ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

এনএসআইএ চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ০১:১৯ পিএম
এনএসআইএ চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৬

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় (এনএসআই) চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারকচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

সোমবার (১৩ মে) গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর ডিবির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. লিয়ন ইসলাম (২৫), মো. হুমায়ুন কবির প্রিন্স (৩৬), মো. মোজাহিদুল ইসলাম (২৩), রাজিয়া সুলতানা (২২), মোছা. রিপা আক্তার (২১) ও মোছা. রিখা মনি (১৭)।

উপ-কমিশনার জানান, দুই নারী ভুক্তভোগীর অভিযোগে এনএসআই ও ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। প্রতারকচক্রটি ফেসবুকে এনএসআই-এ চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে, নিজেদের এনএসআই সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। তাদের এনএসআই হিসেবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভুয়া আইডি কার্ড ও নিয়োগপত্র দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পোস্টিং ও বদলির অর্ডার দিত। তারপর চক্রটি নিজেদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিবর্তন করে নিত।

তিনি আরও জানান, অভিযানে প্রশিক্ষণ মডিউল বই, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ইলেকট্রিক শকিং ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পলাশ/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

৫ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার দুই চীনা নাগরিক রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:০৭ পিএম
৫ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার দুই চীনা নাগরিক রিমান্ডে
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোয়া পাঁচ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার দুই চীনা নাগরিকের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন লিউ ঝনজিলাং ও চেনজেংক।

শুক্রবার (২৪ মে) আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ এ আদেশ দেন।

আদালতে দায়িত্বরত বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক মোজাফফর আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চার্জার লাইটের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো সোয়া পাঁচ কেজি ওজনের ৪৬টি স্বর্ণের বারসহ গ্রেপ্তার এই দুই বিদেশির রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক জাকির হোসাইন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদেশ দেন আদালত। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, এই দুই আসামি গত বৃহস্পতিবার দুবাই এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করেন। ফ্লাইটটি বিমানবন্দরের ৭ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উড়োজাহাজে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। এ সময় ফ্লাইটের ১৪ ‘এ’ এবং ১৩ ‘এফ’ আসনে থাকা এই দুই যাত্রী লিউ ঝনজিলাং ও চেনজেংকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তল্লাশি করে তাদের কাঁধব্যাগে তিনটি চার্জার লাইট পাওয়া যায়। স্ক্যানিং মেশিনে লাইটগুলো পরীক্ষা করে তাতে বিশেষ কায়দায় স্বর্ণের বার লুকিয়ে রাখার বিষয়টি ধরা পড়ে। চার্জার লাইট তিনটি ভেঙে ৫ কেজি ৩৩৬ গ্রাম ওজনের ৪৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য ৫ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। 

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ড যশোর-ঝিনাইদহেও ছিল চরমপন্থি শিমুলের দাপট

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
যশোর-ঝিনাইদহেও ছিল চরমপন্থি শিমুলের দাপট
এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার ও শিমুল ভূঁইয়া

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের মূল হত্যাকারীর নাম শিমুল ভূঁইয়া। আমানুল্লাহ তার ছদ্মনাম। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। খুলনার ফুলতলার দামোদর ইউনিয়নে তার বাড়ি হলেও ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনার তথা দক্ষিণ জনপদের ত্রাস ছিল শিমুল ভূঁইয়া। ছাত্রজীবন থেকেই ঝিনাইদহ ও যশোরে ছিল তার যাতায়াত। পরে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দল ‘এমএল জনযুদ্ধের’ প্রধান হন শিমুল ভূঁইয়া। এ অঞ্চলের রাজনৈতিক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যার মাস্টার মাইন্ড তিনি। একসময় খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্রসফায়ারে নিহত লিটুর কাছে তার অস্ত্র রাখত। যশোরের প্রথিতযশা সাংবাদিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি শামছুর রহমান কেবলের কিলিং মিশনে শিমুল ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ মামলার অন্যতম আসামি ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটু। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যশোর-ঝিনাইদহের চরমপন্থি দলের পুরোনো কয়েকজন সদস্য জানান, বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত এমএল জনযুদ্ধের কার্যক্রম না থাকলেও আঞ্চলিক নেতা শিমুল ভূঁইয়া নিজের নাম পরিবর্তন করে পূর্বের অনুসারীদের নিয়ে চুক্তিভিত্তিক অতিগোপনে খুনোখুনি চালিয়ে যান। ২০ বছর জেল খেটেও একত্রিত করে রাখেন জনযুদ্ধ সংগঠনের মতাদর্শীদের। টাকার লোভে অনেক ভাড়াটে খুনিরাও তার গ্রুপের কিলিং মিশনে কাজ করেন। 

তারা আরও জানান, রাজশাহীতে থাকাকালীন শিমুলের যাতায়াত ছিল ঝিনাইদহে। সেখানে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) শীর্ষ নেতা আব্দুর রশিদ মালিথা ওরফে দাদা তপনের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। একাধিকবার জেল খাটার কারণে লেখাপড়া বন্ধ করে চরমপন্থি দলে যোগ দেন শিমুল। দায়িত্ব পান খুলনা অঞ্চলের। এরপর তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়ে ওঠেন আরও বেপরোয়া।

২০১০ সালের আগ পর্যন্ত দক্ষিণ জনপদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চরমপন্থিরা। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র মতে, সেই সময়ে শিমুল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এ অঞ্চলের শীর্ষ চরমপন্থি নেতা আব্দুর রশিদ তপু, মৃণাল, শৈলেন, দেবু সবাই ছিলেন শিমুলের অধীনে। শিমুল প্রকাশ্যে না এলেও তার নামেই চলত সবকিছু।

অন্য একটি সূত্র জানায়, এমপি আনার খুনের বিভিন্ন পর্যায়ে চরমপন্থি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। শিমুল ভূঁইয়াকে যিনি ভাড়া করেছেন, সেই আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহিন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) শীর্ষ নেতা ডা. মিজানুর রহমান ওরফে টুটুলের আত্মীয়। মিজানুর রহমান ২০০৮ সালে পুলিশের সঙ্গে এক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আক্তারুজ্জামান ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান কাটু মিয়ার ছোট ছেলে। তাদের বাড়ি কোটচাঁদপুর শহরের মাছবাজার এলাকায়। তার বড় ভাই মো. সহিদুজ্জামান ওরফে সেলিম কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র। আক্তারুজ্জামান মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কিছুদিন চাকরি করে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ব্যবসা শুরু করেন। তবে এলাকার কেউ তার ব্যবসা সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানে না।

জানা গেছে, শিমুল ভূঁইয়াই, সৈয়দ আমানুল্লাহ নামে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আমানুল্লাহ নামেই পাসপোর্ট বানিয়েছেন। সেই পাসপোর্টে তিনি ভারতের কলকাতা গিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে পাসপোর্টটি করা হয়েছিল। পাসপোর্ট করতে তিনি একই নামে জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) তৈরি করেছেন। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষ কেউ তার দেখা পায়নি। তারপরও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন টেন্ডারবাজি ও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে বার বার। এবার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে এই চরমপন্থি নেতার নাম।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে খুলনা অঞ্চলের চরমপন্থিদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল পুলিশের বিশেষ শাখা। তাতে শিমুল ভূঁইয়া ও তার ছোট ভাই শিপলু ভূঁইয়াকে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০০০ সালে যশোরের অভয়নগর এলাকায় একটি হত্যা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ওই মামলায় জেল খাটেন শিমুল ভূঁইয়া। জেল থেকে বের হওয়ার পর তাকে পরিবারের বাইরের কেউ কখনো দেখেনি। তবে বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে। শিমুল ভূঁইয়ার ২৫টি মামলায় সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ড আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১১:৫২ এএম
আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন
অভিযুক্ত শাহীন ও এমপি আজীম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার খুনের ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন।

এমপি আনার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের একজন আমানুল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, আনারকে খুনের জন্য আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীনের সঙ্গে তার ৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কাছে আক্তারুজ্জামান শাহীন দাবি করেছেন, এমপি আনার হত্যার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। ৫ কোটি টাকায় কিলিং মিশন চুক্তির খবরও অস্বীকার করেন তিনি।

টেলিফোনে শাহীন বলেন, ‘এই ঘটনায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এই ঘটনার সময় আমি ভারতে ছিলাম না। আমার আইনজীবী বলেছেন এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা না বলতে। মানুষ দেশে অনেক কথাই বলে। যদি কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে দেখাক।’

শাহীনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে আনার খুন হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এই প্রসঙ্গে শাহীন বলেন, ‘আমি যদি ফ্ল্যাট ভাড়া নিই। আমি কি আমার ফ্ল্যাটে এই ধরনের কাজ করব? আমার পাসপোর্ট রেকর্ড দেখলে দেখা যাবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এখন বলা হচ্ছে আমি ৫ কোটি টাকা দিয়েছি। কীভাবে আমি ৫ কোটি টাকা দিয়েছি? কোথা থেকে পেলাম আমি এত টাকা! এখন এগুলো মানুষ বললে আমার কী করার আছে? ঘটনা কবে ঘটেছে সেগুলো আমি পত্রিকায় দেখেছি। সে সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম।’ 

শাহীন বলেন, ‘এ ছাড়া আমার ড্রাইভার তো কিছু করেনি। আমার গাড়ি, আমার সবকিছু নিয়ে চলে গেছে। এটা কোন ধরনের বিচার। আমি যদি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমাকে ধরুক। আমি তো এই দেশে বিচার পাব না। আমি আমেরিকার নাগরিক, এখানে চলে এসেছি। কী করব?’

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশে সৈয়দ আমানুল্লাহ, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি নামে তিনজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো. আক্তারুজ্জামান শাহীনের নাম এসেছে। কলকাতার নিউ টাউনে যে ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়, সেটি এই শাহীনের ভাড়া করা। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. সহিদুজ্জামান সেলিমের ছোট ভাই।

পুলিশের বরাতে গণমাধ্যমে খবর এসেছে, আক্তারুজ্জামান শাহীন ও আনোয়ারুল আজীম পুরোনো বন্ধু। শাহীনের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে। রাজধানীর গুলশানে তার বাসা রয়েছে। তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে তার বাসা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কলকাতার ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার সময় শাহীন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন, যা ভাড়ার চুক্তিপত্রেও উল্লেখ আছে। তাকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানা যায়।

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ড সন্ত্রাসী শিমুল ভূঁইয়া যেভাবে আমানুল্লাহ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১১:০২ এএম
সন্ত্রাসী শিমুল ভূঁইয়া যেভাবে আমানুল্লাহ
শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সৈয়দ আমানুল্লাহর বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আমানুল্লাহ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন, আনারকে খুনের জন্য আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীনের সঙ্গে তার ৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়।

আর এই আমানুল্লাহই হলেন খুলনা অঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী শিমুল ভূঁইয়া। খুলনার ফুলতলা এলাকায় পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) শীর্ষ নেতা শিমুল ভূঁইয়া নামে পরিচিত। তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের কাছে শিমুল ভূঁইয়া নিজেকে সৈয়দ আমানুল্লাহ নামে পরিচয় দেন। তিনি আমানুল্লাহ নামেই পাসপোর্ট বানিয়েছেন, সেই পাসপোর্টে তিনি কলকাতায় গেছেন। ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে পাসপোর্টটি করা হয়। পাসপোর্ট করতে একই নামে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) তৈরি করিয়েছেন। কীভাবে তিনি শিমুল ভূঁইয়া থেকে আমানুল্লাহ হলেন এবং ভুয়া পাসপোর্ট ও এনআইডি তৈরি করলেন, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, ফুলতলার দামোদর হাইস্কুলে পড়ার সময় শিমুল ভূঁইয়ার নাম ছিল ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া। তার বাবার নাম ছিল নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া। পরবর্তী সময়ে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় ধূম্রজাল তৈরি করে তিনি ২০১৯ সালে ঢাকা থেকে সৈয়দ আমানুল্লাহ নামে পাসপোর্টটি করেন। সেই পাসপোর্টে তিনি ভারতের কলকাতায় গিয়েছিলেন। শিমুলের ভাই শিপলু ভূঁইয়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় তিনি ভুয়া তথ্য দিয়ে নাম পরিবর্তন, এনআইডি ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কলকাতার নিউ টাউনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্যকে খুন করে ১৫ মে দেশে ফেরেন আমানুল্লাহ পরিচয় দেওয়া শিমুল ভূঁইয়া। পরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন আনোয়ারুলকে তারা হত্যা করেছেন। আনারকে হত্যার জন্য আনোয়ারুলের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীনের সঙ্গে তার চুক্তি হয়। আনোয়ারুলের সঙ্গে আক্তারুজ্জামানের স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য পাচ্ছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজীমকে খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সৈয়দ আমানুল্লাহ নামে পরিচয়দানকারী শিমুল ভূঁইয়া।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, শিমুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে খুনসহ অন্তত দুই ডজন মামলা আছে। গণেশ নামের এক ব্যক্তিকে খুন করে যশোরের অভয়নগর থানার এক মামলায় আমানুল্লাহ সাত বছর (১৯৯১-৯৭) জেল খাটেন। ইমান আলী নামের এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জেল খাটেন।

এদিকে ২০০০ সালে শিমুল ভূঁইয়া পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে জবানবন্দিতে চরমপন্থি দলের অস্ত্র কোথায় কার কাছে রয়েছে জানান। এর মধ্যে খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার যুবলীগ নেতা এস এম আসাদুজ্জামান লিটুর নাম ছিল। বিষয়টি নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন ছাপা হলে ক্ষিপ্ত হন লিটু। পরে ২০০০ সালের ১৬ জুলাই সাংবাদিক শামছুর রহমানকে তার যশোরের অফিসে ঢুকে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলায় লিটু আসামি ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট ক্রসফায়ারে লিটু মারা যান। ২০১৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া।

অন্যদিকে ছদ্মবেশী খুনি শিমুল ভূঁইয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমীন খুলনা জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত। ২০১৭ সালের ২৫ মে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খুন হন ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু। ২০১৮ সালে শিমুল ভূঁইয়াকে তালিকায় প্রথম ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমীনকে চতুর্থ নম্বরে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দেয়। কিন্তু পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সর্বশেষ ২০২২ সালে খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবিনা ইয়াসমীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচিত হন। 

জিজ্ঞাসাবাদ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এই খুনের বিভিন্ন পর্যায়ে চরমপন্থি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। শিমুল ভূঁইয়াকে যিনি ভাড়া করেছেন, সেই আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) শীর্ষ নেতা ডা. মিজানুর রহমান ওরফে টুটুলের আত্মীয়। মিজানুর রহমান ২০০৮ সালে পুলিশের সঙ্গে এক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

খুলনায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান কাটু মিয়ার ছোট ছেলে। তাদের বাড়ি কোটচাঁদপুর শহরের মাছবাজার এলাকায়। তার বড় ভাই মো. সহিদুজ্জামান ওরফে সেলিম কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র। আক্তারুজ্জামান মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কিছুদিন চাকরি করে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ব্যবসা শুরু করেন। তবে এলাকার কেউ তার ব্যবসা সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানেন না।

আমানুল্লাহর পরিবার লাপাত্তা

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলতলার দামোদর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া ও তার ভাইপো তানভীর ভূঁইয়ার বাড়ি তালাবদ্ধ। শিমুল ভূঁইয়ার ভাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিপলু ভূঁইয়ার বাড়িও লোকশূন্য। আমানুল্লাহ যশোরের অভয়নগরে চরমপন্থি গণেশ হত্যা মামলায় সাত বছর (১৯৯১-৯৭) ও ইমান আলী হত্যা মামলায় ১৩ বছর (২০০০-১৩) জেল খাটেন।

শাহজালালে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ দুই চীনা নাগরিক আটক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৬:০১ পিএম
শাহজালালে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ দুই চীনা নাগরিক আটক
ছবি : সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ দুই চীনা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী পরিচালক সাবরিনা আমিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতামূলক অবস্থান গ্রহণ করেন। সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে বিমানটি ০৭ নং বোর্ডিং ব্রিজে সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লাইটের ১৪এ এবং ১৩এফ সিটের যাত্রী চীনা নাগরিক লু জিহংলিয়েং এবং ছেন জেং-এর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তল্লাশি করে তাদের ব্যাগে তিনটি চার্জার লাইট জব্দ করা হয়। পরে ওই চার্জার লাইটগুলো গ্রিন চ্যানেলের ইনভেন্ট্রি টেবিলে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে খোলা হয়। এ সময় চার্জার লাইটের ভেতরে থাকা ব্যাটারির মধ্য থেকে ৪৬ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন পাঁচ হাজার ৩৩৬ গ্রাম বা ৫.৩৩৬ কেজি। আটক স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। 

স্বর্ণবারগুলো কাস্টম হাউসের শুল্ক গুদামে জমা দেওয়া ও বিমানবন্দর থানায় আটকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।