিল দলগুলোর। সেখান থেকে উঠে আসা সুপার এইটের আট দলের আসল পরীক্ষা কার্যত শুরু এখন। পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা মাঠে গড়িয়েছে। আজ পরীক্ষা দিতে নামবে সুপার এইটের আরও চার দল। শ্রীলঙ্কায় বিকেল সাড়ে ৩টায় পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়বে ইংল্যান্ড। আহমেদাবাদে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আরেক স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ দুটি চার দলের জন্যই সমান চ্যালেঞ্জ।
গ্রুপপর্বে শ্রীলঙ্কার জন্য শিক্ষণীয় ছিল জিম্বাবুয়ের প্রহার। এই পর্বে হ্যাটট্রিক জয়ে যখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল লঙ্কানরা, তখন তাদের মাটিতে আছড়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। হারিয়ে দেয় ৬ উইকেটের ব্যবধানে। তবে আয়ারল্যান্ড, ওমান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে ছিল টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজকরা। আজ ইংলিশ পরীক্ষায় উতরে যেতে সেই ছন্দটা ফিরিয়ে আনাই দাসুন শানাকাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রুপপর্বে ইংল্যান্ডের গল্পটাও অনেকটাই শ্রীলঙ্কার মতোই। তারা ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে।
নেপাল, ইতালি, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সহজ গ্রুপে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু কোনো ম্যাচেই সেরা ছন্দে ছিল না ক্রিকেটের জনকরা। নেপালের সঙ্গে ভয় ধরিয়ে জিতেছিল মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের ম্যাচে হেরে যায় ৩০ রানের ব্যবধানে। এরপর স্কটল্যান্ড এবং ইতালিকে হারিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ইংলিশরা, বিশেষ করে ইতালির বিপক্ষে। সেই লড়াইয়ে ২০০ ছাড়িয়ে যায় ইংল্যান্ডের সংগ্রহ। গ্রুপপর্ব ভারতে খেলে এবার শ্রীলঙ্কার মাটিতে লড়তে হবে হ্যারি ব্রুকের দলকে।
টি-টোয়েন্টি দ্বৈরথে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢের এগিয়ে ইংল্যান্ড। দুই দলের ১৭ বারের সাক্ষাতে ইংলিশদের জয় ১৩টি, লঙ্কানদের ৪টি। মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে প্রস্তুত হয়েছে দুই দল। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৩ ম্যাচই হয়েছিল পাল্লেকেলেতে। দ্বীপ দেশে লঙ্কানদের ধবলধোলাই করেছিল ইংলিশরা। এদিক বিবেচনা করলে বলাই যায়- সুপার এইটের দ্বিতীয় গ্রুপের ম্যাচে আজ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষা দিতে নামবে শ্রীলঙ্কা।
সুপার এইটের ‘এ’ গ্রুপে হবে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর। গ্রুপপর্বে পাকিস্তানসহ অপর তিন প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের চার গ্রুপ ম্যাচের সবকটি জিতেছে। এমনই ছন্দ নিয়ে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই দল। যদিও ভারত এখন অবধি তাদের ব্যাটিং নিয়ে আপ-টু-মার্ক অবস্থানে নেই, বিশেষ করে অভিষেক শর্মা। দুর্ভাগ্যজনভাবে এই হার্ড হিটার ওপেনার তিন ম্যাচে নেমে তিনবারই ডাক মেরেছেন। তার সহ বাকিদের সমালোচনায় বেশ চাপেই রয়েছে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ওভারের জয় বাদে গ্রুপপর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার পথচলা ছিল মসৃণ। যদিও টি-টোয়েন্টি দ্বৈরথে খুব বেশি দাপুটে রেকর্ড নেই প্রোটিয়াদের। দুই দলের ৩৫ সাক্ষাতে ভারতের জয় ২১টি, দক্ষিণ আফ্রিকার ১৩টি। পরিত্যক্ত হয়েছে এক ম্যাচ।
অনিক/










