ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

ডেঙ্গু জ্বরে অবহেলা নয়

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ০১:১০ পিএম
ডেঙ্গু জ্বরে অবহেলা নয়
শুধু এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। সাধারণ অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় না।

জ্বর মানেই ডেঙ্গু নয়। কিন্তু কারও ডেঙ্গু হয়েছে কি না, এটা শনাক্ত হয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে। যেমন

এনএস১ অ্যান্টিজেন: কারও ডেঙ্গু হলে সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার তিন দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাস রক্তে পজিটিভ থাকে। জন্য জ্বর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই পরীক্ষা করালে ভালো।

তবে সংক্রমণের পর সাধারণত এক থেকে তিন দিনের মধ্যেও এর ফলাফল পাওয়া যায়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই সেটা নেগেটিভ হয়ে যায়। তখন ওই ভাইরাসের উপস্থিতি রক্তে থাকে না। জন্য চতুর্থ বা পঞ্চম দিন এনএস১ পরীক্ষা করালে কোনো লাভ হয় না।

আইজিএম: জ্বর হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে পরীক্ষাটি করাতে হয়। আইজিএম পজিটিভ থাকা মানে বোঝায়, অ্যাকিউট ইনফেকশন হয়েছে বা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

পিসিআর: জ্বর হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় এই পরীক্ষা করাতে হয়।

আইজিজি: যেকোনো সময় করা যায়। আইজিজি হলো আগে রোগীর কখনো ডেঙ্গু হয়েছিল কি না তার পরীক্ষা।

সিবিসি: এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের হিমোগ্লোবিন, প্লাটিলেট, হেমাটোক্রিট (রক্তের ঘনত্ব বোঝার জন্য) ইত্যাদি জানা যায়।

উপরোক্ত পরীক্ষাগুলোয় পজিটিভ পাওয়া ব্যক্তির ডেঙ্গু হয়েছে বলে ধরা হয়। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলাকালীন সিবিসিসহ আরও নানা পরীক্ষা করা হয়।

 

ডেঙ্গু হলে যা করবেন

ডেঙ্গু ভাইরাস কারও দেহে ঢোকার পর দেহের প্রায় সব সিস্টেমকে আক্রমণ করে। তাই কারও ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এর নির্ধারিত কোনো চিকিৎসা নেই। কিন্তু সাপোর্টিভ চিকিৎসা সঠিক পরিচর্যা করলে জ্বর ভালো হয়ে যায় এবং ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়।

ডেঙ্গু ধরা পড়লে ভয়ের কিছু নেই। তবে কোনো ধরনের চিকিৎসা না করালে অনেক সময় ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হতে পারে। এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে ন্যাশনাল প্রটোকল বা গাইডলাইন রয়েছে।

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো, যাদের অন্য কোনো জটিল রোগ নেই। তারা সাধারণত বিশ্রাম নিলে, ঠিকমতো পানি পান করলে, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া আর কোনো ওষুধ সেবন না করলে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যান।

সময় কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক ওষুধও ব্যবহার করা যাবে না। বমি করলে আইভি ফ্লুইড দিতে হবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে জীবাণুবাহী এডিস মশা কামড় দিয়ে অন্য একজন সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তারও ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জন্য ডেঙ্গুতে কেউ আক্রান্ত হলে -১০ দিন পর্যন্ত মশারি টাঙিয়ে তাকে আলাদা করে রাখুন।

ডেঙ্গুর সময় তরল, নরম সহজপাচ্য খাবার খান।

 

কখন হাসপাতালে যাবেন

কারও শুধু জ্বর আছে, পাতলা পায়খানা নেই, বমি নেই, মুখে খেতে পারছে- রকম হলে হাসপাতালে ভর্তি না হলেও চলবে। বাসায় রেখেই তখন তাকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

জ্বরের সঙ্গে পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, বমি হলে অর্থাৎ বিভিন্ন ওয়ার্নিং সাইন দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করাই শ্রেয়।

শিশু, গর্ভবতী, বয়স্ক ব্যক্তি, কিডনি, হৃদরোগীদের ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া উচিত।

কারও কো-ইনফেকশন অর্থাৎ ডেঙ্গু টাইফয়েড একই সঙ্গে হয়েছে এমনটি হলে টাইফয়েডের চিকিৎসা করা যাবে। গুরুত্ব দিতে হবে প্রচুর তরল যেন দেহে ঢোকে সে বিষয়টির দিকে। এজন্য বেশি করে পানি, ডাবের পানি, শরবত, গ্লুকোজ, স্যালাইন, স্যুপজাতীয় তরল ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।

অন্তঃসত্ত্বা নারী, হার্টের রোগী, এনকেফালাইটিস ইত্যাদি রোগীর ক্ষেত্রে সমন্বিত চিকিৎসার দরকার হয়।

 

প্লাটিলেট সংক্রান্ত তথ্য

মানুষের দেহে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকার স্বাভাবিক মাত্রা হলো দেড় থেকে চার লাখ। রক্তক্ষরণ বন্ধে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ডেঙ্গুতে বেশির ভাগ রোগীর প্লাটিলেট কমে যায়, তবে সবার নয়। আবার প্লাটিলেট কমে গেলেই প্লাটিলেট দিতে হবে- এমন ধারণাও সঠিক নয়।

ডেঙ্গু বা অন্য কোনো ভাইরাস ইনফেকশনে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেও শরীর থেকে আপনা-আপনি প্লাটিলেট তৈরি হয়। প্রথম কয়েক দিন কম প্লাটিলেট নিয়েও রোগী যদি টিকে থাকেন, পরবর্তী সময়ে দেহ থেকেই আপনা-আপনি প্লাটিলেট তৈরি হয় এবং ঘাটতি পূরণ হয়ে রোগী সুস্থ হয়ে যান।

যদি কারও প্লাটিলেট ৫০ হাজারের মধ্যে থাকে, তাহলে টেনশনের কোনো কারণ নেই। তবে ৫০ হাজারের নিচে প্লাটিলেট নেমে গেলে তখন হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে। প্লাটিলেট ২০ হাজারে নেমে এলেও কিন্তু রক্তক্ষরণ হয় না। ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে প্রয়োজনে প্লাটিলেট দেওয়া যায়।

যদি দেখা যায়, কেউ রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হয়েছেন, দ্রুত প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাচ্ছে, চামড়ায় রক্তবিন্দুর পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে, মাসিকের সময় বেশি রক্ত যাচ্ছে, দাঁতের গোড়া বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ছে, খাদ্যনালি থেকে রক্ত পড়ছে, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্লাড ট্রান্সফিউশন বা রক্তদানের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

 

যখন জটিলতা বাড়ে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, জ্বরের সঙ্গে প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের কম এবং রক্তে হেমাটোক্রিট (রক্তের পরিমাণের সঙ্গে লোহিত কণিকার পরিমাণের অনুপাত) ২০ শতাংশ কমবেশি হলে সেটা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার। এর সঙ্গে রক্তবমি, রক্তনালি লিকের (প্লাজমা লিকেজ) উপসর্গ যেমন- প্রোটিন কমা, পেটে বা ফুসফুসে পানি জমার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

ডেঙ্গু থেকে মারাত্মক সমস্যা হলো প্লাজমা লিকেজ, ডিআইসি, মায়োকার্ডিটিস, রক্তপাত, তরল জমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, কোনো অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি আলাদা সেরোটাইপ রয়েছে। কেউ একবার একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে তার আরও তিনবার ডেঙ্গু হতে পারে এবং পরবর্তী পর্যায়ে তীব্র ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হতে পারে। তাই বলা হয়, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

 

কিছু সাধারণ তথ্য

শুধু এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। সাধারণ অ্যানোফিলিস কিউলেক্স মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় না।

মানুষ থেকে মানুষে বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ডেঙ্গু ছড়ায় না। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের মশা এড়িয়ে চলা উচিত।

ডেঙ্গু ভাইরাস মানবদেহে স্থায়ীভাবে থাকে না। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে একসময় ওই ভাইরাস শরীর থেকে পুরোপুরি বের হয়ে যায়। কিন্তু ভাইরাসের জন্য যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় সেটা চিরকাল সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়।

অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতোই এই জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এই জ্বরের কোনো ভ্যাকসিন বা টিকাও নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা এমনিতেই সেরে যায়।

 

সেরে ওঠার পর করণীয়

ডেঙ্গুর পর শারীরিক মানসিক অবস্থা ফিরে পেতে মাসখানিক সময় লাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে সময়কে Convalescent period বলে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, শ্বাসরোগ বা অন্য কোনো রোগীর স্বাভাবিক হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। সময় কিছু করণীয় হলো-

হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় রোগীর যদি কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা জ্বর না থাকে, কিছু ভাইটাল সাইন- বিশেষ করে তার যদি রক্তচাপ ঠিক থাকে, ইউরিন আউটপুট ঠিক থাকে, রোগী যদি মুখে খেতে পারেন তখন হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিতে পারেন।

ডেঙ্গু হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পায়। এজন্য ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পরও দুর্বল, অবসাদগ্রস্ততা, মাথা ঘোরা, চলাফেরায় কিছু ভারসাম্যহীনতা থাকে; গভীর নিবিড়ভাবে কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন না। এজন্য কমপক্ষে কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকবেন। এরপর ধীরে ধীরে নিয়মিত কাজে যোগ দিন।

এই সময় কোনো ধরনের ব্যায়াম করবেন না। যাদের জিমে যাওয়ার অভ্যাস আছে, তারা ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর কিছুদিন জিম থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে দু-এক মাস অপেক্ষা করুন।

রাতে নিবিড় নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এই সময় পারতপক্ষে রাত ১০টার পর জেগে থাকবেন না। রাতের বেলায় ক্ষতিপূরণকারী কিছু হরমোন যেমন- ACTH, steroid, growth hormone ইত্যাদি শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। ভালো ঘুমানোয় ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যায়।

দিনের বেলায়, বিশেষ করে দুপুরে খাওয়ার পর ঘণ্টাখানেক ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

সময় কোনো মানসিক চাপ নেবেন না। মেজাজ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। মন সতেজ ফুরফুরে রাখুন।

জ্বর চলে যাওয়ার পরের সময়টাকেক্রিটিক্যাল ফেজবা ঝুঁকিপূর্ণ সময় ধরা হয়। ডেঙ্গুতে মারাত্মক সমস্যা হওয়ার সময় আসলে এটাই। সময় প্লাটিলেট কাউন্ট কমে যেতে পারে, রক্তচাপ কমে যেতে পারে, রক্তক্ষরণসহ আরও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সময় সচেতন থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কিছুদিন পর রক্তের সিবিসি করে হিমোগ্লোবিন, প্লাটিলেট দেখান চিকিৎসককে। ছাড়া ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেশার ঠিক আছে কি না, রোগী পানিশূন্যতায় ভুগছে কি না, রক্তের হেমাটোক্রিট কেমন ইত্যাদিও দেখা উচিত। অন্যান্য রোগ থাকলে সেগুলোরও যথাযথ চিকিৎসা নিন।

 

মেহেদী আল মাহমুদ

অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে
ছবি এআই

ডায়াবেটিক রোগী অসুস্থ হলে (যেমন- জ্বর, সর্দি, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই এ সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ঝুঁকিসমূহ

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া)
হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া)
ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস
পানিশূন্যতা

অসুস্থতার দিনের করণীয়

১। ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধসমূহ চালিয়ে যাওয়া 
বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ইনসুলিন এবং সালফোনাইলইউরিয়া গ্লিটিনাইড গ্রুপের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এসব ওষুধের মাত্রা কমিয়ে গ্রহণ করতে হবে এবং মেটফরমিন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

২। ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা
চার ঘণ্টা পরপর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি <৪ মিলিমোল/লি অথবা কিটোনের উপস্থিতি থাকে, তবে ২ ঘণ্টা পরপর বা আরও ঘন ঘন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে

৩। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীর পরিচর্যাকারীর অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে এবং রোগীকে কখন চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে সে ব্যাপারে জানতে হবে।

৪। পর্যাপ্ত পানি ও শর্করা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে
পানিশূন্যতা রোধে প্রতি ঘণ্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে কারণ এটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করে এবং রোগীকে শক্তি জোগায়।

