ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

মা দিবসের ছড়া

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ০২:৪৬ পিএম
মা দিবসের ছড়া

মাকে মনে পড়ে
আহসান মালেক

জষ্ঠি মাসে একটি ছেলে
আমের শাখায় শাখায়,
পাকা আমের গন্ধ শুঁকে
স্বপ্ন চোখে মাখায়।

এমন সময় আকাশ ভেঙে
বৃষ্টি যখন ঝরে,
সেই ছেলেটার মায়ের কথা
অমনি মনে পড়ে।

সেই যে কবে মামণি তার
ফেলে তাকে একা,
কোথায় যেন হারিয়ে গেল
আর পেল না দেখা।

সাঁঝের বেলা দূর আকাশে
জ্বললে তারার বাতি,
উদাস চোখে খুঁজে ফিরে
মাকে আঁতিপাঁতি।

এমনি করে দিন কেটে যায়
এমনি করেই ক্ষণ,
মায়ের স্নেহের মায়া ডোরে
বাঁধা এ জীবন।

 

মা অমূল্য ধন
নীহার মোশারফ

কত স্বপ্ন, বাঁচার আশা
দেশের প্রতি ভালোবাসা
বাঁশের বাঁশি, পুবাল হাওয়া
ঝরনাধারা, পক্ষী নানান
তার ভেতরে মাকে খুঁজি-
স্বদেশ আমার, বসুন্ধরা
গভীর মায়ায় যত্নে গড়া
নিরবধি নদীর ঢেউয়ে
হাজার খুশির পিদিম নাচে
তার ভেতরে স্নেহের পুঁজি।
সকাল হলে মাকে বলি
সূর্যরাঙা মাঠে চলি
তুমি আমার কপালজুড়ে
যখন দিলে আলতো চুমু
দেখে বাবা দিল হেসে-
কীসের দুঃখ, ব্যথা শত
কষ্ট যত হলো গত
মুক্ত মনের ডানাগুলো
ঘুড়ির মতো উড়ে উড়ে
অনেক দূরে গেল ভেসে।
মা তো আমার মা’ই আছে
থাকে আমার কাছে কাছে
মাকে ছাড়া ভাল্লাগে না
খোলা আকাশ, পাহাড়, সাগর
হীরা, চুনি, পান্না, মণি-
মায়ের আদর শীতল শীতল
অমূল্য ধন সোনার খনি।

মা ও খোকা
আবেদীন জনী

মা বলে, এই দুষ্টু খোকা
তুই যে দেখি বড্ড বোকা!
খাস না আঙুর, আপেল কলা
তবুও কিছু যায় না বলা
বলতে গেলেই গাল বালিশ,
অফিস থেকে ফিরলে বাপে
করবি দুশো চার নালিশ।

দুধেভাতেও মন বসে না
মারব ক’টা চড় কষে না!
মায়ের মেজাজ ভীষণ চড়া-
খোকা বলে, মারো মারো
কভু তুমি মারতে পার?
মিছেমিছি মেজাজ দেখাও
মনটা তোমার মায়ায় ভরা।

খোকা আরও হাসে-
একটি বারও মেরেছ কি
গত বারো মাসে?

বকলে খোকা হাসতে থাকে
হাসির বানে ভাসতে থাকে
সেই হাসি তার ঠোঁটে ফোটে
ঠিক যেন টুসটুস,
মাকে বলে নানান ছলে
মুখ লুকিয়ে আঁচলতলে
দাও না লেমন চুস।


মায়ের চোখে আকাশ দেখি
রাফিয়া নাওয়ার


মা যে আমার এই দুনিয়ায়
জান্নাতেরই ঘ্রাণ
মা যে আমার নয়নমণি
মা যে আমার প্রাণ।

মা যে আমার বসুন্ধরা
যত্নে রাখে খুব
মা যে আমার আধার রাতে
জলন্ত এক ধূপ।

মা যে আমার আকাশ সমান
বিশাল যে তার হাত
ওই হাতখানা রাখলে মাথায়
যায় কেটে যায় রাত।

মা যে আমার অপেক্ষা খুব
ব্যাকুলতা যে কী!
মায়ের চোখের তারা দিয়ে
ওই আকাশটা দেখি।


আমার মা
সুশান্ত কুমার দে

আমার মা মহতী, লক্ষ্মী বলি তারে
তাঁর কীর্তি অভূতপূর্ব এই সংসারে,
মায়ের দু’চোখ যেন দুটো ধ্রুবতারা
ধ্রুবতারার আলোয় হই আত্মহারা।
মায়ের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সদা শিশুর প্রতি
কখনো সন্তানের হয় না যেন ক্ষতি,
পৃথিবীর সব সুখ মা’র আঁচল ভরি
সন্তানের সুখের তরে আমৃত্যু লড়ি।

সন্তানের অসুখে মায়ের মুখ ভারি
উপাসনালয়ে বসেই মানত তারি।
মায়ের সব সুখ সব অহংকারে
সন্তানের সুখে বিলিয়ে দেয় তারে।
মায়ের কাছ শিশু যেন সব সুখ
শিশুর হাসি মুখে কেটে যায় দুঃখ,
মায়ের মিষ্টি হাসি কি জাদুর পরশ
শিশুর ভালো-মন্দ মা রাখে খোঁজ?

মা কত কষ্ট করে গর্ভে সন্তান ধরে
নয় মাস দশ দিন জীবন যুদ্ধ লড়ে,
এমন মাকে দুঃখ দিয়ে চাই না সুখ
মাকে সবাই ভালোবাস, দিও না দুখ?
বড় হয়ে মাকে করিব না অবহেলা
মা ছাড়া পৃথিবীটাই দুঃখের ভেলা,
এমন মা যার ঘরে আছে একজন
সেই ঘরে দুঃখটা পালায় সারাক্ষণ


মায়ের খোকন
শাকিব হুসাইন

মায়ের খোকন
ব্যস্ত বেজায়
সারা দিনই কাজে...
কাজের শেষে
ক্লান্তি নিয়ে
ফেরে রাতের মাঝে।

মা-টা যে তার
অসুস্থ খুব
পড়ে থাকে ঘরে...
মায়ের খুশি
আনতে খোকন
এত্ত কিছু করে...
রাতটা হলে
খোকন ঘুমোয়
মায়ের গলা ধরে।

উদার আকাশ
উদার মুখে
মাকে বলে ডেকে—
এমন খোকন
ও মা তুমি
পেলে কোথায় থেকে?

আমার খোকন
আমার পেটের
সাতরাজ্যির ধন...
প্রতি ঘরে
জন্ম হউক
আমার খোকার মন।


মায়ের দোয়া
কবির কাঞ্চন
মায়ের দোয়া সবার আগে
পৌঁছে
বিপদআপদ এক নিমিষে
ঘোচে।

মাকে আমি ভালোবাসি
বেশি
তাই তো আমি মায়ের কাছে
ঘেঁষি।

সবচেয়ে দামি আমার মায়ের
হাসি
তাই তো আমি সেই হাসিতে
ফাঁসি।

মায়ের গায়ের গন্ধ সবার
সেরা
তাই তো আমার মায়ের কাছে
ফেরা।

মায়ের মতো নেই তো এমন
কেহ
শোধ হবে না কেটে দিলে
দেহ।

 

জাহ্নবী

কোনান ডয়েলের বিচিত্র জীবন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০৩:২১ পিএম
কোনান ডয়েলের বিচিত্র জীবন
ছবি: সংগৃহীত


আর্থার কোনান ডয়েল। পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র শার্লক হোমসের স্রষ্টা। জন্ম ১৮৫৯ সালের ২২ মে, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে। পুরো নাম আর্থার ইগনেসিয়াস কোনান ডয়েল। তার পরিচয়ের পাল্লাও বেশ ভারি। তিনি একাধারে ছিলেন আত্মিকবাদী, ইতিহাসবিদ, তিমি শিকারি, ক্রীড়াবিদ, যুদ্ধ-সাংবাদিক, ডাক্তার, কবি, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার।

তার বাবা চার্লস আল্টামন্ট ডয়েল, মা মেরি।  পাঁচ বছর বয়সে তাদের পারিবারিক বন্ধন নড়বড়ে হয়ে যায়। যে কারণে এক বন্ধুর চাচি মেরি বার্টনের বাড়িতে বাস করতে শুরু করেন। পড়াশোনা করেন নিউইংটন অ্যাকাডেমিতে। তিন বছর পর পারিবারিক ঝামেলা মিটে গেলে আবার সবাই একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। নয় বছর বয়সে এক ধনী চাচার সহায়তায় ইংল্যান্ডে গিয়ে লেখাপড়া শুরু করেন ডয়েল। প্রিপারেটরি স্কুল শেষ করে স্টোনিহার্সট কলেজে ভর্তি হন।

তিনি চিকিৎসা বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন এডিনবার্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই সময়ে এডিনবার্গের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনে ব্যবহারিক উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়েও পড়াশোনা করেন। এই পড়াশোনার সময়ই ডয়েল ছোটগল্প লিখতে শুরু করেন। ব্ল্যাকউডস ম্যাগাজিনে গল্প পাঠালেও তা প্রকাশিত হয়নি। তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৮৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চেম্বার্স এডিনবার্গ জার্নালে। দক্ষিণ আফ্রিকার পটভূমিতে লেখা সে গল্পের নাম ‘সাসা উপত্যকার রহস্য’। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় লেখা। ১৮৮০ সালে ‘হোপ অব পিটারহেড’ নামে গ্রিনল্যান্ডেরই এক জাহাজের চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ডয়েল। ১৮৮১ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিনের ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং সার্জারিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এসএস মিয়াম্বা নামের জাহাজের সার্জন হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল ভ্রমণ করেন ডয়েল। ১৮৮৫ সালে তিনি ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তবে ডাক্তার হিসেবে চরম ব্যর্থ ছিলেন ডয়েল।

এই ব্যর্থতা তাকে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৮৮৬ সালে লিখলেন ‘আ স্টাডি ইন স্কারলেট’। এটা ছিল শার্লক হোমস ও ওয়াটসনকে নিয়ে লেখা তার প্রথম কাহিনি। কিন্তু এই কাহিনি প্রকাশ করার মতো প্রকাশক পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্ড লক অ্যান্ড কো. নামের প্রতিষ্ঠান ১৮৮৬ সালের ২০ নভেম্বর মাত্র পঁচিশ পাউন্ডের বিনিময়ে পাণ্ডুলিপির সব স্বত্ব কিনে নেয়।