ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের গোপন সভা, গ্রেপ্তার ২
Nagad desktop

মানসিক চাপ কমানোর কিছু কার্যকরী উপায়

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:২৯ পিএম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:৩২ পিএম
মানসিক চাপ কমানোর কিছু কার্যকরী উপায়
মানসিক চাপ হলো এক ধরনের মানসিক পরিস্থিতি যেখানে ব্যক্তির চাহিদা ও ক্ষমতার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস


মানসিক চাপ, বর্তমান সময়ে গুরুত্ব না দেওয়া সবচেয়ে ভয়ংকর রোগগুলোর একটি। মানসিক চাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ হতে পারে যে, জীবননাশের চিন্তাভাবনাও করে থাকেন অনেকেই। চলুন জেনে নিই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায়। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গবেষণামতে, ২০১৯ সালে প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন মানসিক রোগে ভুগছে। ২০২০ সাল থেকে কোভিড-১৯ সমস্যার কারণে এই সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০২৩ সালের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপে ভুগছে। এদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা অন্যান্য মানসিক চাপজনিত রোগে আক্রান্ত।
শুধুই কি প্রাপ্তবয়স্করাই? না, এই তালিকায় রয়েছে কিশোর-কিশোরীরাও। বিএমজি সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে জানা যায়, বাংলাদেশের স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশের মাঝেই মানসিক চাপ সংক্রান্ত লক্ষণ দেখা গেছে। আর মানসিক চাপের উপসর্গ মিলেছে ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। 


মানসিক চাপ কী?
মানসিক চাপ হলো এক ধরনের মানসিক পরিস্থিতি যেখানে ব্যক্তির চাহিদা ও ক্ষমতার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সাধারণ অর্থে বলা যায়, আমরা যখন কোনো কাজ করতে যাই, তখন সেটার পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে যখন করতে না পারি তখন মানসিকভাবে চাপ অনুভব করি।
মানসিক চাপের কারণে একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে করে সে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। মানসিক চাপ একেকজনের জন্য একেক রকম হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ব্যক্তি তার চাকরি হারানোর কারণে মানসিক চাপের শিকার হতে পারেন। এক্ষেত্রে তার মধ্যে অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং হতাশার মতো অনুভূতির ছাপ লক্ষণীয় হবে। অন্যদিকে, একজন মা তার সন্তানের অসুস্থতার কারণে মানসিক চাপের শিকার হতে পারে। এই চাপের ফলে সে নিরাশ, ভীত এবং হতাশ বোধ করতে পারে।
এক্ষেত্রে দেখা যায় একেকজনের পরিস্থিতি অনুযায়ী মানসিক চাপের লক্ষণগুলোয় ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। তবে সবার প্রথমেই যেটা বুঝতে হবে তা হলো মানসিক চাপের কারণ। এবার সেটাই জেনে নেওয়া যাক।


মানসিক চাপের কারণ
এই পর্যায়ে জানব ঠিক কী কী কারণে একজন মানুষ মানসিক চাপে ভুগতে পারে। উল্লেখ্য যে, সবার জন্য সবগুলো কারণ একত্রে পরিলক্ষিত হবে বিষয়টা এরকম না। এক্ষেত্রে কারও কম-বেশি হতে পারে। সাধারণত, সব মানসিক চাপ মূলত দুটি কারণে হয়ে থাকে। ১) অভ্যন্তরীণ কারণ ও ২) বাহ্যিক কারণ। সে কারণগুলোর বিস্তারিত জেনে নিন।


অভ্যন্তরীণ কারণ
দুশ্চিন্তা থেকে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
হীনম্মন্যতা বা নিজেকে ছোট করে দেখার জন্য হতাশা সৃষ্টি হয়, যা মানসিক চাপের কারণ।
বিষণ্নতা মনকে খারাপ করে ফেলে, যা মানসিক চাপ বাড়ায়।
অন্যান্য শারীরিক কারণ, যেমন- মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধা হ্রাস, ওজন হ্রাস-বৃদ্ধি ইত্যাদি।


বাহ্যিক কারণ
পারিবারিক সম্পর্কের মন্দ অবস্থা ও কলহ।
কর্মক্ষেত্র বা অতিরিক্ত কাজের চাপ।
বেকারত্বের দুশ্চিন্তা।
অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা।
সম্পর্কজনিত চাপ (বিচ্ছিন্ন, সম্পর্কের অবনতি, ঝগড়া)।


মানসিক চাপের লক্ষণ
মানসিক চাপ কমানোর উপায় সম্পর্কে জানার আগে এর লক্ষণগুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে। এজন্য আমরা তিনটি মাধ্যম লক্ষ করতে পারি। এগুলো হলো- শারীরিক লক্ষণ, মানসিক লক্ষণ ও আচরণগত লক্ষণ। একটু বিস্তারিত জানা যাক।
শারীরিক লক্ষণ: যখন মানসিক চাপ অনুভব করবেন তখন বিভিন্ন লক্ষণ পরিলক্ষিত হতে পারে। এর মধ্যে আছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুমের অসুবিধা, বমি বমি ভাব, বদহজম হওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া অথবা কমে যাওয়া, নিজের মধ্যে অস্বস্তিবোধ করা এবং অসুস্থতায় ভোগা।
মানসিক লক্ষণ: মানসিক চাপ যখন তীব্র হয় তখন সাধারণত এই বিষয়গুলো ঘটতে পারে। যেমন- উদ্বেগ, ভয়, বিরক্তি ভাব, অল্পতেই রাগ, হতাশা, নিঃসঙ্গতা অনুভব, অসহায় বোধ করা, অনিশ্চয়তায় ভোগা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসুবিধা হওয়া।
আচরণগত লক্ষণ: প্রায় দেখা যায়, মানসিক চাপে আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ এমন হয়ে থাকে। যেমন ধূমপান করা, অ্যালকোহল বা ড্রাগ ব্যবহার, অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা খাওয়া কমিয়ে দেওয়া, রাতে ঘুম না হওয়া, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা সমাজ থেকে নিজেকে আড়াল করা। 
তাছাড়া ব্যক্তির স্বভাব অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই এই লক্ষণগুলোর বাইরেও কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় কিংবা লক্ষণগুলো অল্প কিংবা বেশি পরিলক্ষিত হতে পারে।


মানসিক চাপ কমানোর কার্যকরী উপায়
এই লক্ষণ যদি কারও মধ্যে থাকে কিংবা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কেউ যায়, সেক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে পদক্ষেপ নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আসুন তবে জেনে নিই মানসিক চাপ কমানোর উপায় সম্পর্কে।


ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করা
আমরা যার যার ধর্ম অনুসরণ করতে পারি। যিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা যাকে আমরা নির্দ্বিধায় নিজের মনের সব কথা বলতে পারি। ধর্মের প্রতি বিশ্বাসের দিক থেকে আমরা প্রার্থনার মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার কথা সৃষ্টিকর্তাকে জানানোর মাধ্যমে নিজের ভেতর প্রশান্তি নিয়ে আসতে পারি। যে সমস্যাগুলোর জন্য মানসিক চাপ অনুভব হচ্ছে, প্রার্থনার মাধ্যমে সেগুলো থেকে মুক্তি চাইতে পারি।


কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিন, হাঁটতে বেরিয়ে পড়ুন
অতিরিক্ত কাজের চাপে যখন অবসাদ চলে আসে, মানসিক চাপ অনুভব হয় তখন কিছু সময়ের জন্য সবকিছু থেকে বিরতি নিন। এক্ষেত্রে হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। ড. মনিক টেলো বলেন, ‘যদি খুব বেশি চাপ অনুভব করেন তবে প্রকৃতির কাছে চলে যান।’ তিনি আরও বলেন, দ্রুত হাঁটা কিংবা একটু বাইরে যাওয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করা দ্রুত চাপ কমাতে সক্ষম।