৫। অসুস্থতা দিনের ব্যবস্থাপনার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীকে এবং রোগীর সহায়তাকারীকে অবশ্যই অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে হবে এবং ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৬। মূল অসুস্থতার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৭। হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি ৬ ঘণ্টার বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা ভালো না হয়।
২ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন এবং ভালো না হন।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১৫ মিলি মোল/লির বেশি হয়।
চিকিৎসার পরও প্রস্রাবের সঙ্গে কিটোন যাওয়া বন্ধ না হয়।
কিটোএসিডোসিস, অতিরিক্ত দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন), পেটে ব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে।
রোগী যদি শিশু বা বৃদ্ধ হয়
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
ডায়াবেটিসের সঙ্গে আরও অন্য অসুখ (Co-morbidity) থাকে।
যদি অসুস্থতার কারণে রোগী খাবার ও পানি গ্রহণে অসমর্থ হন।

লেখিকা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, চেম্বার: আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, মিরপুর-৬, ঢাকা

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি
ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে।

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণ চেনানো এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝানো।
ব্রেইন টিউমার একটি জটিল স্নায়বিক রোগ, যা মস্তিষ্কের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে সৃষ্টি হয়। এটি নারী, পুরুষ ও শিশু–সব বয়সের মানুষের হতে পারে। দেরিতে শনাক্ত হলে এটি প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

ব্রেইন টিউমার কী?

ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে। এটি দুই ধরনের হতে পারে–
বিনাইন: এটি ক্যানসার নয়, তবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে
ম্যালিগন্যান্ট: এটি ক্যানসারজনিত এবং দ্রুত ছড়াতে পারে

পরিসংখ্যান 

বিশ্ব পরিসংখ্যান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্র টিউমার রোগী শনাক্ত হয়। গড়ে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৪-৬ জন আক্রান্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ ক্যানসার রোগ ব্রেইন টিউমার।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান: বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট জাতীয় রেজিস্ট্রি সীমিত হলেও হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়। বছরে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার সার্জারি করা হয়। অনেক টিউমার দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।
পুরুষ ও নারীর আক্রান্তের হার প্রায় সমান, তবে নারীদের মধ্যে মেনিনজিওমা বেশি। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে গ্লিওব্লাস্টোমা বেশি। শিশুদের মধ্যে মেডুলোব্লাস্টোমা বেশি দেখা যায়।

 

কারণ 

ব্রেইন টিউমারের নির্দিষ্ট কারণ নেই, তবে কিছু কাজ ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন–
বংশগত বা জেনেটিক সমস্যা
অতিরিক্ত রেডিয়েশন 
দীর্ঘদিন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
বয়স বৃদ্ধি (বিশেষ করে ৫০ বছরের পর ঝুঁকি বেশি)
কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

লক্ষণ

ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে বোঝা যায় না। টিউমারের অবস্থান ও আকারভেদে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো–
দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা (বিশেষ করে সকালে বেশি)
বমি বা বমি বমি ভাব
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা ডাবল দেখা
খিঁচুনি
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া
হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা
আচরণ ও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন
অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কানে শব্দ শোনা
মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া
হাত-পায়ের সমন্বয়হীনতা
এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকারভেদ 

গ্লিওমা: সবচেয়ে সাধারণ
মেনিনজিওমা: ধীরে বৃদ্ধি পায়
পিটুইটারি টিউমার: হরমোন সমস্যা সৃষ্টি করে
মেডুলোব্লাস্টোমা: শিশুদের বেশি হয়
অ্যাকোস্টিক নিউরোমা: শ্রবণশক্তিতে প্রভাব ফেলে

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে হতে পারে–
স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি
স্মৃতিভ্রংশ 
অন্ধত্ব বা শ্রবণশক্তি হ্রাস
পক্ষাঘাত 
মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন
মৃত্যুঝুঁকি

রোগ নির্ণয় 

আধুনিক চিকিৎসায় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। যেসব পরীক্ষা করা হয়, তার মধ্যে আছে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, বায়োপসি বা টিস্যু পরীক্ষা এবং স্নায়বিক পরীক্ষা

সচেতনতা ও করণীয়

দীর্ঘদিন মাথাব্যথা অবহেলা করা যাবে না
খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
শিশুদের আচরণগত পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে
সময়মতো এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করানো জরুরি
ভুয়া চিকিৎসা বা গুজব এড়িয়ে চলতে হবে

