ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

এমপি আজীম হত্যাকাণ্ড আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১১:৫২ এএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ১২:০৮ পিএম
আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহীন
অভিযুক্ত শাহীন ও এমপি আজীম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার খুনের ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন।

এমপি আনার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের একজন আমানুল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, আনারকে খুনের জন্য আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীনের সঙ্গে তার ৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কাছে আক্তারুজ্জামান শাহীন দাবি করেছেন, এমপি আনার হত্যার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। ৫ কোটি টাকায় কিলিং মিশন চুক্তির খবরও অস্বীকার করেন তিনি।

টেলিফোনে শাহীন বলেন, ‘এই ঘটনায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এই ঘটনার সময় আমি ভারতে ছিলাম না। আমার আইনজীবী বলেছেন এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা না বলতে। মানুষ দেশে অনেক কথাই বলে। যদি কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে দেখাক।’

শাহীনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে আনার খুন হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এই প্রসঙ্গে শাহীন বলেন, ‘আমি যদি ফ্ল্যাট ভাড়া নিই। আমি কি আমার ফ্ল্যাটে এই ধরনের কাজ করব? আমার পাসপোর্ট রেকর্ড দেখলে দেখা যাবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এখন বলা হচ্ছে আমি ৫ কোটি টাকা দিয়েছি। কীভাবে আমি ৫ কোটি টাকা দিয়েছি? কোথা থেকে পেলাম আমি এত টাকা! এখন এগুলো মানুষ বললে আমার কী করার আছে? ঘটনা কবে ঘটেছে সেগুলো আমি পত্রিকায় দেখেছি। সে সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম।’ 

শাহীন বলেন, ‘এ ছাড়া আমার ড্রাইভার তো কিছু করেনি। আমার গাড়ি, আমার সবকিছু নিয়ে চলে গেছে। এটা কোন ধরনের বিচার। আমি যদি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমাকে ধরুক। আমি তো এই দেশে বিচার পাব না। আমি আমেরিকার নাগরিক, এখানে চলে এসেছি। কী করব?’

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশে সৈয়দ আমানুল্লাহ, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি নামে তিনজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো. আক্তারুজ্জামান শাহীনের নাম এসেছে। কলকাতার নিউ টাউনে যে ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়, সেটি এই শাহীনের ভাড়া করা। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. সহিদুজ্জামান সেলিমের ছোট ভাই।

পুলিশের বরাতে গণমাধ্যমে খবর এসেছে, আক্তারুজ্জামান শাহীন ও আনোয়ারুল আজীম পুরোনো বন্ধু। শাহীনের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে। রাজধানীর গুলশানে তার বাসা রয়েছে। তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে তার বাসা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কলকাতার ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার সময় শাহীন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন, যা ভাড়ার চুক্তিপত্রেও উল্লেখ আছে। তাকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানা যায়।

র‍্যাব-সাংবাদিক পরিচয়ে ডাকাতি, হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৫৬ পিএম
র‍্যাব-সাংবাদিক পরিচয়ে ডাকাতি, হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরের সেলভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতনের টাকা তুলে নিয়ে ফেরার পথে র‍্যাব ও সাংবাদিক পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাড়ে ১৯ লাখ টাকা ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বুধবার (১২ জুন) রাতে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থা আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ৬ জুন বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুরের সেলভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তিন কর্মকর্তা একটি প্রাইভেট ব্যাংক থেকে কারখানার শ্রমিকদের বেতন, ঈদ বোনাস ও পরিবহন খরচের সাড়ে ১৯ লাখ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকার দিয়ে কারখানায় ফিরছিলেন। তাদের বহনকারী গাড়িটি কারখানার কাছাকাছি আসলে একটি গাড়ি তাদের গাড়ির গতিরোধ করে।

এসময় র‌্যাবের জ্যাকেট পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে  কর্মকর্তাদের অপহরণ করে গাড়িতে তুলে নিয়ে মারধর করে। গাজীপুর-ময়মনসিংহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় তিনজনকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে নেমে রাজধানীর রামপুরা ও উত্তরা এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চক্রের মূলহোতা  হামিম ইসলাম (৪৫), মো. জিন্নাহ মিয়া (২৭), মো. আমিন হোসেন (৩০), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. আশিকুর রহমান (৪২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, দুটি খেলনা পিস্তল, দুইটি হাতে তৈরি র‌্যাব জ্যাকেট, দুটি র‌্যাবের ক্যাপ, ১টি হ্যান্ডকাফসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আসামিদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ডাকাত সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কমান্ডার আরাফাত বলেন,  ডাকাত দলটির প্রধান হামিম। এই ডাকাত দলে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য রয়েছে। এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতি কাজে মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করতো বলে জানা যায়। ৩ থেকে ৪ বছর  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরাসহ রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির করত। ডাকাতির কৌশল হিসেব বিভিন্ন সময় নিজেদেরকে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সদস্য পরিচয় প্রদানসহ ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বাহিনীর লোগো সম্বলিত স্টিকার ব্যবহার করত। দলের কিছু সদস্য ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করে। বেশি অর্থ উত্তোলনকারী ব্যক্তিকে টার্গেট করে বাহিরে অবস্থানকৃত চক্রের অন্য সদস্যদেরকে জানিয়ে দিতো। পরবর্তীতে সুবিধাজনক  স্থানে টার্গেটকৃত ব্যক্তির গাড়ির গতিরোধ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। মারধর করে তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যেত। তারা মাসে ২ থেকে ৩টি ডাকাতি করত। 

চক্রটি পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল বলে জানা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উৎসবের সময়ে আর্থিক লেনদেন বেশি হয়। অনেকেই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি প্রয়োজনে টাকা লেনদেন করেন। এই সময়ে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অনেক বেশি থাকে। ব্যাংকেও আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের অনুরোধ থাকবে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এমন ঘটনা এড়ানো যাবে।

ঈদকে কেন্দ্র করে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা বেপারীদের উদ্দেশ্য র‍্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা অনুরোধ করবো বড় অংকের টাকা বহনের সময়ে নিকটস্থ র‍্যাবকে জানালে জানালে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

খাজা/এমএ/

অর্থ আত্মসাৎ: মূসকের সাবেক কমিশনার ওয়াহিদার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ০৭:১২ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৪, ০৭:১২ পিএম
অর্থ আত্মসাৎ: মূসকের সাবেক কমিশনার ওয়াহিদার বিরুদ্ধে মামলা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১৫২ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন ও আত্মসাতের অভিযোগে মূল্য সংযোজন করের (মূসক) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের সাবেক কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

মঙ্গলবার (১১ জুন) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন সহকারী পরিচালক শাহ আলম শেখ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী মূসকের কমিশনার থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের চারটি মোবাইল কোম্পানির কাছে রাষ্ট্রের পাওনা ১৫২ কোটি ৮৯ হাজার ৩৯০ টাকা মওকুফ করেন। এর মধ্যে ২০২০ এর মার্চ থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণফোন লিমিটেডের কাছে পাওনা ৫৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৭ টাকা, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেডের কাছে ৫৭ কোটি ৮৮ লাখ ৫৩ হাজার ৫১ টাকা, রবি আজিয়াটার ১৪ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৮৮ টাকা এবং এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৫২ টাকা পাওনা মওকুফ করেন, যা দণ্ডবিধি ২১৮, ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

ফেনীতে যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ০৯:৩৮ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
ফেনীতে যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

ফেনীর সদর উপজেলা থেকে অজ্ঞাত যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (১০ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের শাহাপাড়া এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, রাত ১০টার দিকে ফাজিলপুর ইউনিয়নের শাহাপাড়া এলাকায় রাস্তার ওপর লাইটের আলো জ্বলছে দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি নতুন টমটমের পাশে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান। ইউপি সদস্য ঘটনাটি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শাহাদৎ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াই অংফু মার্মা, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শাহাদৎ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, লাশের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ থেঁতলানো ও গলা কাটা। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড ধরেই তদন্ত করছে পুলিশ। 

শাহাদৎ হোসেন/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

ধর্ষণ মামলায় ‘টিকটকার’ প্রিন্স মামুন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ০১:৩০ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৪, ০১:৩০ এএম
ধর্ষণ মামলায় ‘টিকটকার’ প্রিন্স মামুন গ্রেপ্তার
‘টিকটকার’ আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন। ছবি : সংগৃহীত

লায়লা আখতার ফারহাদের করা ধর্ষণ মামলায় ‘টিকটকার’ আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লার পুলিশ। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা এ মামলায় সোমবার (১০ জুন) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের কথা জানিয়ে রবিবার প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন লায়লা। এরপর গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এখন আমাদের টিম কুমিল্লার পথে। কুমিল্লার পুলিশ প্রিন্স মামুনকে হস্তান্তর করবে।

অভিযোগে লায়লা উল্লেখ করেন, ‘মামলার বিবাদী আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে আমার গত তিন বছর আগে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে মামুন আমাকে বিয়ে করবে মর্মে প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে।’ সে আমাকে জানায়, তার ঢাকায় থাকার মতো নিজস্ব কোনো বাসা নেই। যেহেতু প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং মামুন আমাকে বিয়ে করবে বলে জানায়, তাই তার কথা সরল মনে বিশ্বাস করে তাকে আমার বাসায় থাকার অনুমতি দিই।
‘২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি মামুন তার মাকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাসায় এসে বসবাস করতে থাকে। ওই দিন থেকে সে আমার বাসায় আমার সঙ্গে একই রুমে থাকতে শুরু করে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। মামুন আমার বাসায় থাকাকালে তার বাবা-মা মাঝেমধ্যেই সেখানে এসে অবস্থান করতেন। আমি মামুনকে একাধিকবার বিয়ের বিষয় বললে সে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।’

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৪ মার্চ মামুন আবার ধর্ষণ করে। পরে আমি তাকে বিয়ের বিষয়ে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমাকে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মামলার অভিযোগে সব উল্লেখ করা হয়। 

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়।

খাজা/এমএ/

ভূজপুর ট্র্যাজেডি: ১২ বছর পর গ্রেপ্তার আসামি মামুন

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ০৪:০৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৪, ০৪:১০ পিএম
ভূজপুর ট্র্যাজেডি: ১২ বছর পর গ্রেপ্তার আসামি মামুন
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ভূজপুরে ২০১৩ সালে হরতালবিরোধী মিছিলে জামায়াত-শিবিরের হামলায় তিনজন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. মামুনকে ১২ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রবিবার (৯ জুন) মহানগরীর বড়পুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-৭ জানায়, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মামুন ভূজপুর কোম্পানিটিলা এলাকার আজিজুল হক প্রকাশ চিকন মিয়ার ছেলে।

তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে ১২ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার শরীফ উল আলম বলেন, মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুরে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলে তাণ্ডব চালায় বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। সে সময় যুবলীগ নেতা ফারুক ইকবাল বিপুল, রুবেল ও ফোরকানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তিন শতাধিক যানবাহন। সেদিন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসেরসহ অসংখ্য গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পুলিশের ওপরও হামলা চালায় তারা। ‘ভুজপুর ট্র্যাজেডি’ হিসেবে এ ঘটনা সবার কাছে পরিচিত। 

এদনি রাতেই ভুজপুর থানায় নিহত তিনজনের পরিবার তিনটি এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মিলে দুটিসহ মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। পাঁচ মামলায় ৪৭১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আসামি করা হয় ১৬ হাজার।

আবদুস সাত্তার/অমিয়/