রিল্যাক্সিং ব্রেথ ‘৪-৭-৮’ মেথড অনুসরণ করুন
৪-৭-৮ মেথড কিংবা রিল্যাক্সিং ব্রেথ পদ্ধতি অনুসরণ করে দ্রুত ঘুমানো ও মানসিক চাপ থেকে অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি পাওয়া যায়। ড. অ্যান্ড্রু ওলসন ২০১২ সালে তার বই ‘দ্য ওয়ান মিনিট মেড’-এ এই পদ্ধতিটি প্রকাশ করেন।
যেভাবে করবেন: আরামদায়ক অবস্থান নিন। পিঠ সোজা করে চেয়ারে বসুন বা বিছানায় শুয়ে পড়ুন। এবার আপনার জিভের ডগা ওপরের ঠোঁটের ঠিক পেছনে রাখুন। নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ডের জন্য গভীর শ্বাস নিন। তারপর ৭ সেকেন্ডের জন্য শ্বাস ধরে রাখুন। মুখ দিয়ে ৮ সেকেন্ডের জন্য ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এই চক্রটি চারবার পুনরাবৃত্তি করুন।


পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটান
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে হিউম্যান বডিতে কর্টিসোল নামক হরমোন নিৎসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পোষা প্রাণীর মধ্যে কুকুর ও বিড়ালের সঙ্গে থাকলে মানুষের একাকিত্ব ও অবসাদ কমে বলে ধারণা করা হয়। এক্ষেত্রে যদি আপনার নিজস্ব পোষাপ্রাণী হয় তবে খুব ভালো, তবে যদি না থাকে তবে আশপাশের প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের খাওয়ানোর মাধ্যমে মানসিক চাপ কমবে।


ডিজিটাল ডিভাইস থেকে বিরতি নিন
আধুনিক সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসে হারিয়ে যাওয়াও ডিপ্রেশনের অন্যতম কারণ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ ও ভয়াবহ এলগরিদমের কারণে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। ফলে নিজের কাজের প্রতি মনোনিবেশ নষ্ট হয় আর মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়।


প্রিয় মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
মানসিক চাপ কমানোর উপায় হিসেবে প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো খুব কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেননা, বন্ধুত্ব ও পারিবারিক বন্ধন মানসিক চাপ কমায়। বিশ্বস্ত বন্ধু কিংবা আপন মানুষের সঙ্গে সমস্যার কথা খুলে বললে ধীরে ধীরে মাথা থেকে চাপ কমে আসে। নিজেকে খুব হাল্কা অনুভব করতে পারবেন। তাই আপনার প্রিয় মানুষদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরুন, তাদের শরণাপন্ন হোন।


ভ্রমণে বের হন
মানসিক চাপ কমানোর আরেকটি ভীষণ কার্যকরী উপায় হলো ভ্রমণ করা। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে আমাদের মন সতেজ থাকে, নতুন নতুন মানুষ বিষয় ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হলে আমরা দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে পারি।
যারা ভ্রমণপিপাসু, তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা থেকে মুক্ত। তাই আপনিও যদি মানসিক চাপ কমাতে চান তাহলে সারা দিনের কর্মব্যস্ততা, সাংসারিক কাজের মাঝেও কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য সময় বের করুন। যতটা সম্ভব প্রকৃতির কাছাকাছি ঘুরতে যান।


যোগব্যায়াম করুন
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা রক্ষার জন্য খুব প্রাচীন ও সর্বস্বীকৃত উপায় হলো ইয়োগা বা যোগব্যায়াম। কয়েক ধরনের যোগব্যায়াম রয়েছে। এগুলোর ভূমিকা ভিন্ন হলে তারা একত্রে আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।
যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখতে প্রাণায়াম, দুশ্চিন্তা দূর করতে ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মেডিটেশন, শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উত্তরাসন (Standing Forward Pose) করতে পারেন। যোগব্যায়াম করার সবচেয়ে উত্তম সময় হলো সূর্যাস্তের সময়। এ ছাড়া বিকেলে বা সন্ধ্যায়ও এটি করা যেতে পারে।


চুইংগাম চাবান
আপনি কাজের মধ্যে নানানভাবে অন্যমনষ্ক হয়ে যাচ্ছেন? মাথায় বিভিন্ন দুশ্চিন্তা ভর করে? এই সমস্যা এড়ানোর একটা উপায় হলো চুইংগাম চিবানো। চুইংগাম চিবানোর সময় আমাদের মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। ফলে কাজে অধিকতর মনোযোগ দেওয়া যায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। ফলে কোনো বিষয় সহজেই আমাদের ব্রেইনের শর্ট-টার্ম মেমোরিতে সংরক্ষিত হয়।


পছন্দের কাজ করুন
ব্যক্তিভেদে ছোট-বড় এমন অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো করলে ভেতর থেকে ভালো লাগা কাজ করে। এটা হতে পারে গান শোনা, বই পড়া, খেলাধুলা করা, মুভি দেখা, ঘুরতে যাওয়া। যখন এই কাজগুলোর মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই একটা ভালো লাগা কাজ করবে। তাই মানসিক চাপ অনুভব করলেই তাৎক্ষণিক ব্রেক নিন এবং পছন্দের কাজ শুরু করুন।

 

মেহেদী আল মাহমুদ

অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
অন্য কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে
ছবি এআই

ডায়াবেটিক রোগী অসুস্থ হলে (যেমন- জ্বর, সর্দি, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই এ সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

অসুস্থতার দিনের (Sick Day) ঝুঁকিসমূহ

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া)
হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া)
ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস
পানিশূন্যতা

অসুস্থতার দিনের করণীয়

১। ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধসমূহ চালিয়ে যাওয়া 
বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ইনসুলিন এবং সালফোনাইলইউরিয়া গ্লিটিনাইড গ্রুপের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এসব ওষুধের মাত্রা কমিয়ে গ্রহণ করতে হবে এবং মেটফরমিন নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

২। ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ও প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি পরীক্ষা
চার ঘণ্টা পরপর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি <৪ মিলিমোল/লি অথবা কিটোনের উপস্থিতি থাকে, তবে ২ ঘণ্টা পরপর বা আরও ঘন ঘন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে

৩। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীর পরিচর্যাকারীর অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে এবং রোগীকে কখন চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে সে ব্যাপারে জানতে হবে।

৪। পর্যাপ্ত পানি ও শর্করা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে
পানিশূন্যতা রোধে প্রতি ঘণ্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে কারণ এটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করে এবং রোগীকে শক্তি জোগায়।

৫। অসুস্থতা দিনের ব্যবস্থাপনার যথাযথ নির্দেশনা প্রদান ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে
ডায়াবেটিস রোগীকে এবং রোগীর সহায়তাকারীকে অবশ্যই অসুস্থতার দিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে হবে এবং ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৬। মূল অসুস্থতার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৭। হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি ৬ ঘণ্টার বেশি বমি বা পাতলা পায়খানা ভালো না হয়।
২ দিন ধরে অসুস্থ থাকেন এবং ভালো না হন।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১৫ মিলি মোল/লির বেশি হয়।
চিকিৎসার পরও প্রস্রাবের সঙ্গে কিটোন যাওয়া বন্ধ না হয়।
কিটোএসিডোসিস, অতিরিক্ত দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন), পেটে ব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে।
রোগী যদি শিশু বা বৃদ্ধ হয়
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
ডায়াবেটিসের সঙ্গে আরও অন্য অসুখ (Co-morbidity) থাকে।
যদি অসুস্থতার কারণে রোগী খাবার ও পানি গ্রহণে অসমর্থ হন।

লেখিকা: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, চেম্বার: আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, মিরপুর-৬, ঢাকা

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মাথাব্যথা থেকে মৃত্যুঝুঁকি ঠেকাতে সতর্কতা জরুরি
ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে।

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস প্রতি বছর ৮ জুন পালিত হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্রেইন টিউমার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণ চেনানো এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝানো।
ব্রেইন টিউমার একটি জটিল স্নায়বিক রোগ, যা মস্তিষ্কের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে সৃষ্টি হয়। এটি নারী, পুরুষ ও শিশু–সব বয়সের মানুষের হতে পারে। দেরিতে শনাক্ত হলে এটি প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

ব্রেইন টিউমার কী?

ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশপাশের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ ব্যাহত করে। এটি দুই ধরনের হতে পারে–
বিনাইন: এটি ক্যানসার নয়, তবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে
ম্যালিগন্যান্ট: এটি ক্যানসারজনিত এবং দ্রুত ছড়াতে পারে

পরিসংখ্যান 

বিশ্ব পরিসংখ্যান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্র টিউমার রোগী শনাক্ত হয়। গড়ে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৪-৬ জন আক্রান্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ ক্যানসার রোগ ব্রেইন টিউমার।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান: বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট জাতীয় রেজিস্ট্রি সীমিত হলেও হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়। বছরে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার সার্জারি করা হয়। অনেক টিউমার দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।
পুরুষ ও নারীর আক্রান্তের হার প্রায় সমান, তবে নারীদের মধ্যে মেনিনজিওমা বেশি। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে গ্লিওব্লাস্টোমা বেশি। শিশুদের মধ্যে মেডুলোব্লাস্টোমা বেশি দেখা যায়।

 

কারণ 

ব্রেইন টিউমারের নির্দিষ্ট কারণ নেই, তবে কিছু কাজ ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন–
বংশগত বা জেনেটিক সমস্যা
অতিরিক্ত রেডিয়েশন 
দীর্ঘদিন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
বয়স বৃদ্ধি (বিশেষ করে ৫০ বছরের পর ঝুঁকি বেশি)
কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

লক্ষণ

ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে বোঝা যায় না। টিউমারের অবস্থান ও আকারভেদে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো–
দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা (বিশেষ করে সকালে বেশি)
বমি বা বমি বমি ভাব
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা ডাবল দেখা
খিঁচুনি
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া
হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা
আচরণ ও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন
অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কানে শব্দ শোনা
মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া
হাত-পায়ের সমন্বয়হীনতা
এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকারভেদ 

গ্লিওমা: সবচেয়ে সাধারণ
মেনিনজিওমা: ধীরে বৃদ্ধি পায়
পিটুইটারি টিউমার: হরমোন সমস্যা সৃষ্টি করে
মেডুলোব্লাস্টোমা: শিশুদের বেশি হয়
অ্যাকোস্টিক নিউরোমা: শ্রবণশক্তিতে প্রভাব ফেলে

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে হতে পারে–
স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি
স্মৃতিভ্রংশ 
অন্ধত্ব বা শ্রবণশক্তি হ্রাস
পক্ষাঘাত 
মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন
মৃত্যুঝুঁকি

রোগ নির্ণয় 

আধুনিক চিকিৎসায় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। যেসব পরীক্ষা করা হয়, তার মধ্যে আছে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, বায়োপসি বা টিস্যু পরীক্ষা এবং স্নায়বিক পরীক্ষা

সচেতনতা ও করণীয়

দীর্ঘদিন মাথাব্যথা অবহেলা করা যাবে না
খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে
শিশুদের আচরণগত পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে
সময়মতো এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করানো জরুরি
ভুয়া চিকিৎসা বা গুজব এড়িয়ে চলতে হবে

পরিশেষে বলতে চাই, ব্রেইন টিউমার একটি জটিল রোগ। তবে সময়মতো শনাক্ত করলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নেন। তাই পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ মস্তিষ্কই সুস্থ জীবনের ভিত্তি। সচেতন থাকুন, সময়মতো চিকিৎসা নিন।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

গান শোনা ও জাদুঘর পরিদর্শন বয়স বাড়ার গতি কমাতে পারে: গবেষণা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
গান শোনা ও জাদুঘর পরিদর্শন বয়স বাড়ার গতি কমাতে পারে: গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গান শোনা, জাদুঘর পরিদর্শন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মানুষের বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে। 

গবেষকদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ শারীরিক ব্যায়ামের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধার মতোই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • গান শোনা এবং জাদুঘরে ঘুরে আসা ব্যায়ামের মতো কাজ করে এবং বয়স বাড়ার গতি ৪ শতাংশ কমাতে পারে
  • গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা এসব কার্যক্রমে বেশি অংশগ্রহণ করেন তাদের স্বাস্থ্যকর বয়স বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, তাদের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে ধীর। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রভাব প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

গবেষণাটিতে হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে শিল্প ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় অংশগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

আলোচিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ছিল গান শোনা, কনসার্টে অংশ নেওয়া, জাদুঘর পরিদর্শন, প্রদর্শনী দেখা এবং অন্যান্য সৃজনশীল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা এসব কর্মকাণ্ডে বেশি ঘন ঘন অংশ নেন, তাদের মধ্যে বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ কম দেখা যায়। 

গবেষকদের ধারণা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাগুলো মানসিক উদ্দীপনা, সামাজিক যোগাযোগ এবং আবেগীয় সুস্থতা বাড়ায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিল্পকলার সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে এবং জ্ঞান সম্পর্কিত কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যায়াম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় মূল্যবান সংযোজন হতে পারে। 

তাদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চা এমন কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা দিতে পারে, যা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

এই গবেষণা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, আবেগীয় ও সামাজিক সুস্থতাকে সমর্থনকারী কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর অর্থবহ প্রভাব ফেলতে পারে। 

গবেষকরা আশা করছেন, এই ফলাফল মানুষকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধার আরও বেশি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবে।

তা সে প্রিয় কোনো অ্যালবাম শোনাই হোক, কোনো লাইভ পারফরম্যান্সে অংশ নেওয়া হোক কিংবা জাদুঘর ঘুরে দেখা হোক- শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সময় কাটানো স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়া এবং জীবনমান উন্নত করার একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

যখন ছিঁড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
যখন ছিঁড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট
পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া একটি আঘাতজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।

লিগামেন্ট হলো শরীরের জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি হাঁটু, গোড়ালি, কাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে থাকে। বিশেষ করে হাঁটুতে সামনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, পেছনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, মধ্যবর্তী পার্শ্বীয় লিগামেন্ট ও পার্শ্বীয় লিগামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ছিঁড়ে গেলে জয়েন্ট দুর্বল ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ

লিগামেন্ট ইনজুরির পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে–
◉ খেলাধুলাজনিত আঘাত: ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল বা দৌড়ানোর সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন, লাফ বা মোচড় লাগলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে।
◉ দুর্ঘটনা: সড়ক দুর্ঘটনা, উচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়া বা ভারী আঘাত সরাসরি লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
◉ ভুলভাবে পা ফেলা: অসমতল বা পিচ্ছিল জায়গায় পা পড়লে বা হঠাৎ পা বেঁকে গেলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
◉ অতিরিক্ত শরীরের ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে যায়।
◉ বয়সজনিত পরিবর্তন: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে যায়।
◉ পূর্বের আঘাত: একবার লিগামেন্টে আঘাত লাগলে একই জায়গায় পুনরায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

লক্ষণ

সাধারণ লক্ষণ: ◉ হঠাৎ তীব্র ব্যথা ◉ পা ফুলে যাওয়া ◉ হাঁটতে কষ্ট হওয়া ◉ জয়েন্টে অস্থিরতা অনুভূত হওয়া ◉ নড়াচড়ার সময় ‘পপ’ শব্দ হওয়া ◉ পায়ের শক্তি কমে যাওয়া।
গুরুতর লক্ষণ: ◉ হাঁটতে সম্পূর্ণ অক্ষমতা ◉ পা ভাঁজ করতে সমস্যা ◉ অতিরিক্ত ফোলা ও নীলচে দাগ ◉ জয়েন্ট ঢিলা বা আলগা অনুভূতি।

