ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন How to learn English বিষয়ক Writing Paragraph, ৩০তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ তারার দেশে সাইকেল যাত্রা মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন রবিবার দারাজ ৬.৬ মিড-ইয়ার শপিং ফেস্টে থাকছে আকর্ষণীয় অফার, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট ও পুরস্কার গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি যৌক্তিক মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত জাতীয় ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা ঢাকার পরিবেশ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি তিন মাসে অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ ভোলায় যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট মেসির চোট নিয়ে যা বললেন স্কালোনি হিলি সীমান্তে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি যে কারণে মুভি দেখব মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী সময়ের সঙ্গে বদলান লিডারশিপ স্টাইল পঞ্চগড়ে পুশইনের শিকার ১০ জন, নিচ্ছে না কোনো দেশ
Nagad desktop

নেত্রকোনায় বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
নেত্রকোনায় বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা
বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন এক কৃষক। ছবি: খবরের কাগজ

নেত্রকোনার পাহাড়ি ও হাওর অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে একটানা শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে ধান রোপণ উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি দেরিতে রোপণের কারণে আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকাকে বোরো ধান চাষের ভাণ্ডার বলা হয়। এই তিন উপজেলার উৎপাদিত ধান শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং জেলার বাইরেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এ বছর দীর্ঘদিনের শীতল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে জমিতে ধান রোপণ করা যাচ্ছে না। ফলে রোপণে অতিরিক্ত সময় লাগছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শ্রমিকের সংখ্যা ও উৎপাদন ব্যয়।

কৃষকরা বলছেন, হাওর এলাকায় বছরে একটি মাত্র ফসল হয়। বোরো ধানই তাদের একমাত্র ভরসা। যে বছর বোরো চাষে বিলম্ব হয়, সে বছর যদি আগাম বন্যা আসে, তাহলে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এক ফসলি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেলে সারা বছর পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হয়। অনেক সময় গরু-ছাগল বিক্রি করতে হয়। আবার সংসার চালাতে মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা।

মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাউথা হাওরপাড়ের কৃষক ফজলুল হক জানান, হাওরের জমিতে একটি মাত্র ফসল হয়। শীতের প্রকোপ বেশি হলে ধান গাছ বড় হলেও অনেক সময় চিটা হয়ে যায়। তখন কৃষকদের দুঃখের সীমা থাকে না। তার ওপর যদি অকাল বন্যা হয়, তাহলে সব শেষ হয়ে যায়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লেগে যায়।’

তিনি আরও বলেন, এ বছর শীতের কারণে বীজতলা থেকে শুরু করে জমিতে রোপণ পর্যন্ত সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। ঠাণ্ডায় ধানের বৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়ছে। এতে উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের মাঘান গ্রামের কৃষক রহমান মিয়া বলেন, ‘শীতের কারণে একদিকে শ্রমিক বেশি লাগছে। অন্যদিকে জমিতে পোকার আক্রমণের আশঙ্কা আছে। অতিরিক্ত নজর আর যত্ন না নিলে ক্ষতি বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা খুব দরকার।’

কৃষকরা বলছেন, সময়মতো পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো গেলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। বিশেষ করে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর প্রচণ্ড শীতের হিমেল হাওয়া ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের রোপণ অন্তত ১০ দিন পিছিয়ে গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি আরও জানান, কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি বিভাগ পাশে থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নেত্রকোনার হাওর এলাকায় বোরো রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত রোপণ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে। জেলার মোট ১০টি উপজেলায় এ বছর বোরো রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর। এ পর্যন্ত রোপণ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি জমিতেও দ্রুত রোপণ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে আগাম বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ।

ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিলই না। কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বিঘা থেকে হেক্টর পর্যন্ত বেড়েছে। পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাত ইউনিয়নেই কমবেশি পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে।

উপজেলায় শীতকালীনের পাশাপাশি গ্রীষ্মেও পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে। উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে লাভের আশা করছেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা ও আবুল বাশার। তাদের দেখে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ মসলা জাতের ফসল আবাদে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগে পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়। তখন কৃষকরা আগ্রহী না থাকলেও এখন লাভজনক হওয়ায় তারা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। আবাদি জমির পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলায় বর্তমানে ৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ রয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ আষাঢ় মাসে শুরু হলেও আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল বাশার দেড় মাস আগেই কৃষি বিভাগের দেওয়া নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ করছেন। তারা বলছেন, বৃষ্টি নেই, প্রচণ্ড গরমেও আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ ভালো হয়েছে।

উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা তার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করা পেঁয়াজ পরখ করছেন। আর দুই সপ্তাহ পর তিনি পেঁয়াজ জমি থেকে তুলবেন। এ সময় কথা হয় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ সম্পর্কে।

আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, ‘ঈশ্বরদী কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনার বিনামূল্যে নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজবীজ আমাকে দেওয়া হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বীজ থেকে চারা তৈরি করে জমিতে লাগানো হয়। মনে করা হয়েছিল, খুব ভালো হবে না। কিন্তু এখন জমিতে পেঁয়াজ দেখে মনে হচ্ছে লোকসান হবে না, লাভই হবে।’ সেচ, শ্রমিক খরচসহ দুই বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি বিক্রি করবেন ৭০ হাজার টাকার পেঁয়াজ। তার লাভ হবে ৩৫ হাজার টাকা জানান তিনি।

একই কথা জানালেন বিলকেদা এলাকার আরেক কৃষক আবুল বাশার। তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি নেই। গরম কম থাকলে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে এ পেঁয়াজের আবাদ আরও ভালো হতো।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। এখন কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন পেঁয়াজ আবাদে। পরীক্ষার জন্য গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরু হওয়ার দুই মাস আগেই চারা তৈরি করে আবাদ করা হলেও পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আর সপ্তাহ দুই পর জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে আবারও কৃষক এ জমিতেই পেঁয়াজের আবাদ করবেন। তিনি বলেন, এক জমিতে এবং একই সময়ে দুবার পেঁয়াজের আবাদ। কৃষি অফিস থেকে উপকরণসহ কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক লাভবান হবেন। আগামীতে ঈশ্বরদীতে মসলা জাতের ফসল পেঁয়াজ আবাদ আরও বাড়বে। 

 ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগেও পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। কিছু মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হতো। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা মসলা জাতের ফসলের জন্য ভালো একটা দিক। প্রতিটি উৎপাদিত ফসল থেকে কৃষকরা লাভবান হবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যেন পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, এ জন্য সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও কৃষকের পাশে থেকে পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন দিনাজপুরের কৃষকরা

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন দিনাজপুরের কৃষকরা
নিরাপদ সবজি চাষ করছেন দিনাজপুরের কৃষকরা। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি চাষ। কীটনাশক ও ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব সবজির প্রতি কৃষক ও ভোক্তা— উভয়েরই আগ্রহ বাড়ছে। বাজারে ভালো দাম ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা নিরাপদ সবজি চাষে ঝুঁকছেন। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছে।

দিনাজপুর সদরের আস্করপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক বিভিন্ন মৌসুমি ও বারোমাসি সবজির আবাদ করে থাকেন।

এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা, রংপুর, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে এলাকার অনেক কৃষক নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। জমিতে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদ, আলোক ফাঁদসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা হচ্ছে। ফলে সবজির উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিও কমছে।

কৃষকরা জানান, করলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পটলসহ বিভিন্ন সবজির ভালো ফলন পেয়েছেন তারা। বিষমুক্ত হওয়ায় এসব সবজির বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

আস্করপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আগে জমিতে নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। এতে খরচ যেমন বেশি ছিল, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও ছিল। এখন জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করছি। উৎপাদন খরচ কমেছে এবং বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি।

প্রতিবেশী কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, নিরাপদ সবজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতারা এখন বিষমুক্ত সবজি খুঁজছেন। তাই আমরা ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব সার ব্যবহার করে সবজি চাষ করছি। এতে লাভও বেশি হচ্ছে।

কৃষকদের নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও সীমিত। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মহিলা বহুমুখী শিক্ষা কেন্দ্র (এমবিএসকে) একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। 

প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।

দিনাজপুর এমবিএসকের কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, “বর্তমানে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাসায়নিকের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার শেখাচ্ছি। ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদ, জৈব সার ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ভোক্তারাও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পাচ্ছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হলে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।

সুলতান মাহমুদ/নাঈম

কোটি টাকার খামার গড়লেন লক্ষ্মীপুরের লিটন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
কোটি টাকার খামার গড়লেন লক্ষ্মীপুরের লিটন
নিজের খামার পরিচর্যা করছেন লিটন। ছবি: খবরের কাগজ

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন লক্ষ্মীপুরের লাহারকান্দি এলাকার তরুণ কামরুজ্জামান লিটন। মাত্র ২০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা  গরুর খামার এখন কোটি টাকার খামারে উন্নীত হয়েছে।

লিটনের স্বপ্ন আজ বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ব্রাদার্স এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্ম’ এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের গরু।

সরেজমিনে লাহারকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি করে সাজানো লিটনের খামারে দুধের গাভীসহ ছোট-বড় প্রায় ৭০টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তার দৈনিক আয় ২০ হাজার টাকারও বেশি। দুগ্ধ উৎপাদনের পাশাপাশি আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি ২০টি উন্নতজাতের গরু প্রস্তুত করেছেন, যার প্রতিটির মূল্য এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।

লিটনের খামারে নিয়মিত কাজ করছেন আটজন শ্রমিক। খামারের নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত শ্রমিক নাইম বলেন, ‘আমরা এখানে গরুর বাচ্চার বিশেষ যত্ন নিই। বাচ্চা জন্মের পর থেকে তাদের মা থেকে আলাদা করে ফিডারে দুধ খাওয়ানো হয়। এক মাস বয়স হলে দুধের পাশাপাশি কাঁচা ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার দেওয়া শুরু করি। এতে গাভী দ্রুত সুস্থ হয় এবং পুনরায় গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেম জানান, লিটনের এই খামার হওয়ার পর থেকে আমাদের এলাকায় খাঁটি দুধের অভাব নেই। অনেক বেকার ছেলেও তার খামার দেখে উৎসাহিত হচ্ছে। এলাকাবাসী হিসেবে আমরা লিটনের এই সাফল্যে গর্বিত।

খামারি কামরুজ্জামান লিটন বলেন, এখানে গরুর প্রধান খাদ্য প্রাকৃতিক ঘাস। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাছুর পালন ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এই খামারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। গরুকে কোনো প্রকার রাসায়নিক খাবার না দিয়ে কাঁচা ঘাস ও খৈল-ভুসি খাওয়ালে খামার লাভজনক হয়।

 নতুনদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বিনা প্রশিক্ষণে খামার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ যদি নতুন করে ডেইরি ফার্ম করতে চান, তবে অবশ্যই সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠে নামা উচিত। ভবিষ্যতে নিজের এই স্বপ্নের খামারটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই পরিশ্রমী উদ্যোক্তার।

ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলে ফিরছে সচ্ছলতা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলে ফিরছে সচ্ছলতা
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোলাপের চর গ্রামে ভুট্টা শুকানোর কাজ করছেন এক নারী। ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষ হচ্ছে। কম খরচ, স্বল্প সেচ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গোমতী, মেঘনা ও কাঁঠালিয়ার চরাঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু ও ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা আবাদ করছেন। মানুষের খাদ্য, মৎস্য ও গোখাদ্য হিসেবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার ভুট্টা সরবরাহ করা হচ্ছে দেশজুড়ে। চরাঞ্চলের শত শত পরিবারে ফিরছে সচ্ছলতা।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে এখন ভুট্টার হলুদ রং আর সবুজ পাতার সমারোহ। মাঠজুড়ে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে কোথাও গাছ থেকে ভুট্টা তোলা শুরু হয়েছে। আবার কোথাও তোলা শেষ হয়েছে। কম সময়ে ও কম পানি ব্যবহার করে ভুট্টা আবাদ করা যায়। এ কারণেই কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। 

গোমতী, মেঘনা ও কাঁঠালিয়া নদীর বুকে জেগে উঠেছে একাধিক চর। সেসব চরে গড়ে উঠেছে বসতি, চলছে ফসলের আবাদ। গোমতীর বুকে সবচেয়ে বেশি চর জেগেছে চেঙ্গাকান্দি, গোলাপের চর, বাহেরচর, গঙ্গাপ্রসাদ ও হাসনাবাদ এলাকায়। মানুষের বসতির পাশাপাশি চরের জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসল বোনা শুরু হয়েছে।

গোমতী নদীর চরাঞ্চলে এ বছর আবহাওয়া অনুকূল ছিল। ভুট্টায় পোকার আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা আশাতীত ফলন পেয়েছেন। কৃষকরা জানান, ভুট্টা আবাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আলুর জমিতে ভুট্টার আবাদ করলে খরচ কিছুটা কম হয়। ভুট্টার পর একই জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা যায়।

প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ মণের মতো ফলন হয়। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

তবে চাষের কিছু সংকটের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিটেশ্বর গ্রামের কৃষক অসীম সরকার বলেন, ‘প্রতি বছর ছয় মাস পর পর ভুট্টা চাষ শুরু হয়। চাষের শুরুতেই দাম বেড়ে যায় সার ও বীজের। এতে সাধারণ কৃষকরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সুদ নিয়ে চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো না হলে পথে বসতে হয় কৃষকদের।’

গোলাপের চর গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কৃষি ব্যাংকগুলো ভুট্টা চাষের ওপর ঋণ দিলেও ওই ঋণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভুট্টা প্রক্রিয়াজাত কারখানা চালু হলে স্থানীয় বাজারে ভুট্টার দাম নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি হতো।’

উপজেলার গোমতী নদীর গোলাপের চরের কৃষক মহসিন জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কৃষি বিভাগের সহায়তায় উন্নতজাতের বীজ আবাদের ফলে আগের চেয়ে ভুট্টার ফলন এখন দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি একর জমি থেকে প্রায় ১২০ মণ থেকে ১৪০ মণ ভুট্টা পাওয়া যায়। এর জন্য খরচ পড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি খরচ বাদে লাভ থাকে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

ভুট্টা চাষে ভাগ্যবদল হয়েছে অনেক প্রান্তিক মানুষের। চেঙ্গাকান্দি গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান জানান, এই এলাকার মানুষের জীবন অনেক কষ্টের ছিল। দিনমজুরি ও নদীতে মাছ ধরে তাদের পরিবার নিয়ে চলতে হতো। ভুট্টার চাষ শুরু হওয়ায় এখানকার মানুষের দিন পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘ভুট্টা চাষের পর থেকে আমরা অনেক লাভবান হয়েছি।’

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে ৭ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণ আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেড়েছে। প্রতিবছর আলু চাষ ছেড়ে দিয়ে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

কেডিসি দাউদকান্দি বাজারের ভুট্টা ব্যবসায়ী শরীফ মিয়া বলেন, ‘আগাম জাতের ভুট্টার  ফলন বেশি হয়, দামও বেশি। প্রতি মণ ভুট্টা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই এলাকার ভুট্টা কিনতে ঢাকা, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আসেন। তাই কৃষকরা ভুট্টার দামও ভালো পান।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিগার সুলতানা জানান, গত মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায় ৭২ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল। এবার উপজেলাজুড়ে আরও ব্যাপক ভুট্টা চাষ হয়েছে। বিশেষ করে নদীর চরগুলোতে ভুট্টা চাষ করে এখন শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী। ভুট্টা চাষের সময় কৃষকদের জমিতে ব্যাপকভাবে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। চলতি মৌসুমে শীতের কারণে সেচ কম দেওয়ায় চাষিদের খরচও কম হবে। গোমতী নদীর চরাঞ্চলসহ উপজেলাজুড়ে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।

নবীনগরে বাড়ছে জাপানের ওকিনাওয়া মিষ্টি আলুর চাহিদা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৭ মে ২০২৬, ১০:২৪ এএম
নবীনগরে বাড়ছে জাপানের ওকিনাওয়া মিষ্টি আলুর চাহিদা
জাপানের বিখ্যাত ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাপানের বিখ্যাত ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু। চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমিতে চাষ হচ্ছে এ আলু।  গত তিন বছর ধরে পরীক্ষামূলক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাষ হলেও চলতি মৌসুমে এ আলুর আবাদ করা হয়েছে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে। কৃষক, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ায় এটি এখন সম্ভাবনাময় একটি ‘সুপারফুড’ ফসল হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অন্যান্য দেশি জাতের তুলনায় ওকিনাওয়া জাতের ফলন অনেক বেশি। প্রতি বিঘায় শতাধিক মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। সংরক্ষণ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি এবং রোগবালাই সহনশীল হওয়ায় কৃষকদের কাছেও এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাধারণ কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতি শতকে তিন মণেরও বেশি উৎপাদন হচ্ছে, যা স্থানীয় অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি। আলুর আকারও বেশ বড়।

সেদ্ধ কিংবা পোড়ানোর পর এ আলুর ভেতরে দৃষ্টিনন্দন হলুদাভ রং দেখা যায়, যা ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে। স্বাদেও রয়েছে আলাদা মিষ্টতা ও নরম ভাব। কম পানিতে ধীরে ধীরে সিদ্ধ করলে এর স্বাদ আরও ভালো হয়। আবার সেদ্ধ বা পোড়ানো আলু কিছু সময় ফ্রিজে রেখে খেলে মিষ্টতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানান ভোক্তারা।

অনেকেই মনে করেন, মিষ্টি আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রার খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট থাকায় এটি ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগতে দেয় না।

বিশ্বব্যাপী ওকিনাওয়া মিষ্টি আলু বিশেষভাবে পরিচিত জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির কারণে। দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের পেছনে এ আলুকে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছেও এ আলুর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

বড়িকান্দি গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘গত বছর কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জাতের মিষ্টি আলু সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইনের মাধ্যমে কৃষি অফিস থেকে ভাইন সংগ্রহ করি। পরে প্রথমবারের মতো ২০ শতক জমিতে আবাদ করে প্রায় ৬৫ মণ আলু পেয়েছি।’

দড়িলাপাং গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, ‘এই আলুর স্বাদ ও চাহিদা দুইটাই ভালো। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে তিন বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু আবাদ করছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ১২০ মণের মতো ফলন আসে। স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন হওয়ায় এটি আমাদের জন্য লাভজনক। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, ‘ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলুর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলন ও বাজারচাহিদা ভালো থাকায় আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়বে। উদ্যোক্তা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর জন্য ভাইন উৎপাদনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে ১০০ বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া আলু চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ জাতের আলুর আবাদ আরও তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’