নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গান শোনা, জাদুঘর পরিদর্শন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মানুষের বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষকদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ শারীরিক ব্যায়ামের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধার মতোই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- গান শোনা এবং জাদুঘরে ঘুরে আসা ব্যায়ামের মতো কাজ করে এবং বয়স বাড়ার গতি ৪ শতাংশ কমাতে পারে
- গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা এসব কার্যক্রমে বেশি অংশগ্রহণ করেন তাদের স্বাস্থ্যকর বয়স বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, তাদের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে ধীর। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রভাব প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষণাটিতে হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে শিল্প ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় অংশগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
আলোচিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ছিল গান শোনা, কনসার্টে অংশ নেওয়া, জাদুঘর পরিদর্শন, প্রদর্শনী দেখা এবং অন্যান্য সৃজনশীল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
ফলাফলে দেখা যায়, যারা এসব কর্মকাণ্ডে বেশি ঘন ঘন অংশ নেন, তাদের মধ্যে বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ কম দেখা যায়।
গবেষকদের ধারণা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাগুলো মানসিক উদ্দীপনা, সামাজিক যোগাযোগ এবং আবেগীয় সুস্থতা বাড়ায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিল্পকলার সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে এবং জ্ঞান সম্পর্কিত কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যায়াম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় মূল্যবান সংযোজন হতে পারে।
তাদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চা এমন কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা দিতে পারে, যা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।
এই গবেষণা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, আবেগীয় ও সামাজিক সুস্থতাকে সমর্থনকারী কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর অর্থবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকরা আশা করছেন, এই ফলাফল মানুষকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধার আরও বেশি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবে।
তা সে প্রিয় কোনো অ্যালবাম শোনাই হোক, কোনো লাইভ পারফরম্যান্সে অংশ নেওয়া হোক কিংবা জাদুঘর ঘুরে দেখা হোক- শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সময় কাটানো স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়া এবং জীবনমান উন্নত করার একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/