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন–
◉ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ◉ জয়েন্ট অস্থিতিশীলতা ◉ হাঁটু বা গোড়ালির ক্ষয়জনিত রোগ ◉ পেশির দুর্বলতা ◉ চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ◉ পুনরায় আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি।


রোগ নির্ণয়

লিগামেন্ট ইনজুরি নিশ্চিত করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন–
◉ শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তার জয়েন্টের নড়াচড়া, ব্যথা ও স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করেন।
◉ এক্স-রে পরীক্ষা: হাড় ভাঙা বা অন্য কোনো হাড়ের সমস্যা আছে কি না দেখা হয়।
◉ চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রায়ণ: লিগামেন্টের ক্ষতির সঠিক অবস্থা জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
◉ আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা: কিছু ক্ষেত্রে নরম টিস্যুর ক্ষতি নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়।

 

ঘরোয়া পরামর্শ 

বিশ্রাম: আঘাতপ্রাপ্ত পা সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
বরফ সেক: প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বরফ ব্যবহার করলে ফোলা ও ব্যথা কমে।
চাপ দেওয়া: ইলাস্টিক কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া যায়।
উঁচু করে রাখা: পা হৃৎপিণ্ডের চেয়ে উঁচুতে রাখলে ফোলা কমে।
ভারী কাজ: ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম।
খাবার: এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা করতে হবে।
ব্যথার ওষুধ: ব্যথার ওষুধ নিজে থেকে না খাওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

◉ খেলাধুলার আগে ভালোভাবে শরীর গরম করা
◉ সঠিক জুতা ব্যবহার করা
◉ নিয়মিত পেশি শক্ত করার ব্যায়াম করা
◉ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
◉ ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এড়িয়ে চলা
◉ পূর্বে আঘাত থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা

পরিশেষে বলতে চাই, পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া একটি আঘাতজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। হালকা ইনজুরিতে বিশ্রাম ও প্রাথমিক যত্ন যথেষ্ট হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।

লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এর কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।

আমাদের শরীরের ধমনীগুলোতে রক্তপ্রবাহের চাপ যখন স্বাভাবিকের চেয়ে সব সময় বেশি থাকে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। এই সমস্যায় হৃৎপিণ্ডকে শরীরজুড়ে রক্ত পাম্প করতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
সাধারণত রক্তচাপ পরিমাপ করা হয় মিলিমিটার অব মার্কারি (mm Hg) এককে। যদি কোনো ব্যক্তির রক্তচাপের রিডিং ১৩০/৮০ mm Hg বা তার বেশি হয়, তবে ধরে নেওয়া হয় তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।

রক্তচাপের বিভিন্ন ধাপ

আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন রক্তচাপকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করেছে:
◉ স্বাভাবিক: রক্তচাপ যখন ১২০/৮০ mm Hg-এর নিচে থাকে।
◉ উচ্চতর: ওপরের নম্বরটি (সিস্টোলিক) ১২০ থেকে ১২৯ mm Hg এবং নিচের নম্বরটি (ডায়াস্টোলিক) ৮০-এর নিচে থাকে।
◉ প্রথম ধাপের উচ্চ রক্তচাপ: ওপরের নম্বরটি ১৩০ থেকে ১৩৯ mm Hg অথবা নিচের নম্বরটি ৮০ থেকে ৮৯ mm Hg হয়।
◉ দ্বিতীয় ধাপের উচ্চ রক্তচাপ (Stage 2): ওপরের নম্বরটি ১৪০ mm Hg বা তার বেশি অথবা নিচের নম্বরটি ৯০ mm Hg বা তার বেশি হয়।

জরুরি সতর্কবার্তা: রক্তচাপ যদি ১৮০/১২০ mm Hg-এর বেশি হয়ে যায়, তবে তাকে ‘হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস’ বা জরুরি চিকিৎসা অবস্থা বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

কেন একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়?

উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এর কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। বহু বছর ধরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই এই রোগ শরীরে বাসা বেঁধে থাকতে পারে। তবে মাত্রাতিরিক্ত রক্তচাপ বাড়লে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
◉ তীব্র মাথাব্যথা
◉ শ্বাসকষ্ট
◉ নাক দিয়ে রক্ত পড়া
তবে এই লক্ষণগুলো সুনির্দিষ্ট নয় এবং সাধারণত রোগটি যখন মারাত্মক বা জীবনঘাতী পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই কেবল এগুলো দেখা দেয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ এর ঝুঁকি বাড়ে।

 

উচ্চ রক্তচাপের কারণ ও প্রকারভেদ

হৃৎপিণ্ড কী পরিমাণ রক্ত পাম্প করছে এবং ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচলে কতটা বাধা পাচ্ছে–এর ওপর রক্তচাপ নির্ভর করে। ধমনী যত সরু হবে, রক্তচাপ তত বাড়বে। উচ্চ রক্তচাপ প্রধানত দুই প্রকার:
১. প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন: বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে শরীরে গড়ে ওঠে। ধমনীতে চর্বি বা প্লাক জমা হওয়া (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস) এর অন্যতম কারণ।
২. সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন: এটি শরীরের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগের কারণে হঠাৎ দেখা দেয় এবং এর তীব্রতা বেশি হয়। এর অন্যতম কারণগুলো হলো কিডনির রোগ এবং থাইরয়েডের সমস্যা, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার বা জন্মগত হৃদরোগ এবং কিছু ওষুধ (যেমন- ঠাণ্ডার ওষুধ, ব্যথানাশক, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল)। এ ছাড়া মাদক গ্রহণ (যেমন- কোকেন বা অ্যামফিটামিন), অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মধ্যে দম আটকে যাওয়া) থেকেও সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন হতে পারে।
(নোট: চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে সাময়িক ভয়ের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াকে ‘হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন’ বলে।)

ঝুঁকিতে আছেন কারা

◉ বয়স ও বংশগত কারণ: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের এবং ৬৫ বছরের পর নারীদের এই রোগ বেশি হয়। এ ছাড়া পরিবারে বাবা-মা বা ভাই-বোনের এই রোগ থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
◉ ওজন বৃদ্ধি ও অলস জীবনযাপন: অতিরিক্ত ওজনের কারণে রক্তনালি ও কিডনিতে পরিবর্তন আসে, যা রক্তচাপ বাড়ায়। শারীরিক পরিশ্রম না করলে ওজন ও হৃৎস্পন্দন দুই-ই বাড়ে।
◉ তামাক ও ধূমপান: ধূমপান বা ভেপিং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়ায় এবং ধমনী শক্ত করে ফেলে।
◉ খাদ্যাভ্যাস: খাবারে অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম) খেলে শরীরে জলীয় অংশ জমে রক্তচাপ বাড়ে। আবার খাবারে পটাশিয়ামের অভাব হলেও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
◉ অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অ্যালকোহল: মানসিক চাপ সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায় এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
◉ শিশুদের ঝুঁকি: ইদানীং অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অলসতার কারণে শিশুদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিচ্ছে।

বিপজ্জনক জটিলতাসমূহ

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে–
◉ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক: ধমনী শক্ত ও মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে এই ঝুঁকি বাড়ে।
◉ অ্যানিউরিজম: রক্তনালি দুর্বল হয়ে ফুলে যেতে পারে, যা ফেটে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
◉ হার্ট ফেইলিওর: হৃৎপিণ্ডের দেয়াল মোটা হয়ে এক সময় তা শরীরকে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
◉ কিডনি ও চোখের ক্ষতি: কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে এবং চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমতে পারে।
◉ মেটাবলিক সিনড্রোম ও ডিমেনশিয়া: এটি ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা ‘ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া’ হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

১৮ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেকের অন্তত প্রতি দুই বছরে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ব্যায়াম, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সুস্থ থাকা সম্ভব। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে।