নেত্রকোনায় পতিত জমিতে উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া উত্তোলন ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। চাষিরা একদিকে যেমন নিজেদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে ঘরে কুমড়া তুলছেন, অপরদিকে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও পাইকারি ক্রেতারা কুমড়া কেনার জন্য ভিড় করছেন। কুমড়া বেচাকেনায় উৎসবমুখর এক পরিবেশ বিরাজ করছে হাওড় অঞ্চলে।
হাওড় অঞ্চলের উর্বর মাটি আর পলির ছোঁয়ায় বিপুল পরিমাণ কুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে এসব এলাকায়। গত ৩-৪ বছর কুমড়া উৎপাদনের উৎসাহ ও আগ্ৰহ দুটোই দেখা গেছে এলাকার কুমড়া চাষিদের মাঝে। এর আগে হাওড় অঞ্চলে ধান ছাড়া আর কোনো ফসল উৎপাদিত হতো না। এতে করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে বাজারজাত হচ্ছে এসব কুমড়া।
সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার হাওড় অঞ্চলে খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নাওটানা কুমড়া কেনাবেচার এক হাটে পরিণত হয়েছে। এ যেন হাওড়পাড়ের ঘাসের ওপর জমে ওঠা অসংখ্য কুমড়া বিপণনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। ধনু নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে এর বিপণন আরও সহজ হতো, অর্থ ও শ্রম দুটোই বেঁচে যেত।
নাওটানা এলাকার কুমড়া চাষি ফজলুর রহমান জানান, কুমড়া কিনতে বাইরের অনেক জেলা থেকে পাইকাররা আসেন। মেঠোপথ দিয়ে ট্রাক চলাচল করতে কষ্ট হয়। অপরদিকে ধনু নদীতে ফেরি দিয়ে পার হতে অনেক সময় নষ্ট হয়, তবুও ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে পার হতে হয়। এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে নদী পারাপার অনেক সহজ হতো।
আরও দেখা গেছে, জেলার বাইরে থেকে নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, রংপুর, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে পাইকারি মূল্যে ব্যবসায়ীরা অসংখ্য ট্রাক নিয়ে কৃষকের জমি থেকে মিষ্টিকুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এত কুমড়া একসঙ্গে পাওয়ায় উৎসাহ বিরাজ করছে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী তুষার মিয়া জানান, ময়মনসিংহের চর এলাকায় মিষ্টিকুমড়া চাষ হয়। অতিরিক্ত মিষ্টি হওয়ায় নেত্রকোনা থেকে তারা কুমড়া নিয়ে যান। ময়মনসিংহের চর এলাকায় উৎপাদিত কুমড়া তুলতে আরও সময় লাগবে। প্রতি কেজি কুমড়া ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জগন্নাথপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে তিনি ৮০ কাঠা জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। এ পর্যন্ত ১০ টন কুমড়া তিনি বিক্রি করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় তিনিন্ত লাভবান হয়েছেন। এলাকার অনেকেই এখন কুমড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) রাকিবুল হাসান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমড়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৭৩৬ হেক্টর। হাওড় অঞ্চলেই চাষ হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় কুমড়া চাষে চাষিরা আগ্ৰহী হয়ে উঠছেন।