ডেঙ্গু জ্বর যেন না হয়, সে জন্য সাবধান থাকতে হবে আগে থেকেই। তবে যদি জ্বর হয়েই যায়, তাহলে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। চলুন জেনে নিই ডেঙ্গু রোগীর খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত। মায়ো ক্লিনিক অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব
পানি ও তরলজাতীয় খাবার
যেহেতু এই অসুখে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়; তাই এ সময় শরীরে প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, একজন ডেঙ্গু রোগীর দৈনিক ৩ লিটার বা ১২ গ্লাস পানির প্রয়োজন। পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের রস যেমন- আম, মাল্টা, লেবু, বেদানা বা আনার, আপেল, আনারস দেওয়া যেতে পারে।
শর্করা ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য
ক্ষুধামান্দ্য হলেও রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন- নরম ভাত, ডাল, ডিম, মাছ, মাংস খেতে হবে। তবে যেহেতু এ সময় অনেকের বদহজম বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে, তাই তারা ডিমের কুসুমের অংশটি বাদ দিতে পারেন।
পাতলা ঝোল
কোনোভাবেই এ সময় অতিরিক্ত তেল, মসলা দিয়ে রান্না করা খাবার বা বাইরের জাংক ফুড খাওয়া যাবে না। মাছ বা মাংসের ভুনা না খেয়ে পাতলা ঝোল করে খেতে হবে।
স্যুপ
মসলা দিয়ে রান্না করা রেড মিটের চেয়ে চিকেনের ঝোল বা স্যুপ বেশি উপকারী। টমেটো স্যুপ, চিকেন স্যুপ, ভেজিটেবল স্যুপ, কর্ন স্যুপ খেলে অনেক সময় অরুচি কেটে যায়। আবার শরীরে পানির চাহিদাও পূরণ হয়।
এ ছাড়া নিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। এ সময় রোগীর শারীরিক দুর্বলতা থাকে। উপসর্গের ৭ থেকে ১০ দিন ভারী কোনো কাজ, মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবে না। রোগী স্বাভাবিক হাঁটা-চলা, দৈনন্দিন কাজ করতে পারবেন। চাকরিজীবী হলে ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
রক্তের প্লাটিলেট বাড়ায় যে খাবারগুলো
পেঁপে: এই সবজি প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে। এমনকি পেঁপে পাতার রস খেলেও অনেক সময় দ্রুত প্লাটিলেট বাড়ে। তবে গর্ভবতী ও শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা এটি দিতে নিষেধ করেন। তা ছাড়া এ বিষয়ে অনেক মতবিরোধ রয়েছে।
বেদানা: বেদানায় আছে ভিটামিনস ও মিনারেলস। শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে এই ফলটি বেশ উপকারী। আয়রনের খুব ভালো উৎস এই ফল। প্লাটিলেটের সংখ্যা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে বেদানা।
ব্রকলি: ব্রকলি এমন একটি সবজি, যা রক্তের প্লাটিলেট বাড়ায় খুব দ্রুত। তবে কখনোই বেশি মসলা দিয়ে রান্না করা উচিত নয়। এতে খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। হালকা স্টিম করে খাওয়া ভালো। এখন আমাদের দেশেই এই সবজির চাষ হচ্ছে।
মেহেদী আল মাহমুদ