পরিশেষে বলতে চাই, ব্রেইন টিউমার একটি জটিল রোগ। তবে সময়মতো শনাক্ত করলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নেন। তাই পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ মস্তিষ্কই সুস্থ জীবনের ভিত্তি। সচেতন থাকুন, সময়মতো চিকিৎসা নিন।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

গান শোনা ও জাদুঘর পরিদর্শন বয়স বাড়ার গতি কমাতে পারে: গবেষণা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
গান শোনা ও জাদুঘর পরিদর্শন বয়স বাড়ার গতি কমাতে পারে: গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গান শোনা, জাদুঘর পরিদর্শন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মানুষের বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে। 

গবেষকদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ শারীরিক ব্যায়ামের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধার মতোই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • গান শোনা এবং জাদুঘরে ঘুরে আসা ব্যায়ামের মতো কাজ করে এবং বয়স বাড়ার গতি ৪ শতাংশ কমাতে পারে
  • গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা এসব কার্যক্রমে বেশি অংশগ্রহণ করেন তাদের স্বাস্থ্যকর বয়স বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, তাদের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে ধীর। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রভাব প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

গবেষণাটিতে হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে শিল্প ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় অংশগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

আলোচিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ছিল গান শোনা, কনসার্টে অংশ নেওয়া, জাদুঘর পরিদর্শন, প্রদর্শনী দেখা এবং অন্যান্য সৃজনশীল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা এসব কর্মকাণ্ডে বেশি ঘন ঘন অংশ নেন, তাদের মধ্যে বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ কম দেখা যায়। 

গবেষকদের ধারণা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাগুলো মানসিক উদ্দীপনা, সামাজিক যোগাযোগ এবং আবেগীয় সুস্থতা বাড়ায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিল্পকলার সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে এবং জ্ঞান সম্পর্কিত কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যায়াম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় মূল্যবান সংযোজন হতে পারে। 

তাদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চা এমন কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা দিতে পারে, যা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

এই গবেষণা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, আবেগীয় ও সামাজিক সুস্থতাকে সমর্থনকারী কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর অর্থবহ প্রভাব ফেলতে পারে। 

গবেষকরা আশা করছেন, এই ফলাফল মানুষকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধার আরও বেশি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবে।

তা সে প্রিয় কোনো অ্যালবাম শোনাই হোক, কোনো লাইভ পারফরম্যান্সে অংশ নেওয়া হোক কিংবা জাদুঘর ঘুরে দেখা হোক- শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সময় কাটানো স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়া এবং জীবনমান উন্নত করার একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

যখন ছিঁড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
যখন ছিঁড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট
পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া একটি আঘাতজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।

লিগামেন্ট হলো শরীরের জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি হাঁটু, গোড়ালি, কাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে থাকে। বিশেষ করে হাঁটুতে সামনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, পেছনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, মধ্যবর্তী পার্শ্বীয় লিগামেন্ট ও পার্শ্বীয় লিগামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ছিঁড়ে গেলে জয়েন্ট দুর্বল ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ

লিগামেন্ট ইনজুরির পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে–
◉ খেলাধুলাজনিত আঘাত: ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল বা দৌড়ানোর সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন, লাফ বা মোচড় লাগলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে।
◉ দুর্ঘটনা: সড়ক দুর্ঘটনা, উচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়া বা ভারী আঘাত সরাসরি লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
◉ ভুলভাবে পা ফেলা: অসমতল বা পিচ্ছিল জায়গায় পা পড়লে বা হঠাৎ পা বেঁকে গেলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
◉ অতিরিক্ত শরীরের ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে যায়।
◉ বয়সজনিত পরিবর্তন: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে যায়।
◉ পূর্বের আঘাত: একবার লিগামেন্টে আঘাত লাগলে একই জায়গায় পুনরায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

লক্ষণ

সাধারণ লক্ষণ: ◉ হঠাৎ তীব্র ব্যথা ◉ পা ফুলে যাওয়া ◉ হাঁটতে কষ্ট হওয়া ◉ জয়েন্টে অস্থিরতা অনুভূত হওয়া ◉ নড়াচড়ার সময় ‘পপ’ শব্দ হওয়া ◉ পায়ের শক্তি কমে যাওয়া।
গুরুতর লক্ষণ: ◉ হাঁটতে সম্পূর্ণ অক্ষমতা ◉ পা ভাঁজ করতে সমস্যা ◉ অতিরিক্ত ফোলা ও নীলচে দাগ ◉ জয়েন্ট ঢিলা বা আলগা অনুভূতি।

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন–
◉ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ◉ জয়েন্ট অস্থিতিশীলতা ◉ হাঁটু বা গোড়ালির ক্ষয়জনিত রোগ ◉ পেশির দুর্বলতা ◉ চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ◉ পুনরায় আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি।


রোগ নির্ণয়

লিগামেন্ট ইনজুরি নিশ্চিত করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন–
◉ শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তার জয়েন্টের নড়াচড়া, ব্যথা ও স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করেন।
◉ এক্স-রে পরীক্ষা: হাড় ভাঙা বা অন্য কোনো হাড়ের সমস্যা আছে কি না দেখা হয়।
◉ চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রায়ণ: লিগামেন্টের ক্ষতির সঠিক অবস্থা জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
◉ আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা: কিছু ক্ষেত্রে নরম টিস্যুর ক্ষতি নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়।

 

ঘরোয়া পরামর্শ 

বিশ্রাম: আঘাতপ্রাপ্ত পা সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
বরফ সেক: প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বরফ ব্যবহার করলে ফোলা ও ব্যথা কমে।
চাপ দেওয়া: ইলাস্টিক কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া যায়।
উঁচু করে রাখা: পা হৃৎপিণ্ডের চেয়ে উঁচুতে রাখলে ফোলা কমে।
ভারী কাজ: ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম।
খাবার: এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা করতে হবে।
ব্যথার ওষুধ: ব্যথার ওষুধ নিজে থেকে না খাওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

◉ খেলাধুলার আগে ভালোভাবে শরীর গরম করা
◉ সঠিক জুতা ব্যবহার করা
◉ নিয়মিত পেশি শক্ত করার ব্যায়াম করা
◉ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
◉ ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এড়িয়ে চলা
◉ পূর্বে আঘাত থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা

পরিশেষে বলতে চাই, পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া একটি আঘাতজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। হালকা ইনজুরিতে বিশ্রাম ও প্রাথমিক যত্ন যথেষ্ট হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এর কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।

আমাদের শরীরের ধমনীগুলোতে রক্তপ্রবাহের চাপ যখন স্বাভাবিকের চেয়ে সব সময় বেশি থাকে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। এই সমস্যায় হৃৎপিণ্ডকে শরীরজুড়ে রক্ত পাম্প করতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
সাধারণত রক্তচাপ পরিমাপ করা হয় মিলিমিটার অব মার্কারি (mm Hg) এককে। যদি কোনো ব্যক্তির রক্তচাপের রিডিং ১৩০/৮০ mm Hg বা তার বেশি হয়, তবে ধরে নেওয়া হয় তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।

রক্তচাপের বিভিন্ন ধাপ

আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন রক্তচাপকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করেছে:
◉ স্বাভাবিক: রক্তচাপ যখন ১২০/৮০ mm Hg-এর নিচে থাকে।
◉ উচ্চতর: ওপরের নম্বরটি (সিস্টোলিক) ১২০ থেকে ১২৯ mm Hg এবং নিচের নম্বরটি (ডায়াস্টোলিক) ৮০-এর নিচে থাকে।
◉ প্রথম ধাপের উচ্চ রক্তচাপ: ওপরের নম্বরটি ১৩০ থেকে ১৩৯ mm Hg অথবা নিচের নম্বরটি ৮০ থেকে ৮৯ mm Hg হয়।
◉ দ্বিতীয় ধাপের উচ্চ রক্তচাপ (Stage 2): ওপরের নম্বরটি ১৪০ mm Hg বা তার বেশি অথবা নিচের নম্বরটি ৯০ mm Hg বা তার বেশি হয়।

জরুরি সতর্কবার্তা: রক্তচাপ যদি ১৮০/১২০ mm Hg-এর বেশি হয়ে যায়, তবে তাকে ‘হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস’ বা জরুরি চিকিৎসা অবস্থা বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

কেন একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়?

উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এর কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। বহু বছর ধরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই এই রোগ শরীরে বাসা বেঁধে থাকতে পারে। তবে মাত্রাতিরিক্ত রক্তচাপ বাড়লে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
◉ তীব্র মাথাব্যথা
◉ শ্বাসকষ্ট
◉ নাক দিয়ে রক্ত পড়া
তবে এই লক্ষণগুলো সুনির্দিষ্ট নয় এবং সাধারণত রোগটি যখন মারাত্মক বা জীবনঘাতী পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই কেবল এগুলো দেখা দেয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ এর ঝুঁকি বাড়ে।

 

উচ্চ রক্তচাপের কারণ ও প্রকারভেদ

হৃৎপিণ্ড কী পরিমাণ রক্ত পাম্প করছে এবং ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচলে কতটা বাধা পাচ্ছে–এর ওপর রক্তচাপ নির্ভর করে। ধমনী যত সরু হবে, রক্তচাপ তত বাড়বে। উচ্চ রক্তচাপ প্রধানত দুই প্রকার:
১. প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন: বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে শরীরে গড়ে ওঠে। ধমনীতে চর্বি বা প্লাক জমা হওয়া (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস) এর অন্যতম কারণ।
২. সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন: এটি শরীরের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগের কারণে হঠাৎ দেখা দেয় এবং এর তীব্রতা বেশি হয়। এর অন্যতম কারণগুলো হলো কিডনির রোগ এবং থাইরয়েডের সমস্যা, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার বা জন্মগত হৃদরোগ এবং কিছু ওষুধ (যেমন- ঠাণ্ডার ওষুধ, ব্যথানাশক, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল)। এ ছাড়া মাদক গ্রহণ (যেমন- কোকেন বা অ্যামফিটামিন), অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মধ্যে দম আটকে যাওয়া) থেকেও সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন হতে পারে।
(নোট: চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে সাময়িক ভয়ের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াকে ‘হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন’ বলে।)

ঝুঁকিতে আছেন কারা

◉ বয়স ও বংশগত কারণ: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের এবং ৬৫ বছরের পর নারীদের এই রোগ বেশি হয়। এ ছাড়া পরিবারে বাবা-মা বা ভাই-বোনের এই রোগ থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
◉ ওজন বৃদ্ধি ও অলস জীবনযাপন: অতিরিক্ত ওজনের কারণে রক্তনালি ও কিডনিতে পরিবর্তন আসে, যা রক্তচাপ বাড়ায়। শারীরিক পরিশ্রম না করলে ওজন ও হৃৎস্পন্দন দুই-ই বাড়ে।
◉ তামাক ও ধূমপান: ধূমপান বা ভেপিং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়ায় এবং ধমনী শক্ত করে ফেলে।
◉ খাদ্যাভ্যাস: খাবারে অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম) খেলে শরীরে জলীয় অংশ জমে রক্তচাপ বাড়ে। আবার খাবারে পটাশিয়ামের অভাব হলেও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
◉ অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অ্যালকোহল: মানসিক চাপ সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায় এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
◉ শিশুদের ঝুঁকি: ইদানীং অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অলসতার কারণে শিশুদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিচ্ছে।

বিপজ্জনক জটিলতাসমূহ

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে–
◉ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক: ধমনী শক্ত ও মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে এই ঝুঁকি বাড়ে।
◉ অ্যানিউরিজম: রক্তনালি দুর্বল হয়ে ফুলে যেতে পারে, যা ফেটে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
◉ হার্ট ফেইলিওর: হৃৎপিণ্ডের দেয়াল মোটা হয়ে এক সময় তা শরীরকে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
◉ কিডনি ও চোখের ক্ষতি: কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে এবং চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমতে পারে।
◉ মেটাবলিক সিনড্রোম ও ডিমেনশিয়া: এটি ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা ‘ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া’ হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

১৮ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেকের অন্তত প্রতি দুই বছরে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ব্যায়াম, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সুস্থ থাকা সম্ভব। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে।