বৃষ্টির অভাবে লক্ষ্মীপুরে কৃষি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পুড়ে যাচ্ছে চাষ করা ফসল।
পানির অভাবে কৃষকরা বোরো ধানখেতে সেচ দিতে পারছেন না। সয়াবিন, মরিচ, ডালসহ সবজিখেত শুকিয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। ঝরে পড়ছে আমসহ বিভিন্ন ধরনের অপরিপক্ব ফল। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় এখনো বৃষ্টি হয়নি।
মাঝারি আয়তনের পুকুর, ডোবা ও জেলার সব কয়টি শাখা-খাল শুকিয়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে পানির তীব্র অভাব বিরাজ করছে।
পানির অভাবে জেলার চরাঞ্চল অধ্যুষিত সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল, কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলার মানুষ নিত্যদিনের ব্যবহৃত পানি নিয়েও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বৃষ্টি না থাকায় জেলার চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত এলাকায় পশুখাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি ও হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষ হয়েছে। অন্যদিকে সয়াল্যান্ডখ্যাত লক্ষ্মীপুর জেলায় এবার প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করেছিলেন চাষিরা। এবার দেশি জাতের আমেরও বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার প্রতিটি আমগাছে এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। থোকা থোকা আম শোভা পাচ্ছে জেলার আমগাছগুলোতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় এবার চাষিরা ভালো ফলন আশা করেছিলেন।
কিন্তু চলতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় একবারের জন্যও বৃষ্টির দেখা মেলেনি।
বর্তমানে জেলায় বোরো ধান পুরোদমে বের হতে শুরু করেছে। এ সময় ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পানি সেচের প্রয়োজন হলেও জেলার অধিকাংশ কৃষক পানির অভাবে ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের কৃষক কালু জানান, ‘তিনি প্রতিবছরের মতো এবারও দুই একর জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষ করেছিলেন। স্থানীয়ভাবে সেচের মাধ্যমে চাষ করা ধানের জমিতে এখন পানির অভাবে সেচ দিতে পারছেন না। ফলে তিনি এখন নিরুপায় হয়ে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছেন।
একই রকমের কথা বলেছেন পার্শ্ববর্তী বড় বল্লভপুর গ্রামের কৃষক জহির। তিনি জানান, অন্যের জমিতে কামলা খেটে তিনি দুই একর জমিতে ধান চাষ করেছেন। সার, কীটনাশক কিনতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণ করেছেন। এখন পানির অভাবে তার সে ধান চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জেলার কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্চ গ্রামের কৃষক আবু ছায়েদ বলেন, তিনি একজন নদীভাঙা মানুষ। এনজিও থেকে ঋণ করে তিনি চার একর জমিতে বর্গা সয়াবিন চাষ করে ছিলেন। শুরুতে ভালো ফলন আশা করলেও বর্তমানে বৃষ্টির অভাবে গাছ লাল হয়ে যাচ্ছে। ফুল আসছে না। রোদের তীব্রতার কারণে ফুল ঝরে যাচ্ছে। ফল অপরিপক্ব হচ্ছে। এতে তার কাঙ্ক্ষিত ফলন হবে না। কাঙ্ক্ষিত ফলন না পেলে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতে হবে।
সদর উপজেলা মেঘনা উপকূলের চররমণী গ্রামের গরু ও মহিষের খামারি স্বপন জানান, তার দুই শতাধিক গরু-মহিষ রয়েছে। পরিত্যক্ত চরের ঘাস খেয়ে গরু-মহিষ পালন করা হয়। এবার বৃষ্টি না হওয়ায় চরে ঘাস নেই। ফলে গরুর খাবার নিয়ে তাকে নানা বেগ পেতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার মান্দারি গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন বলেন, বাংলা সনের এখন শেষ প্রান্তে এসেও বৃষ্টি না হওয়ায় প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে জেলার কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেবে।